জাতীয়
নির্ধারিত সময়ে আগে শেষ হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল
মহামারী করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও দিন রাত মিলে কাজ করায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হবে নির্ধারিত সময়ের আগেই। নির্মাণ শুরুর দুই বছরে কাজ হওয়ার কথা ছিল ৩০ ভাগ, হয়েছে ৩৩ ভাগের বেশি। নির্মাণ কাজের এমন গতি চলতে থাকলে ২০২৩ সালের জুনের আগেই শেষ হবে এই প্রকল্প।
বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয় শাহজালাল বিমানবন্দরের এই সম্প্রসারণ প্রকল্প। তারও আগে ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক। সে সময় এর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে আরও ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে প্রকল্পের আকার দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকায়।
প্রকল্পটির নির্মাণব্যয়ের বড় অংশ আসছে জাপানের সহযোগিতা সংস্থা জাইকার কাছ থেকে। সংস্থাটি ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আর বাকি ৫ হাজার ২৫৮ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী জানান,‘এটা আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, সারা বিশ্ব যখন থমকে গেল, সব রকম যোগাযোগ ব্যবস্থাও একদম ডিসরাপ্টেড (বিঘ্নিত) ছিল,কোনো কাজ কোথাও হয়নি,তখনও আমাদের কাজ থেমে থাকেনি।বিশেষ করে বিদেশি যারা এ দেশে ছিল, তাদের মধ্যেও কেউ খুব একটা তখন থাকেনি। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের থার্ড টার্মিনালের কাজে যেসব জাপানি ও কোরিয়ান প্রকৌশলী কাজ করছিলেন, তারাও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চলে যাওয়ার। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছিলাম সব সুবিধা তাদের প্রোভাইড করব। কোয়ারেন্টিন ফ্যাসিলিটি, তাদের নিরাপত্তা আমরা প্রোভাইড করব বলে আশ্বস্ত করেছিলাম। মিটিংয়ের পর মিটিংয়ে বসেছি, যাতে কাজটা চলমান থাকে।’
তিনি জানান, বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ এক দিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। দুই বছরে ৩০ ভাগ কাজ হওয়ার লক্ষ্য থাকলেও এ পর্যন্ত হয়েছে ৩৩ ভাগ কাজ। অন্য মেগা প্রকল্পগুলোর তুলনায় এটা একটি অর্জন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টার্মিনালের ৩ হাজারের বেশি পিলার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে গত বছরই। এখন এগুলোর ওপর তৈরি হচ্ছে টার্মিনালের অবকাঠামো। আর এ কারণে বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়ক থেকেও দেখা যাচ্ছে প্রকল্পের অগ্রগতি।
তৃতীয় টার্মিনালের নকশা করেছেন প্রখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন। নকশা অনুযায়ী, টার্মিনালের মূল ভবনের আয়তন হবে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। জাপানি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিমুজি আর কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান স্যামসাং যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে, শাহজালালে বর্তমানে যে দুটি টার্মিনাল রয়েছে, তার যাত্রী ধারণক্ষমতা বছরে প্রায় ৭০ লাখ। তৃতীয় টার্মিনাল তৈরি হলে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটির কাছাকাছি।
তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ হলে এর অ্যাপ্রন বা পার্কিং এলাকায় একসঙ্গে রাখা যাবে ৩৭টি উড়োজাহাজ। ভেতরে যুক্ত হবে নতুন ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১১টি বডি স্ক্যানার আর ১৬টি লাগেজ বেল্ট। এ ছাড়া থাকবে স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা। এর পার্কিংয়ে একসঙ্গে রাখা যাবে ১ হাজার ২৩০টি গাড়ি।
তৃতীয় টার্মিনালে নির্মাণ করা হবে আমদানি ও রপ্তানির জন্য আলাদা কার্গো কমপ্লেক্স। থাকবে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার। এই টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করা থাকবে মেট্রোরেলও। আর বর্তমান দুই টার্মিনালের সঙ্গে সুড়ঙ্গপথে যুক্ত হবে তৃতীয় টার্মিনাল।
টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যক্ষম হলে শাহজালাল বিমানবন্দর ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে ।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
‘যে যত ট্রলই করেন না কেন, সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করতে পারবেন না’: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, তাঁকে নিয়ে যত ট্রল বা অপপ্রচারই হোক না কেন, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নের দায়িত্ব থেকে সরে আসবে না। তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করল, তারা কেউ পরীক্ষার্থী না। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননিসার মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখিনি আন্দোলন করতে। এইভাবে আন্দোলন করে মিসগাইডেড করে কী একটা হ্যাভক (বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি) সৃষ্টি করা হলো। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা এসেছি, এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যত ট্রলই করেন না কেন, যে যত অপবাদই দেন না কেন, সঠিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করতে পারবেন না।’

চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বিএনপি। এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতি ‘অর্ধকানা’ হলে আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না: শিক্ষামন্ত্রী
জাতি ‘অর্ধকানা’ হয়ে গেলে দেশের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

ডিউটি শেষে ঘুম, সকালে মিলল পুলিশ কর্মকর্তার লাশ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার ব্যারাকের নিজ কক্ষ থেকে উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হকের (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

.jpg)







