জাতীয়


‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ক্ষমতাপ্রাপ্তদের মানসকিতা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী’


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২১ এপ্রিল ২০২২, ০২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ক্ষমতাপ্রাপ্তদের মানসকিতা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী’

মার্শাল ল' জারি করে ,সংবিধান লংঘন করে অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা আসলে এ দেশের উন্নতি চায়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী এবং জাতির পিতাকে সপরিবারে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে তাদের মন মানসকিতা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী। যে কারণে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।


বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৪টি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব হাতে নিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি করে ৫৯৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়। তার কারণ যুদ্ধ চলাকালে এসব শিল্পের অধিকাংশ মালিক ছিল পাকিস্তানিরা। এগুলো পরিত্যক্ত রেখে তারা এ দেশ থেকে চলে যায়। ফলে এগুলো সম্পূর্ণ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম ছিল। সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনি এ দেশটাকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেন। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এই স্বীকৃতি দেয় তার একমাত্র কারণ হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মত দক্ষ এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব বাংলাদেশের দায়িত্বে ছিল।


শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর এসব অগ্রযাত্রা থমকে যায়। সংবিধান লঙ্ঘন করে, মার্শাল ল' জারি করে অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা আসলে এ দেশের উন্নতি চায়নি। বরং স্বাধীনতাবিরোধী এবং জাতির পিতাকে সপরিবারে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে তাদের মন মানসকিতা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী। যে কারণে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।


শিল্পের প্রসারে বর্তমান সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী আমরা পরিবেশবান্ধব শিল্পের প্রসার ঘটাচ্ছি। পরিবেশ রক্ষা করা এখন সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ সব থেকে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিল্প কলকারখানা থেকে শুরু করে যত প্রতিষ্ঠান আমরা তৈরি করছি, সেটা পরিবেশবান্ধব যাতে হয় তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। এমনকি গার্মেন্টস শিল্পের যেগুলো গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি সারা পৃথিবীর ১০টির মধ্যে ৭টি এখন বাংলাদেশে। পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রতি লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছি।


তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ঘোড়াশাল এবং পলাশ দুটি পুরাতন ইউরিয়া সার কারখানার স্থলে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর, শক্তি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব নতুন সার কারখানা 'ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা' স্থাপনের উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করি। নতুন এই সার কারখানায় দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, বার্ষিক প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে ১০ শতাংশ ইউরিয়া উৎপাদন বাড়ানো হবে। এই প্রকল্পটিতে জাপান ও চীন সরকার ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে।


করোনাভাইরাস সারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার সৃষ্টি করেছে। খাদ্যের অভাব সৃষ্টি করেছে। তবে বাংলাদেশে আমাদের নেওয়া উদ্যোগ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ ও নগদ অর্থ সহায়তার ফলে আমরা অর্থনীতির গতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। করোনার সময়ও আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি অর্জন ধরে রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে—বলেন প্রধানমন্ত্রী।


জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

‘শেখ হাসিনার প্রতিও আমাদের ইনসাফ থাকবে’, বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে যেকোনো বিচার প্রক্রিয়া আইনগত কাঠামোর মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে।

‘ইন্টারনেট চালু করবা না’, পলককে নির্দেশ দিয়েছিলেন সালমান এফ রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার বিষয়ে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি নির্দেশনার তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।

স্কুল ফিডিং প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া সেই ‘কালো মানিক’ এবার কুরবানির হাটে, দাম কত?

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের খামারি সোহাগ মৃধার বাড়িতে এখন যেন মানুষের ঢল নেমেছে। কারণ সেখানে রয়েছে বিশাল আকৃতির আলোচিত ষাঁড় ‘কালো মানিক’, যা একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই গরুটিকেই কুরবানির বাজারে তুলতে যাচ্ছেন খামারি।