

বিশ্বের সবচেয়ে দামী ভেনম বা বিষ পাওয়া যায় স্করপিয়ন নামের এক ধরনের নীল কাঁকড়াবিছে থেকে। যার প্রতি লিটার বিষের দাম প্রায় একশো কোটি টাকা!
ভয়ংকর সুন্দর এ প্রাণীর হুল কারো শরীলে ফুটালে বিষের প্রভাবে মূহুর্তেই সেই ব্যাক্তি প্যারালাইজড হয়ে যাবেন।
এমনকি এর বিষের প্রভাবে তৎক্ষণাৎ প্রাণও হারাতে হতে পারে। মৌমাছির হুল ফুটালে যেই ব্যাথা অনুভূত হয় এর হুল ফুটলের তার তুলনায় একশো গুন বেশি ব্যাথা অনুভব করেন আক্রান্ত হওয়া ব্যাক্তি।
পৃথিবীতে কয়েক শত প্রজাতির স্করপিয়ন দেখা যায়। তবে সব প্রজাতির বিষ এতো দামে বিক্রি হয় না।
একমাত্র নীল বর্ণের স্করপিয়নের বিষের দাম সবচাইতে বেশি। বিরল প্রজাতির এই স্করপিয়ন পাওয়া যায় কিউবায়।
মাত্র এক গ্যালন নীল স্করপিয়নের বিষের দাম প্রায় উনচল্লিশ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমান চারশো পঞ্চাশ কোটি টাকারও বেশি।
বিষের দাম এত বেশি হওয়ার পিছনের মূল কারন হচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর গুরুত্ব। এদের বিষে পঞ্চাশটিরও বেশি যৌগ পাওয়া যায়।
যার বেশিরভাগই এখনো অজানা রয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গবেষণা এবং পরিক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এদের পরিচয় জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এগুলো ব্যাবহার করে রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস, ফেটাল স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার নির্ণয়, টিউবারকিউলোসিস ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা সম্ভব।
ক্যান্সার সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণার কাজেও এটির ব্যবহার হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন এর দ্বারা ক্যান্সারের ঔষধ তৈরি করাও সম্ভব হবে।
এছাড়া কোনো রোগীর ব্রেইন টিউমার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে, নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করতে এমনকি পেইনকিলার হিসেবে ও ব্যবহার করা হয় এটিকে।
তবে মূল্যাবান এই তরলটি পাওয়া খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার। মাত্র এক গ্যালন পরিমাপ বিষ সংগ্রহ করতে হলে প্রায় দুই দশমিক ছয় চার মিলিয়ন স্করপিয়নের প্রয়োজন।
কারন প্রতিটি স্করপিয়ন মাত্র ২ মিলিগ্রামেরও কম বিষ উৎপাদন করে। যার কারনে এটি বিশ্বের সবচাইতে দামী তরল গুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
যা একই সাথে বিশ্বের সবচাইতে দামী ভেনম বা বিষ হিসেবে ও স্বীকৃত। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিং কোবরার বিষের দাম শুনলে সহজেই অনুমান করা যায় এই বিষের দাম কতটা বেশি।
যেখানে এক গ্যালন স্করপিয়নের বিষের দাম প্রায় উনচল্লিশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে একই পরিমাপ কিং কোবরার বিষের দাম মাত্র এক লাখ পঁচিশ হাজার ডলার।
সারা বিশ্বে এর গুটিকয়েক খামার আছে। তুরস্কের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ শানলিউরফায় রয়েছে বিষাক্ত এ প্রাণীর একটি খামার। এই খামারে চাষ করা হয় ২০ হাজারের বেশি কাঁকড়া বিছে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্ব, অপ্রতুলতা ও জটিল সংগ্রহ প্রক্রিয়ার কারনে এটি বিশ্বের সবচাইতে দামী তরলে পরিণত হয়েছে।
ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে ওষুধ তৈরিসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয় স্করপিয়নের এর বিষ।
কিউবায় এই বিষ ব্যবহার করে ভিডাটক্স নামের একটি ঔষধ তৈরি করা হয়েছে। যা দেশটির ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া ব্যাক্তিদের চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বের সাথে ব্যবহার হয়ে আসছে।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা বিশ্বের সবচাইতে দামী এই বিষ ব্যবহার করে অন্যান্য মরণঘাতী রোগের ঔষধ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।।



