জাতীয়
‘রিভেঞ্জ মার্ডার’ এর শিকার টিপু
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক মিল্কী হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে খুন করা হয়। ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয় এই হত্যাকাণ্ডের জন্য।
টিপু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ওমর ফারুক (৫২), আবু সালেহ শিকদার ওরফে শ্যুটার সালেহ (৩৮), মো. নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির (৩৮) এবং মো. মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশকে (৫১) গ্রেপ্তারের পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব কথা জানায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব)। রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযানে টিপুকে অনুসরণ করতে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল এবং হত্যার জন্য দেয়া ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
হত্যাকাণ্ডের মোটিভ:
র্যাবের এই কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানান, দীর্ঘদিন ধরে টিপু ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজের ভর্তি বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলমান ছিল। দ্বন্দ্ব-সংঘাতের জেরে ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই গুলশান শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে যবলীগ নেতা মিল্কীকে হত্যা করা হয়। মিল্কী হত্যার ৩ বছরের মধ্যে একই এলাকার বাসিন্দা রিজভি হাসান ওরফে বোচা বাবুকেও হত্যা করা হয়।
কমান্ডার খন্দাকার আল মঈন জানান, গ্রেপ্তাররা জিজ্ঞাসাবাদে জানায় মিল্কি হত্যাকাণ্ডের সাথে টিপুর সম্পৃক্ততা ছিল। এজন্য ফারুক ও পলাশসহ একটি পক্ষ মানববন্ধন, আলোচনা সভা, পোস্টার লাগানোসহ বিভন্ন কার্যক্রম চালায়। এছাড়া বাদীর মাধ্যমে চার্জশিটের নারাজি প্রদানেরও চেষ্টা চালায়। তারপরও মিল্কি হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে টিপু অব্যাহতি পায়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে গ্রেপ্তার ওমর ফারুক ও তার অন্যান্য সহযোগিরা স্বার্থগত দ্বন্দ্বের কারনে টিপুর অন্যতম সহযোগী রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবুকে হত্যা করে। বর্তমানে বাবু হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আছে।
গ্রেপ্তাররা জানায়, তাদের ধারণা টিপুর কারণেই রিজভী হাসান মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে স্থানান্তরিত হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার বাদী রিজভী হাসান বাবুর পিতা আবুল কালামের সঙ্গে গ্রেফতার ওমর ফারুক ও তার সহযোগীরা ৫০ লাখ টাকায় দফারফা করার চেষ্টা করে। কিন্তু টিপুর কারণে কালাম মিমাংসায় আসেনি।
এক পর্যায়ে কালামকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে ওমর ফারুকরা, কিন্তু জাহিদুল ইসলাম টিপুর সাথে চলাচল করার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে তারা যখন দেখল কালামের সাক্ষ্য গ্রহন শেষ হয়ে গেছে তখন তারা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করে যাতে মামলা পরিচালনা ধীরগতি করা যায়। তাদের ধারণা বাদী কালাম একা মামলাটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে না। এরই প্রেক্ষিতে প্রায় ৩ মাস আগে একটি মামলার সাক্ষ্য শেষে আদালত চত্ত্বর এলাকায় হত্যাকাণ্ড ঘটানোর প্রাথমিক আলোনা করে ওমর ফারুকরা।
দুবাই বসে হত্যাকাণ্ডের সমন্বয় করে মুসা:
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সাক্ষী মো.মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশকে তারা অর্থের বিনিময়ে সাক্ষ্য দিতে বিরত থাকতে বলে। মোরশেদুল আলম রাজি না থাকা সত্ত্বেও টিপুর চাপে সে সাক্ষ্য দেয়। মোরশেদুল আলম পরবর্তীতে রিজভী হাসান হত্যাকাণ্ডের গ্রেফতার আসামিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টিপুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশ নেয়। মোরশেদুল আলম হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য ফারুক ও মুসাকে ফোনে কয়েকজন আন্ডার ওয়ার্ল্ড এর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। হত্যাকাণ্ডটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সমন্বয়ের জন্য মুসা গত ১২ মার্চ দুবাই যায়। সেখানেই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত সমন্বয় করা হয়।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডটি দেশে সংঘঠিত হলেও নিয়ন্ত্রণ করা হয় দুবাই থেকে। ঘটনার আগে দেশ থেকে নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির, মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশসহ আরও কয়েকজন টিপুর অবস্থান সম্পর্কে বেশ কয়েকদিন ধরে মুসার কাছে খবর দিত। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর মো. নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির আনুমানিক চারবার টিপুর অবস্থান সম্পর্কে মুসাকে জানায়। পরবর্তীতে টিপু গ্রান্ড সুলতান রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় কাইল্লা পলাশ তাকে নজরদারিতে রাখে এবং তার অবস্থান সম্পর্কে সে ফ্রিডম মানিক নামে আরেক জনকে জানায়। সেই তথ্য অনুযায়ী কিলার হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়।
১৫ লাখ টাকায় টিপুকে হত্যার চুক্তি হয়:
কমান্ডার খন্দাকার আল মঈন বলেন, জাহিদুল ইসলাম টিপুকে দুবাই বসে হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেন সুমন শিকদার ওরফে মুসা। টিপু হত্যাকণ্ডের ঠিক ১২ দিন আগে দুবাই চলে যান মুসা। দুবাই বসে হত্যার পুরো ছক কষে মুসা। টিপুকে হত্যায় চুক্তি হয় ১৫ লাখ টাকা। এই ১৫ লাখ টাকা কে কত দেবে তাও ভাগ করে দেন মুসা। ৯ লাখ টাকা দেন ওমর ফারুক। অবশিষ্ট ৬ লাখ টাকা দেন গ্রেফতার নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির, আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ ও মুসা। দুবাইয়ে যাওয়ার আগে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান মুসা, হুন্ডির মাধ্যমে আরও ৪ লাখ টাকা মুসাকে দেওয়া হয়। বাকি ৬ লাখ টাকা দেশে হস্তান্তর করার চুক্তি হয়। ৬ লাখের মধ্যে র্যাব গ্রেফতারের সময় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জব্দ করে।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় কিলার নাছিরকে ঘটনাস্থলের পাশে সাদা শার্ট, জিন্স প্যান্ট ও কেডস পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনার পর সে তার মোবাইল ফ্লাশ করে বিক্রি করে দেয় ও সীমকার্ড ভেঙ্গে ফেলে। র্যাব পরবর্তীতে মোবাইলফোন ও সীমকার্ডটি উদ্ধার করে। এছাড়া ঘটনার আগেরদিন সে সীমান্তবর্তী চৌদ্দগ্রাম এলাকায় একদিন অবস্থান করেছিল। কাইল্লা পলাশ ঘটনার দিন টিপুকে নজরদারি ও আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে। শুটার সালেহ ঘটনার পরিকল্পনা ও অর্থ প্রদানের সঙ্গে জড়িত।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
শপথের প্রয়োজন নেই, ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি
পানি সম্পদ মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন ও শপথ সম্পন্ন হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এ বিষয়ে আলাদা কোনো শপথের প্রয়োজন নেই; এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।

মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জনস্রোত
ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে সেখানে।

তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবস তারেক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছালে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী
মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে বাণী প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
.jpg)
.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)