জাতীয়


দুবাইয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর শেল্টারে মুসা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০২ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার

দুবাইয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর শেল্টারে মুসা

রাজধানীর শাহজাহানপুরে গুলিতে নিহত মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুকে দুবাই বসে হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেন সুমন শিকদার ওরফে মুসা। 


টিপু হত্যাকণ্ডের ঠিক ১২ দিন আগে দুবাই চলে যান মুসা। দুবাই বসে হত্যার পুরো ছক কষেন তিনি। টিপুকে হত্যায় চুক্তি হয় ১৫ লাখ টাকা। এই ১৫ লাখ টাকা কে কত দেবে তাও ভাগ করে দেন মুসা। ৯ লাখ টাকা দেন ওমর ফারুক। অবশিষ্ট ৬ লাখ টাকা দেন গ্রেফতার নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির, আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ ও মুসা। 


র‍্যাব জানায়, দুবাইয়ে যাওয়ার আগে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান মুসা, হুন্ডির মাধ্যমে আরও ৪ লাখ টাকা মুসাকে দেওয়া হয়। বাকি ৬ লাখ টাকা দেশে হস্তান্তর করার চুক্তি হয়। ৬ লাখের মধ্যে র‍্যাব গ্রেফতারের সময় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জব্দ করে। দুবাই থাকা মুসা ২০১৬ সালে রিজভী হাসান হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটভুক্ত ৩ নম্বর আসামি। 


শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।


এর আগে রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৩ এর অভিযানে গত রাতে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর ও মিরপুর এলাকা থেকে ঘটনার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ওমর ফারুক (৫২) ও পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ (৩৮), মো. নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির (৩৮), এবং মো. মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশকে (৫১) গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয় নজরদারির কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, হত্যার কাজে দেয়া ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী। 


দুবাই বসে টিপু হত্যার পরিকল্পনা করেন মুসা: 


সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, জাহিদুল ইসলাম টিপুকে দুবাই বসে হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেন সুমন শিকদার ওরফে মুসা। টিপু হত্যাকণ্ডের ঠিক ১২ দিন আগে দুবাই চলে যান মুসা। দুবাই বসে হত্যার পুরো ছক কষে মুসা। টিপুকে হত্যায় চুক্তি হয় ১৫ লাখ টাকা। এই ১৫ লাখ টাকা কে কত দেবে তাও ভাগ করে দেন মুসা। ৯ লাখ টাকা দেন ওমর ফারুক। অবশিষ্ট ৬ লাখ টাকা দেন গ্রেফতার নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির, আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ ও মুসা। দুবাইয়ে যাওয়ার আগে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান মুসা, হুন্ডির মাধ্যমে আরও ৪ লাখ টাকা মুসাকে দেওয়া হয়। বাকি ৬ লাখ টাকা দেশে হস্তান্তর করার চুক্তি হয়। ৬ লাখের মধ্যে র‍্যাব গ্রেফতারের সময় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জব্দ করে। 


গ্রেফতারদের বরাতে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডটি দেশে সংঘটিত হলেও নিয়ন্ত্রণ করা হয় দুবাই থেকে। দেশে থাকা নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির, মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশসহ আরও কয়েকজন জাহিদুল ইসলাম টিপুর অবস্থান সম্পর্কে বেশ কয়েকদিন ধরে মুসার কাছে তথ্য প্রেরণ করত। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর গ্রেফতার নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির আনুমানিক চারবার জাহিদুল ইসলাম টিপুর অবস্থান সম্পর্কে মুসাকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে জাহিদুল ইসলাম টিপুর গ্রান্ড সুলতান রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় গ্রেফতার মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশ তাকে নজরদারিতে রাখে এবং তার অবস্থান সম্পর্কে সে ফ্রিডম মানিককে অবহিত করেন। টিপুর অবস্থান সম্পর্কে জানানোর প্রেক্ষিতে আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের তত্ত্বাবধানে কিলার কর্তৃক হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।


