চাকরির বেতন


মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকের বেতন কত, কী যোগ্যতা লাগে


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:১১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকের বেতন কত, কী যোগ্যতা লাগে

বেসরকারি স্কুল বা মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র । ফাইল ছবি


বাংলাদেশে একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হতে গেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। দেশের প্রতিটি জেলায় হাতে গোনা কয়েকটি সরকারি স্কুল ছাড়া অধিকাংশই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এসব বেসরকারি স্কুলের একটি অংশ এমপিওভুক্ত হলেও সরকারি ও এমপিওভুক্ত স্কুলের শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ–সুবিধার মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে।

 

এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা সহকারী শিক্ষকদের মতোই হতে হয়। যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হবে বিএড ডিগ্রি।

 

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করতে হলে প্রথমে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কমপক্ষে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে মোট ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

 

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ষষ্ঠ গ্রেডে বেতন পান। বর্তমানে তাদের মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা। এর পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়া যায়।

 

সরকারি শিক্ষকদের অবসরের পর পূর্ণাঙ্গ অবসর ভাতা ও মাসিক পেনশন সুবিধাও রয়েছে। এছাড়া সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও ভাতা পাওয়া যায়।

 

বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা সাধারণত সপ্তম গ্রেডে বেতন পান। এ ক্ষেত্রে তাদের মূল বেতন ২৯ হাজার টাকা। তবে সরকারি শিক্ষকদের মতো সুযোগ–সুবিধা তারা পান না। বাড়িভাড়া ভাতা মাত্র ১ হাজার টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা।

 

সরকারি শিক্ষকরা অবসরের পর পেনশন সুবিধা পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তা পান না। দীর্ঘ ৩০ বছরের চাকরির শেষে প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা হওয়া একটি বড় অঙ্কের টাকা এককালীন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আর কোনো মাসিক সুবিধা থাকে না।

 

সরকারি শিক্ষকরা ঈদ বা পূজার সময় মূল বেতনের ১০০ শতাংশ বোনাস পান। অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষকরা পান মাত্র মূল বেতনের ২৫ শতাংশ। স্কুলের কর্মচারীরা পান বেতনের ৫০ শতাংশ বোনাস।

 

প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতনের বাইরে কিছু বৈধ আয়ও থাকে। বিভিন্ন সভা–সেমিনারে অংশগ্রহণের সম্মানী ছাড়াও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে স্কুলের আয়ের একটি অংশ থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়।

 

বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)–এর মাধ্যমে। বিসিএস নন-ক্যাডার থেকেও শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগের দায়িত্বে রয়েছে এনটিআরসিএ (NTRCA)। স্নাতক ডিগ্রিধারীরা শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হন। তবে নিবন্ধন পরীক্ষার প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়।

 

বেসরকারি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বিএড ডিগ্রি সম্পন্ন করার আগে মাসিক বেতন থাকে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে নিজের এলাকায় চাকরি না হলে দূরে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা অনেক শিক্ষকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

 

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে মর্যাদা পান। কিন্তু বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি পদমর্যাদা নির্ধারিত নেই।

 

তবে এত বৈষম্য থাকা সত্ত্বেও সম্মানজনক পেশা হিসেবে অনেক মেধাবী তরুণ এই পেশায় আসেন। শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ–সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত

চাকরির বেতনবিদ্যালয়প্রধান শিক্ষক

জনপ্রিয়


চাকরির বেতন থেকে আরও পড়ুন

কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি