

ভবিষ্যতে মানুষের জীবনযাত্রা বিদ্যুৎ নির্ভর হওয়ার কারণে তেলের চাহিদা অনেকাংশে কমে আসতে পারে। তখন তেলের স্থান দখল করে নিতে পারে এমন কিছু খনিজ পদার্থ, যেগুলো বৈদ্যুতিক ব্যাটারি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে মজুত করে রাখতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে লিথিয়াম, নিকেল, গ্রাফাইট, ম্যাঙ্গানিজ, কোবাল্ট। এসব খনিজ পদার্থের চাহিদা বেড়ে গেলে সবচেয়ে সুবিধা পেতে পারে রাশিয়া। কারণ, রাশিয়া হলো পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম কোবাল্ট ও প্লাটিনাম রপ্তানিকারক দেশ। এছাড়া, তারা নিকেল রপ্তানিতে রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের টানাপোড়নের সময় বেড়ে গিয়েছিল এসব ধাতব পদার্থের দাম। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল নিকেলের মূল্য। যার কারণে, নিকেলের কেনা-বেচাও বন্ধ হয়ে হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে রাশিয়ার উপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ধাতব পদার্থের এই সংকট সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তবে, সকল ধাতব পদার্থের ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ নেই রাশিয়ার।কারণ, কোবাল্টের বিরাট অংশ উৎপাদিত হয় গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে। আর নিকেলের বড় অংশ আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আসে লিথিয়াম এবং চিলি থেকে আসে কপার। এছাড়া রেয়ার আর্থ বা বিরল ধাতব পদার্থগুলো চীন থেকে আসে। এসব খনিজ পদার্থ বর্তমানে বিভিন্ন দেশ থেকে উত্তোলন করা হয়। কিন্তু সবগুলো খনিজ পদার্থ প্রক্রিয়া করণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে চীন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৪০ সালের মধ্যে এ ধরনের খনিজ পদার্থের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। তখন চাহিদা মেটানোর মতো সরবরাহ না থাকলে দাম হয়ে যাবে আকাশছোঁয়া। ধাতব পদার্থের মধ্যে প্রথম দিকে নিকেল, কোবাল্ট, লিথিয়াম এবং কপারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে। তখন এগুলোর দাম রেকর্ড সৃষ্টি করবে। সেই সাথে উৎপাদন চার গুণেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে। সে সময় যেসব দেশ এগুলো উৎপাদন করতে সক্ষম হবে, তারা এত রাজস্ব আয় করবে যে, তা হয়তো এখনকার তেল খাতের সাথে তুলনীয়। খনি থেকে এসব ধাতব পদার্থ উত্তোলনের জন্য অনেক বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়। একটি খনি উত্তোলনের মতো পর্যায়ে যেতে গড়ে ১০ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। বর্তমান পৃথিবী জীবাশ্ম জ্বালানির উপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চায় না। এর পরিবর্তে এমন কিছুর উপর নির্ভর করতে চায়, যাতে দূষণের পরিমাণ কম হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। তাই, যেসব দেশ তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, তারা হয়তো অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল তেল। এখন একবিংশ শতাব্দীতে হয়তো এসব খনিজ পদার্থই প্রাধান্য বিস্তার করবে।বৈদ্যুতিক ব্যাটারি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শক্তি মজুদ করে রাখার জন্য এসব খনিজ অতি প্রয়োজনীয়। আগামী বিশ্বের অর্থনীতি বিদ্যুৎ নির্ভর হলে বিভিন্ন দেশ আরও বেশি সম্পদশালী হয়ে উঠবে।এসব বিষয় বিবেচনায় অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশই এখন ভিন্ন পথে হাটতে শুরু করেছে। জ্বালানি সম্পদের পাশাপাশি অন্যান্য খাতকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।



