জাতীয়
‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ক্ষমতাপ্রাপ্তদের মানসকিতা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী’
মার্শাল ল' জারি করে ,সংবিধান লংঘন করে অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা আসলে এ দেশের উন্নতি চায়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী এবং জাতির পিতাকে সপরিবারে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে তাদের মন মানসকিতা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী। যে কারণে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৪টি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব হাতে নিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি করে ৫৯৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়। তার কারণ যুদ্ধ চলাকালে এসব শিল্পের অধিকাংশ মালিক ছিল পাকিস্তানিরা। এগুলো পরিত্যক্ত রেখে তারা এ দেশ থেকে চলে যায়। ফলে এগুলো সম্পূর্ণ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম ছিল। সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনি এ দেশটাকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেন। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এই স্বীকৃতি দেয় তার একমাত্র কারণ হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মত দক্ষ এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব বাংলাদেশের দায়িত্বে ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর এসব অগ্রযাত্রা থমকে যায়। সংবিধান লঙ্ঘন করে, মার্শাল ল' জারি করে অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা আসলে এ দেশের উন্নতি চায়নি। বরং স্বাধীনতাবিরোধী এবং জাতির পিতাকে সপরিবারে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে তাদের মন মানসকিতা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী। যে কারণে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।
শিল্পের প্রসারে বর্তমান সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী আমরা পরিবেশবান্ধব শিল্পের প্রসার ঘটাচ্ছি। পরিবেশ রক্ষা করা এখন সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ সব থেকে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিল্প কলকারখানা থেকে শুরু করে যত প্রতিষ্ঠান আমরা তৈরি করছি, সেটা পরিবেশবান্ধব যাতে হয় তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। এমনকি গার্মেন্টস শিল্পের যেগুলো গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি সারা পৃথিবীর ১০টির মধ্যে ৭টি এখন বাংলাদেশে। পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রতি লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছি।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ঘোড়াশাল এবং পলাশ দুটি পুরাতন ইউরিয়া সার কারখানার স্থলে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর, শক্তি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব নতুন সার কারখানা 'ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা' স্থাপনের উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করি। নতুন এই সার কারখানায় দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, বার্ষিক প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে ১০ শতাংশ ইউরিয়া উৎপাদন বাড়ানো হবে। এই প্রকল্পটিতে জাপান ও চীন সরকার ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে।
করোনাভাইরাস সারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার সৃষ্টি করেছে। খাদ্যের অভাব সৃষ্টি করেছে। তবে বাংলাদেশে আমাদের নেওয়া উদ্যোগ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ ও নগদ অর্থ সহায়তার ফলে আমরা অর্থনীতির গতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। করোনার সময়ও আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি অর্জন ধরে রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে—বলেন প্রধানমন্ত্রী।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
হামে আরও ৬ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৮১৮
দেশে হামের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

ড. ইউনূসকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে তিনি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তসলিমা ফিরতে চাইলে আবেদন করতে হবে: সরকার
ভারতে অবস্থানরত নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে তিনি যদি বাংলাদেশে ফিরতে চান, তাহলে প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে পারবেন। এরপর সরকার আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-জকসু ও ছাত্রশক্তির সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন ও শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

.jpg)