ডিবি কর্তৃক গ্রেফতার শ্যুটার মাসুম ও দামালের এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডটি কাটআউট পদ্ধতিতে করা হয়। যেখানে গ্রেফতার নাছির ও ওমর ফারুকের কাছে পরিকল্পনার তথ্য রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা মুসাকে দায়িত্ব দিয়েছে। মুসা সমন্বয়কারী হিসেবে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ও কিলার নিয়োগ করে। যেহেতু আমরা মুসাকে গ্রেফতার করতে পারিনি এবং সে দুবাই চলে গেছে, তাই কাকে সে আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে শ্যুটার নিয়োগ করেছিল সেটা মুসাকে গ্রেফতারের পর জানা যাবে। গ্রেফতার নাছির, ওমর ফারুক ও সালেহর কাছ থেকে আমরা কোনো শ্যুটার বা কিলারের নাম পাইনি।


আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে মুসা: 


দুবাইয়ে অবস্থানরত আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই সন্ত্রাসী কে জানতে চাইলে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এখানে আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম পেয়েছি। আমরা মুসার অবস্থান পেয়েছি দুবাইতে। সেখানে তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। একইভাবে কাইল্লা পলাশ একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য দিচ্ছিল, যার অবস্থান পার্শ্ববর্তী একটি দেশে। আবার মুসা এর আগে কিলিং মিশনে একজন কিলার নিয়েছিল, সেখানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন সন্ত্রাসীর নাম আমরা পেয়েছি, তার অবস্থান আমরা পাচ্ছি ফ্রান্সে। এখন তথ্য-প্রযুক্তির যুগে এ দেশে অবস্থান করে ভিপিএনের মাধ্যমে আরেক দেশর নম্বর দিয়ে কল করা যায়। এখন এই ঘটনায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে না কি তারা সরাসরি জড়িত সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শুধু আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী নয়, আন্ডারগ্রাউন্ডের কিছু সন্ত্রাসীদের নামও আমরা পেয়েছি। যাদের অনেককেই আমরা গ্রেফতার করেছি। তাদেরও এই হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। কোনো কিছুই আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। সেই বিষয়েও তদন্ত চলমান আছে।


মুসাকে দেশে ফেরাতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে: 


আরেক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেফতার নাছির জানিয়েছে, মুসার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হয়েছিল। কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হবে, সেটি মুসা নাছিরকেই জানিয়েছিল।


নাছির আরও জানিয়েছে, পরিকল্পনায় কিলারের পাশাপাশি ব্যাকআপ প্ল্যানও ছিল। এইকথা মুসাই তাদের জানিয়েছে। যখন হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়, তখন নাছির ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন। তিনি মুসাকে জানিয়েছেন 'ইট ইজ ডান'। এতে মুসার আর ব্যাকআপ প্ল্যানের প্রয়োজন হয়নি।


মুসাকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আল মঈন বলেন, মুসার অবস্থান শনাক্ত করার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে শেয়ার করা হচ্ছে। দুবাইতে তিনি কোথায় কি অবস্থায় আছে এই সম্পর্কে কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। সেসব তথ্য পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে যেসব সংস্থাকে দেওয়া প্রয়োজন এবং যার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব সেসব কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। কারণ তাকে না পাওয়া গেলে টিপু হত্যার পুরো পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা কঠিন।





জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

ফারাক্কা বাঁধে মরুকরণের ঝুঁকিতে ৭ কোটি মানুষ: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল চরম সংকটের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, দেশের প্রায় ২৪ থেকে ২৬টি জেলা এবং ৭ কোটি মানুষ বর্তমানে মরুভূমির মতো পরিস্থিতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

গুলিস্তানে সড়কের মাঝে দুই ট্রাফিক কনস্টেবলের হাতাহাতি, বরখাস্ত ২

রাজধানীর গুলিস্তানে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সড়কের মাঝখানে দুই ট্রাফিক কনস্টেবলের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মিরপুরে রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

রাজধানীর মিরপুরে পপুলার মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নওগাঁয় বজ্রপাতে দাদা-নাতিসহ ৩ জনের মৃত্যু

নওগাঁর রাণীনগরে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দাদা-নাতিসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পারইল ও গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামের মাঠে এ ঘটনাগুলো ঘটে।