অন্যান্য


বন্দর থেকে কিভাবে খালাস হয় বিদেশ থেকে আসা পণ্যদ্রব্য?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ আগস্ট ২০২২, ০৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

বন্দর থেকে কিভাবে খালাস হয় বিদেশ থেকে আসা পণ্যদ্রব্য?

আমদানিপণ্য খালাসের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হয় জাহাজ দেশের সমুদ্রসীমায় পৌঁছানোর সাথে সাথেই। কাজটি করে থাকেন সংশ্লিষ্ট জাহাজের ক্যাপ্টেন।     


সমুদ্রবন্দর কাস্টমসের আইন অনুযায়ী, জাহাজ বন্দরে প্রবেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমদানিপণ্যের তথ্য সংক্রান্ত একটি তালিকা কাস্টমসে জমা দিতে হয়।   


একে বলা হয় ইমপোর্ট জেনারেল ম্যানিফেস্ট। তালিকায় পণ্যবাহী জাহাজের নাম, রোটেশন নম্বর, আমদানি ও রপ্তানিকারকদের নাম ও ঠিকানা, পণ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, পরিমাণ, গন্তব্য লেখা থাকে।  


এরপর জেটিতে অপেক্ষমাণ জাহাজ থেকে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কনটেইনাগুলো নামানো হয় বন্দরের বার্থে। 


সেখানে কনটেইনারের স্ক্যানিং সম্পন্ন হলে সেগুলো বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো বা আইসিডির অধীনে চলে যায়। এর মাধ্যমে প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়।  


দ্বিতীয় ধাপের শুরুতেই পণ্যের গুণগত মান যাচাই বাছাই ও বাহ্যিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। এসময় আমদানিকারক প্রতিনিধি কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের অংশ হিসেবে বন্দরের শুল্ক বিভাগে একটি বিল অব এন্ট্রি প্রদান করে থাকে।    


বন্দরের যাবতীয় ফি এবং কাস্টমস হাউজে পণ্যের জন্য নির্ধারিত শুল্ক কর পরিশোধ করার পর আমদানিকারককে পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। 


খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময় বন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন।    


কোন কারণে বিল অফ এন্ট্রিতে বর্ণিত পণ্যের সাথে যাচাইকৃত আমদানি পণ্যের মিল না থাকলে বা  বেআইনি পণ্য হলে কাস্টমস আইন অনুযায়ী আমদানিকারককে জরিমানা করা হয়।  


তাছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আরও কিছু আইনগত পদক্ষেপও নিয়ে থাকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বন্দরে আসার পর আমদানিকারক যদি পণ্য খালাস করতে না আসে, তাহলে নির্ধারিত সময়ের পর সেই পণ্যের নিলাম ডাকা হয়। নিলামের পর অবশিষ্ট পণ্য নষ্ট করে দেওয়া হয়।      


পণ্য যদি কোন শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি বা মেশিনপত্র হয়ে থাকে তাহলে কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষে আমদানিকারক উক্ত ভারি পণ্যের কনটেইনার সরাসরি নিজের কারখানায় নিয়ে যেতে পারেন।   


এই পদ্ধতিতে পণ্য খালাস করাকে বলা হয় বক্স ডেলিভারি। এক্ষেত্রেও বন্দর ত্যাগ করার পূর্বে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয় এবং পণ্যভর্তি কনটেইনারগুলো বাধ্যতামূলকভাবে স্ক্যানিং করা হয়।


কারখানার পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেন ইপিজেডের উদ্যোক্তারা। 


সাধারণ আমদানিকারকদের ব্যাংকে ঋণপত্র খোলার প্রয়োজন হয়, কিন্তু ইপিজেডগুলো আমদানির জন্য বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন বা বেপজা থেকে একটি ইমপোর্ট পারমিট পেয়ে থাকে।


ফলে তাদের আর আলাদা করে ঋণপত্র খোলার প্রয়োজন হয় না, পণ্য আমদানি বাবদ শুল্ককরও পরিশোধ করতে হয় না।       


কার্গো জাহাজের খালাস পদ্ধতি কন্টেইনার জাহাজের থেকে কিছুটা ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।  


কার্গোবাহী জাহাজগুলো সাধারণত বড় আকারের হয়ে থাকে, যেগুলো মাদার ভ্যাসেল নামে পরিচিত। এগুলো অনেক সময় জায়গায় অভাবে বন্দর জেটি অবধি পৌঁছাতে পারে না।  


তখন বহির্নোঙরে অপেক্ষারত মাদার ভ্যাসেল থেকে ছোট ছোট জাহাজে করে কার্গো বহন করে বন্দরের মূল জেটিতে নিয়ে এসে খালাস করা হয়। এসব ছোট জাহাজ লাইটারেজ নামে পরিচিত।   


এক্ষেত্রে কার্গোবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর কাস্টমস ও আমদানিকারকের প্রতিনিধিরা আগত পণ্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে।      


তাদের জরিপ অনুযায়ী, শুল্ক প্রদান শেষে কাস্টমসের অনুমতি সাপেক্ষে মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটারেজে করে পণ্য জেটিতে এনে খালাস করা হয়।   


এভাবে খালাসকৃত পণ্য পরিবহনের জন্য আমদানিকারক একজন লোকাল শিপিং এজেন্ট নিয়োগ করেন। তিনিই লাইটারেজ বুকিং থেকে শুরু করে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে মালামাল স্থানান্তর করে গন্তব্য পর্যন্ত নিয়ে যান।          


দেশের সমুদ্র বাণিজ্যের ৯২ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর  কনটেইনার, কার্গো ও ট্যাংকার মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ২৩১টি জাহাজ হ্যান্ডেল করেছে।     


২০৩০ সাল নাগাদ এ বন্দরের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিককালে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যাতায়াত সহজ হয়ে যাওয়ায় মংলা বন্দরও বৈদেশিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে।  




জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।