জাতীয়
ড. ইউনূসের পক্ষে বিশ্বনেতাদের খোলা চিঠি স্বাধীন বিচারব্যবস্থার অবমাননা
ড. ইউনূস ইস্যুতে শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, খোলা চিঠিটি বাংলাদেশের স্বাধীন বিচারব্যবস্থার অবমাননা বলে মনে করে সরকার। চিঠিটিতে তথ্যগত সুস্পষ্ট ফাঁকফোঁকর রয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা বিচারাধীন একটি মামলার মেরিট এবং এর বিচারিক কার্যক্রমের ফলাফল সম্পর্কে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। সরকারের কাছে এটি বিস্ময়কর বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা বিচারাধীন মামলা স্থগিতের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। তারা ড. ইউনূস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য একটি বিকল্প প্রক্রিয়ার সুপারিশ করেছেন, যা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ দণ্ডবিধি এবং মানি লন্ডারিং বিরোধী আইন, ২০১২ সুনির্দিষ্ট বিধানের অধীনে এমন একটি মামলা দায়ের করেছে। গ্রামীণ টেলিকম লিমিটেডের শ্রমিক ও কর্মচারীদের কারণে লাভের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। দুদকের তদন্ত দল দেখতে পেয়েছে, গ্রামীণ টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে চুক্তি জাল করে অবৈধভাবে ২৫২ মিলিয়ন টাকা হস্তান্তর করেছেন।
আর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর, ঢাকা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠন না করা এবং সেখানে মুনাফার ৫ শতাংশ টাকা জমা না দেয়াসহ একাধিক অভিযোগের জন্য মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। এছাড়া কর ফাঁকির মামলায় ড. ইউনূস সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে হেরে যাওয়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে কোনো দুর্বলতা ও বেআইনি খুঁজে না পেয়ে আপিল বিভাগ আবেদনটি খারিজ করে দেন। যার ফলে ড. ইউনূস জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বকেয়া কর পরিশোধ করেন। তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে।
শ্রমিকদের ন্যায্য লাভ থেকে বঞ্চিত করার মামলায় ড. ইউনূস দুই দফায় সর্বোচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন। তার আইনজীবীদের শুনানি করে সর্বোচ্চ আদালত প্রথম মামলাটি সঠিকভাবে শুরু হয়েছে বলে রায় দেন। পাশাপাশি অন্যটিতে অভিযোগ গঠনকে আইনি, সঠিক ও সঠিক বলে ঘোষণা করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি দুঃখজনক যে, চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা সাব-জুডিস মামলাগুলো স্থগিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিচারবহির্ভূত কর্তৃত্ব প্রয়োগ করার জন্য অনুরোধ করেছেন। তারা ড. ইউনূস এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যালোচনার একটি বিকল্প প্রক্রিয়ার সুপারিশ করেছেন, যেটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইউনূস এবং তার সহযোগীদের আইনি পরিণতির মুখে আন্তর্জাতিক লবিংয়ের আশ্রয় নেয়া প্রথমবার নয়। গ্রামীণ ব্যাংক সার্ভিস রুলস, ১৯৯৩ অনুযায়ী নির্ধারিত অবসরের বয়সসীমা অতিক্রম করে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে চুক্তি বাতিল করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত ছিল তার। একটি সার্বভৌম দেশের নাগরিকের জন্য বারবার বহিরাগত হস্তক্ষেপ চাওয়াটা অগ্রহণযোগ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের কাছে এটি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, করপোরেট ও আয়কর ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর ধরে কর্মীদের বঞ্চিত করে ড. ইউনূস পাচারকৃত অর্থের একটি বড় অঙ্ক বিনিয়োগ করেছিলেন। নিপীড়ন বা হয়রানির অভিযোগগুলো এমন একটি প্যাটার্ন অনুসরণ করে, যা মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রকে একটি সমীচীন আবরণ হিসেবে ব্যবহারের শিকারের মানসিকতা থেকে উদ্ভূত বলে মনে হয়।
প্রসঙ্গত, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ১৬০ জনের বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি। এর মধ্যে আছেন শতাধিক নোবেল বিজয়ীও।
গত সোমবার (২৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোভিত্তিক জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান সিজিয়ন পিআর নিউজওয়্যারের ওয়েবসাইটে এই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। চিঠিদাতাদের মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, শিরিন এবাদি, আলগোর, তাওয়াক্কুল কারমান, নাদিয়া মুরাদ, মারিয়া রেসা, হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসসহ শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ১৪ ব্যক্তি রয়েছেন। আছেন জোসেফ স্টিগলিৎজসহ অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ৭ জন, রসায়নে নোবেল বিজয়ী ২৮ জন, চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল বিজয়ী ২৯ জন, পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ২২ জন এবং ওরহান পামুক, জে এম কোয়েৎসেসহ সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী ৪ জন।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, যুক্তরাজ্যের ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের স্যার রিচার্ড ব্রানসনসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও সামরিক ব্যক্তিরা রয়েছেন চিঠিদাতাদের তালিকায়।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
ফারাক্কা বাঁধে মরুকরণের ঝুঁকিতে ৭ কোটি মানুষ: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি
ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল চরম সংকটের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, দেশের প্রায় ২৪ থেকে ২৬টি জেলা এবং ৭ কোটি মানুষ বর্তমানে মরুভূমির মতো পরিস্থিতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

গুলিস্তানে সড়কের মাঝে দুই ট্রাফিক কনস্টেবলের হাতাহাতি, বরখাস্ত ২
রাজধানীর গুলিস্তানে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সড়কের মাঝখানে দুই ট্রাফিক কনস্টেবলের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মিরপুরে রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ
রাজধানীর মিরপুরে পপুলার মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নওগাঁয় বজ্রপাতে দাদা-নাতিসহ ৩ জনের মৃত্যু
নওগাঁর রাণীনগরে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দাদা-নাতিসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পারইল ও গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামের মাঠে এ ঘটনাগুলো ঘটে।

.jpg)






