চালু হবার আগেই ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে ভারতের টুইন টাওয়ার। চল্লিশ তলা বিশিষ্ট এই দুইটি ভবন আগামী ২৮ আগস্ট গুড়িয়ে দেয়া হবে মাটির সাথে।
গত বছরেই আলোচিত এই স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। অবশেষে কার্যকর হচ্ছে সেই নির্দেশ।
ভারতের গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে অবস্থিত আকাশচুম্বী ভবন সুপারটেক টুইনটাওয়ার।
এর জোড়া ভবনের মধ্যে একটির উচ্চতা ১০৩ মিটার। অন্য ভবনটি ৯৭ মিটার উচু। একসাথে দুটি টাওয়ারের আয়তন প্রায় সাড়ে সাত লাখ বর্গ ফুটের বেশি।
৪০ তলার বিশিষ্ট এই দুটি ভবনে মোট ৯১৫টি ফ্লাট রয়েছে৷ যার মধ্যে ৬৩৩টি ফ্লাটের জন্য অগ্রিম বুকিং করেছিলেন গ্রাহকরা। কিন্তু চালু হবার আগেই চিরতরে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে ভবন দুটি।
নির্মাণ সংক্রান্ত আইন না মানার অভিযোগে গতবছর টুইনটাওয়ার ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছিলো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
এরপর বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট মতে আগামী ২৮ আগস্ট ভবন দুটি ভাঙ্গার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিচারপতিদের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ আগস্ট থেকে শুরু করে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টুইনটাওয়ার ধ্বংসের কাজ শেষ করতে হবে। সেজন্য জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্দিষ্ট দিনে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই গুড়িয়ে দেয়া হবে কোটি কোটি টাকার এই ভবন। সে লক্ষে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
এখন থেকেই ভবনের স্তম্ব গুলোর মধ্যে ড্রিল করে তৈরি করা হচ্ছে শত শত গর্ত। এসব গর্তে বিস্ফোরক ভর্তি করে ধাপে ধাপে ধ্বংস করা হবে টুইনটাওয়ার।
আকাশচুম্বী এই ভবন দুটি ভাঙ্গার জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কেজি বিস্ফোরক।
সংশ্লিষ্ট দের তথ্য অনুযায়ী এভাবে ভবন দুটি ভাঙ্গতে সময় লাগবে মাত্র সাত থেকে আট মিনিট।
বাতাস থেকে ধুলোবালি সরতে আরো কয়েক মিনিট লাগতে পারে। এরপরই পরিস্কার হয়ে যাবে পুরো এলাকা।
তবে আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
টুইনটাওয়ার ভেঙে পড়ার পর যে ধ্বংসাস্তুপ তৈরি হবে, তা ধরা পড়বে তিন স্তর বিশিষ্ট জালে। সে জন্য মোটা জাল, কাপড় এবং পর্দা ব্যবহার করছে তারা।
এর পাশাপাশি ভবন দুটির চারপাশে খনন করা হয়েছে পরিখার মতো বিশালা বিশাল গর্ত। ধ্বংসস্তুপের ইট বালু এসব গর্তে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাড়তি সতর্কতা হিসাবে আশেপাশের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে।
ভারতের প্রভাবশালী আবাসন ব্যবসায়ী গ্রুপ সুপারটেক। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নয়ডার সবুজ এলাকায় টুইট টাওয়ার তৈরি করেছিলো তারা।
শুরু থেকেই ভবন দুটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলো বিভিন্ন মহল। ২০১৪ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টও রায় দিয়েছিলেন ভবন দুটি ভেঙ্গে ফেলার পক্ষে।
নিয়ম অনুযায়ী বিল্ডিং দুটির মধ্যে কমপক্ষে ১৬ মিটার দুরত্ব থাকার কথা৷ কিন্তু টুইনটাওয়ারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অমান্য করেছে সুপারটেক।
পাশাপাশি আইন অনুযায়ী ফ্লাট ক্রেতাদের মতামত নিতে হয় আবাসন সংস্থাকে৷ এই নিয়ম ও পাশ কাটিয়েছে সংস্থাটি।
নয়ডার এই দুটি ভবন প্রথমে ২৪ তলা বিশিষ্ট করে বানানোর কথা ছিলো। এরপরে উচ্চতা বাড়ানো হয় চল্লিশ তলা পর্যন্ত।
ফলে ১৬ মিটারের স্থলে দুই ভবনের মাঝে ২০ মিটার খালি জায়গা রাখার কথা। কিন্তু আইন অমান্য করে মাত্র ৯ মিটার জায়গা ফাকা রাখে সুপারটেক।
এছাড়া আরো অনেক গুলো নিয়ম ভাঙ্গার প্রমান পেয়ে ২০২১ সালে ভবন দুটি ভাঙ্গার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।