এবার কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। এটি বিশ্বের অন্যতম শুষ্ক একটি দেশ।
মরুভূমির দেশটিতে মেঘের কোনো কমতি নেই। কিন্তু সে তুলনায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম।
এখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। দিন যতই এগোচ্ছে পাল্লা দিয়ে যেন বেড়ে চলেছে তাপমাত্রা। নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর।
যার ফলে দুবাইয়ের মতো নগরীতে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। আর সে সংকট থেকে কাটিয়ে উঠতেই সম্প্রতি নতুন এক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আরব আমিরাত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪৮টি কার্টিজ ভর্তি লবণ দিয়ে মেঘকে বৃষ্টিতে রূপান্তরিত করবে তারা।যদিও এ কাজটি একদিকে যেমন ব্যয়বহুল তেমনি এটি করতে প্রয়োজন পড়বে বিপদজনক উড্ডয়নের।
এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অ্যান্ডার্স মার্ড নামের এক পাইলট।
দেশটিতে যে পরিমাণ মেঘ পুঞ্জীভূত হয়ে থাকে তার থেকে কৃত্রিমভাবে ভালো পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আর তাই এসব মেঘে চারটি প্রপেলার প্লেন দিয়ে সোডিয়াম ও পটাসিয়াম ক্লোরাইড নিক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
এর ফলে লবণের কণাগুলো মেঘের মধ্যে থাকা পানির কণাগুলোকে কাছাকাছি নিয়ে আসে। এতে পানির কণাগুলো মিশে গিয়ে ক্রমে বড় কণায় পরিণত হয় এবং ভারী হয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরতে শুরু করবে।
এভাবেই আমিরাতে বৃষ্টি নামানো হবে। কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টি নামানোর এই প্রক্রিয়াকে বলে ক্লাউড সীডিং।
আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটেরোলজি কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য এ চেষ্টা চলমান রাখবেন বলে জানা গিয়েছে।
বিমান চালিয়ে অ্যান্ডারস মার্ড হয়তো জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করতে বা পানির সংকট দূর করতে পারেন না৷
তবে অন্তত একটু বেশি বৃষ্টির ব্যবস্থা করতে পারেন৷ আর এই মৌসুমে তা অনেক বেশিই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজীবন যাত্রী পরিবহনে তিনি মেঘ এড়িয়ে চললেও এবার একেবারে মেঘদের কাছে ঘেঁষছেন। অ্যান্ডার্স মার্ডের মতে, কাজটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করার মতো।
আরব আমিরাতের আহমেদ আল কামালি নামে একজন আবহাওয়াবিদও এ প্রকল্পের সাথে যুক্ত আছেন।
যারা কৃত্রিম বৃষ্টি নিয়ে কাজ করছেন, কামালি প্রতিনিয়ত তাদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে যাচ্ছেন।
এই আবহাওয়াবিদ বলেন, সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় আমরা দেখতে চেয়েছি যে কীভাবে আরও বেশি বৃষ্টিপাত ঘটানো যায়।
দেখা গেছে, মেঘে লবণ ছোঁড়ার ফলে গড়ে ২৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়। এমনকি এতে বৃষ্টিপাত ৩৫ শতাংশ পর্যন্তও বেশি হতে পারে।
সবকিছু প্রস্তুত থাকলে দ্রুতই এ কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ফলশ্রুতিতে মরুর দেশটিতে দেখা মিলবে বৃষ্টির।
সাধারণত গরম প্রধান দেশে হালকা বৃষ্টিপাতে বৃষ্টির ফোঁটা অনেক সময় মাটিতে পড়ার আগেই বাষ্প হয়ে যায়।
এ কারণেই আবহাওয়া বুঝে প্লেন থেকে ক্লাউড সীডিং করে ভেসে যাওয়া মেঘগুলোকে বৃষ্টি আঁকারে নামিয়ে আনা হয়।
এতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই বলেও মনে করছেন আবহাওয়া ব্যুরো।
ইমারত ও সাগরের বুকে কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়ে বহু আগেই পৃথিবীকে তাক লাগিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এবার কৃত্রিম বৃষ্টি নামিয়ে আবারো বিশ্বকে অবাক করছে তারা।