জাতীয়


মন্ত্রী-এমপিদের পেছনে কত খরচ হয়? বেতন-ভাতা থেকে গাড়ি-বাসা-রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের হিসাব


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:১০ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

মন্ত্রী-এমপিদের পেছনে কত খরচ হয়? বেতন-ভাতা থেকে গাড়ি-বাসা-রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের হিসাব

ছবি: দূরবিন নিউজ


নতুন সংসদ ও মন্ত্রিসভা গঠনের সময় সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্নই বেশি ঘোরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ঠিক কী কী বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা পান। একই সঙ্গে তাদের পেছনে রাষ্ট্রের কত ধরনের ব্যয় হয়, সেটিও আলোচনায় আসে।

 

প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয় “দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট” অনুযায়ী। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এ আইন সংশোধন করা হয়।

 

আইন অনুযায়ী একজন পূর্ণমন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রী পান ৯২ হাজার টাকা, উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা, আর একজন সংসদ সদস্যের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করে।

 

সরকারি কাজে বিদেশ সফরে গেলে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার ভাতা পান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সফরের সংখ্যা ও মেয়াদের ওপর এ ব্যয় বাড়ে বা কমে।

 

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা পান, যা সরাসরি নগদ ব্যয় না হলেও কর ছাড়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রাজস্বে প্রভাব ফেলে।

 

জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানির সমপরিমাণ অর্থ পান। এছাড়া পরিবহন ভাতা হিসেবে মাসে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াতের জন্য মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পান।

 

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি বাসা পান। কেউ সরকারি বাসায় না থাকলে পূর্ণমন্ত্রী মাসে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৭০ হাজার টাকা বাসাভাড়া পান।

 

এ ছাড়া সরকারি বাসা সাজসজ্জার জন্য একজন মন্ত্রী বছরে ৫ লাখ টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৪ লাখ টাকা পান। নিজস্ব বা ভাড়া বাড়িতে থাকলে বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে তিন মাসের বাড়িভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার বিধানও রয়েছে।

 

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা মাসে ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পান। এছাড়া টেলিফোন ভাতা ৭ হাজার ৮০০ টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার টাকা এবং ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ কেনার জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

 

সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকার অফিস পরিচালনার জন্য মাসে ১৫ হাজার টাকা পান। আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে পূর্ণমন্ত্রী পান ১০ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৭ হাজার ৫০০ টাকা, আর উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা পান ৫ হাজার টাকা।

 

নিজ নিজ এলাকায় মসজিদ, মন্দির বা অন্যান্য সামাজিক কাজে একজন মন্ত্রী বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী প্রায় ৭ লাখ টাকা এবং উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা পান।

 

স্থানীয় পর্যায়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য, বয়স্ক ভাতা বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ প্রায় ৪০ ধরনের প্রকল্পে কারা সুবিধা পাবেন, তা অনেক ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের সুপারিশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পেছনে সরকারের মোট ব্যয় এক কথায় নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ কিছু খরচ স্থির হলেও বিদেশ সফর, জ্বালানি ব্যবহার, গাড়ি পরিচালনা, চিকিৎসা ব্যয় বা বাসা রক্ষণাবেক্ষণের মতো অনেক খাত ব্যবহারভিত্তিক।

 

তবে স্থির অঙ্কগুলো ধরলে একজন পূর্ণমন্ত্রীর মাসিক ব্যয় প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে। বাসাভাড়া যুক্ত হলে তা ৯ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

 

অন্যদিকে একজন সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে বেতন ও নিয়মিত ভাতা মিলিয়ে মাসিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ টাকার কাছাকাছি দাঁড়ায়। এর বাইরে থাকে গাড়ি–করছাড়, সফরভাতা ও চিকিৎসাসহ আরও বিভিন্ন সুবিধা।


সম্পর্কিত

জাতীয়মন্ত্রী-এমপিরাষ্ট্রীয় ব্যয়মন্ত্রিসভা

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

তরুণ উদ্ভাবকের স্বপ্নযাত্রা: নিজ হাতে বানানো ‘গো-কার্ট’ চালিয়ে প্রশংসায় ভাসালেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীতে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে কলেজছাত্র রিজওয়ান রশীদের উদ্ভাবনী প্রতিভা সরাসরি দেখলেন এবং উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজ হাতে তৈরি ‘গো-কার্ট’ (রেসিং কার) চালিয়ে তরুণ উদ্ভাবককে অনুপ্রাণিত করেন তিনি।

হামের পর সংকট এবার জলাতঙ্ক টিকার!

হামের প্রাদুর্ভাবের পর দেশে এবার জলাতঙ্কের টিকার তীব্র সংকট জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি এই টিকার অভাব দেখা দেওয়ায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সরকারি পর্যায়ে টিকার মজুদ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

'কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও করলে সাইবার আইনে বিচার করা হবে: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরায় অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে তা সাইবার সুরক্ষা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী

সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এ কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।