অন্যান্য


ফোন ধরে হ্যালো বলা হয় কেন?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ আগস্ট ২০২২, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

ফোন ধরে হ্যালো বলা হয় কেন?

ফোন ধরে কথা শুরুর আগে আমরা সকলেই হ্যালো শব্দটি দিয়ে সম্ভাষণ শুরু করে থাকি। কিন্তু কেন এই হ্যালো শব্দটি উচ্চারণ করা হয় তা অনেকেরই অজানা।     


এই বিষয়ে একটি মতবাদ প্রচলিত ছিল যে, টেলিফোনের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের স্ত্রী বা বান্ধবীর নাম ছিল হ্যালো।    


তাই অনেকেই মনে করেন প্রেমিকার প্রতি ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে তিনি ফোন আবিষ্কার করে কথা শুরুর সময় হ্যালো বলেছিলেন। সেই থেকে সবাই ফোন ধরে হ্যালো বলে থাকে।    


কিন্তু আসলে এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। বাস্তবে গ্রাহাম বেলের হ্যালো নামের কোন প্রেমিকা বা বান্ধবী ছিল না, তার স্ত্রীর নাম ছিল ম্যাবেল গার্ডিনার হুবার্ড।   


আর তিনি ফোন আবিষ্কার করে প্রথমে হ্যালোও বলেননি। হ্যালো নামের আবিষ্কারের সাথে জড়িয়ে রয়েছে অন্য রকম একটি কাহিনী।


১৮৭৬ সালে টেলিফোন আবিষ্কার করে গ্রাহাম বেল প্রথম ফোন করেছিলেন তার সহকারীকে। আর সেসময় তিনি কোন সম্ভাষণ ব্যবহার করেননি, সহকারীকে নাম ধরেই ডেকেছিলেন।


টেলিফোন আবিষ্কৃত হওয়ার পর প্রথমদিকে কোনও রিংটনের ব্যবস্থা ছিল না। এজন্য ফোন এলো কিনা বোঝার জন্য একপাশের টেলিফোন লাইনের সাথে অন্য পাশের লাইন সব সময়ই যুক্ত করে রাখতে হতো।  


তাছাড়া তখন কল ডিসকানেক্টের কোনও ব্যবস্থাও ছিল না। ফোনের লাইন সবসময়ই কানেক্ট করা থাকতো, প্রয়োজনের সময় দুই পাশ থেকেই কথা বলা যেত। কিন্তু কথা শুরুর সময় অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে আহ্বান করতে বা সম্ভাষণ জানাতে কিছু বলার দরকার হতো।      


এই সমস্যা দূর করতে পরবর্তীতে গ্রাহাম বেল ফোন ধরে সম্ভাষণ হিসেবে বলার জন্য অ্যাহয় শব্দটিকে পছন্দ করেছিলেন। এই শব্দটি আসলে একসময় সমুদ্রপথে যাতায়াতকারী নাবিকরা একে অন্যকে ডাকার সময় ব্যবহার করত।         


টেলিফোনে সম্ভাষণের জন্যও বেশকিছু দিন ব্যবহার হয়েছিল গ্রাহাম বেলের পছন্দ করা এই অ্যাহয় শব্দ। এদিকে বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক থমাস আলভা এডিসন ছিলেন গ্রাহাম বেলের বন্ধু।   


টেলিফোন মডেলের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় এডিসন লক্ষ্য করেন অ্যাহয় শব্দের চেয়ে হ্যালো শব্দ বলাটা অনেক সহজ এবং শ্রুতিমধুর। তার মতে হ্যালো শব্দটি ২০ ফুট দূর থেকেও স্পষ্ট শোনা যায়।


হ্যালো আসলে একটি জার্মান শব্দ। জার্মানিতে ফেরি বা নৌকার মাঝিকে ডাকার জন্য অতীতে এই শব্দ ব্যবহার করা হতো।  


এডিসন টেলিফোনের রিসিভারে শব্দ পরীক্ষার জন্য বারবার উচ্চস্বরে এই হ্যালো শব্দই ব্যবহার করেছিলেন। তখন থেকেই ফোন ধরে সম্ভাষণ হিসেবে অ্যাহয় এর স্থান করে নেয় হ্যালো।     


তাই গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করলেও ফোনে হ্যালো বলার প্রচলন করেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আল্ভা এডিসন। সেই থেকে সারাবিশ্বে আজও ফোন ধরেই হ্যালো বলা হয়।   


তবে ফোনে হ্যালো শব্দের চালু করার পেছনে আরও একটি কারণ ছিল।  


প্রিন্সিপাল অব রেকর্ডেড সাউন্ড এর আবিষ্কারক টমাস আল্ভা এডিসন। তিনি যখন মানুষের গলার আওয়াজ রেকর্ড করার জন্য পেপার সিলিন্ডার ফনোগ্রাফ যন্ত্র উদ্ভাবন করেন, তখন প্রথম রেকর্ড করেছিলেন হ্যালুউ শব্দটি।   


শব্দটি এডিসনের খুব পছন্দের ছিল, তাই বন্ধু গ্রাহাম বেলের আবিষ্কৃত ফোনে সেই শব্দের কাছাকাছি একটি স্পষ্ট এবং শ্রুতিমধুর শব্দ ব্যবহার করাই ছিল তার লক্ষ্য।      


একটি গবেষণা মতে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষই ফোনের কথোপকথনে সম্ভাষণ হিসেবে হ্যালো শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের কর্মীরা হ্যালো-গার্লস নামে পরিচিত।   



জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।