জাতীয়


আদি নগরী পুরান ঢাকা নিয়ে পুনঃউন্নয়নের পরিকল্পনা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৩ মার্চ ২০২২, ০১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার

আদি নগরী পুরান ঢাকা নিয়ে পুনঃউন্নয়নের পরিকল্পনা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: ৪০০ বছরের ইতিহাস বুকে ধারণ করে মাথাউচু করে দাঁড়িয়ে আছে রাজধানী ঢাকা। পুরোনো এই শহরের সবচেয়ে আদি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পুরান ঢাকা। বর্তমানে এটি অপরিকল্পিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবেও পরিচিত। সংকীর্ণ রাস্তাঘাট, ঘনবসতিসহ নানান সমস্যা বিদ্যমান এখানে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে।


তবে ইতিহাস পর্যবেক্ষণে জানা যায়, পুরান ঢাকা একসময় অত্যন্ত সুপরিকল্পিত, সুন্দর ও ছিমছাম একটি শহর ছিল। কিন্তু মুঘল শাসকদের পতনের পর থেকে পুরান ঢাকা'র ভাগ্যে বিপর্যয় নেমে আসে। ব্রিটিশ শাসকরা এ শহরের কিছু দেখভাল করলেও বর্তমান সময়ের প্রশাসনযন্ত্রের অবহেলায় পুরান ঢাকা ধীরে ধীরে তার শ্রী হারিয়ে ফেলছে।


পুরান ঢাকাকে তার আগের রূপে ফিরিয়ে নিতে ব্লকভিত্তিক পুনঃউন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এটি বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে পুরান ঢাকা। বসবাসের আধুনিক ঠিকানা পাবেন বাসিন্দারা। তবে এজন্য সেখানকার বাসিন্দাদের মতামতকে গুরুত্ব দেবে সরকার। 


যদিও এ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা বলছেন, বাসযোগ্যতার সূচকে পুরান ঢাকা অনেক নিম্ন অবস্থানে। এর প্রধান কারণ অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও অধিক জনঘনত্ব। তবে নাগরিক সুবিধা ও পরিষেবা নিশ্চিত করে পুরান ঢাকার পুনঃউন্নয়ন সম্ভব। তার আগে এর সুফল সম্পর্কে মানুষকে অবগত করতে হবে। অর্জন করতে হবে আস্থা। এছাড়া যথাসময়ে প্রকল্প কাজ শেষ এবং আনুপাতিক হারে উন্নয়ন করা সম্পত্তির ভাগের নিশ্চয়তা দিতে হবে। প্রকল্প চলাকালীন জমি মালিকদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে ক্ষতিপূরণের।


পুনঃউন্নয়নের পরিকল্পনায় যা রয়েছেঃ


ঢাকাকে বসবাসযোগ্য করতে প্রথমে (১৯৯৫-২০১৫) একটি বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) নেওয়া হয়েছিল। ২০১০ সালের জুনে ড্যাপ গেজেট আকারে প্রকাশ হলেও তাতে নানা অসঙ্গতি দেখা দেয়। পরে ড্যাপ পর্যালোচনার জন্য সাত মন্ত্রীকে নিয়ে একটি ‘মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করে সরকার। তখন আবারও ড্যাপ সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে বাস্তবে রূপ পায়নি ওই পরিকল্পনা। পরে ২০১৫ সালের মার্চে আগের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন এবং স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে একটি জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত ড্যাপ (২০১৬-২০৩৫) প্রণয়নের কাজ শুরু করে রাজউক।


গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সচিবালয়ে ড্যাপ পর্যালোচনা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ড্যাপ চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। পরে তা অনুমোদন এবং মতামতের জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।


রাজউক চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) পুরান ঢাকা পুনঃউন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। চলতি মাসে ড্যাপ চূড়ান্ত বা গেজেট হওয়ার কথা। গেজেটের পরপরই পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণে পুনঃউন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, পুরান ঢাকার এক কাঠা-দুই কাঠা জমিতে অপরিকল্পতিভাবে বহুতল অসংখ্য ভবন গড়ে উঠছে। এমনও দেখা গেছে, এক দেওয়ালে দুই ভবন তৈরি করতে। ভেতরে আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা নেই। এমন ছোট জমিগুলো একত্র করে ব্লকভিত্তিক পুনঃউন্নয়ন করা হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে পুরান ঢাকার মানুষের মতামতকে।


রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, পুরান ঢাকার উন্নয়নে অবশ্যই ব্লকভিত্তিক পদ্ধতিতে আসতে হবে। বিশ্বের অনেক শহরে এমন নজির রয়েছে। আমরা সেজন্যই একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছি। ড্যাপ গেজেট হওয়ার পর প্রকল্প তৈরি ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হবে।


তিনি আরও বলেন, প্রকল্প এলাকার সীমানা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ভৌত ও আর্থ-সামাজিক জরিপ, পরিবেশ ও পরিবহনগত প্রভাব এবং সামাজিক প্রভাব সমীক্ষার সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি সম্পাদন করা হবে। এর আগে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, তিতাস, ডেসকোসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দফতর ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে শুরু করা হবে প্রকল্পের কাজ।


জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

শপথের প্রয়োজন নেই, ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

পানি সম্পদ মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন ও শপথ সম্পন্ন হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এ বিষয়ে আলাদা কোনো শপথের প্রয়োজন নেই; এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।

মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জনস্রোত

ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে সেখানে।

তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবস তারেক রহমানের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছালে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে বাণী প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।