অপরুপ সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন ঢালী'স আম্বার নিবাস রিসোর্ট। ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাহেরকুচি গ্রামে
প্রায় ১০০ বিঘা জমির উপর এটি নির্মান করা হয়েছে।
শুরু দিকে এখানে মাত্র এক থেকে দুটি কটেজ ছিলো। মূলত কটেজের মালিকের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ছিলো সেগুলো।
পরবর্তীতে অনেকের উৎসাহ ও আগ্রহে রিসোর্টটিকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য রুপ দেয়া হয়। বর্তমানে এখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির শতাধিক রুম রয়েছে।
এ ছাড়া রিসোর্টটিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুইমিং পুল রয়েছে। যার আয়তন ২৬ হাজার স্কয়ার ফিট।
এখানে এক সাথে অনেক লোক সাঁতার কাটতে পারে। সেই সাথে কমপক্ষে ২০টি রুম থেকে সুইমিং পুলে সরাসরি প্রবেশ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
রিসোর্টের আরেকটি ইউনিক ব্যাপার হচ্ছে এখানে মেয়েদের জন্য আলাদা সুইমিং পুল রয়েছে। বাংলাদেশে শুধু মাত্র মেয়েদের জন্য এরকম সুইমিং পুল প্রথম বার তৈরি হয়েছে।
নারী গেস্টদের প্রাইভেসি এবং তাদের স্বাচ্ছন্দে আনন্দ উপভোগ করার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঢালী'স আম্বার নিবাসে রেস্তোরাঁর পাশাপাশি রয়েছে একাধিক কনফারেন্স হল। এছাড়াও আছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বিজনেস লাউঞ্জ এবং ব্যাংকুয়েট হল।
এসকল হলে প্রায়ই ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষের প্রোগ্রাম করা হয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী এবং বিত্তশালী মানুষের আনাগোনা আছে এখানে। তারা এখানে নিজেদের বিজনেস মিটিং আয়োজন করেন।
রিসোর্টে রয়েছে সব বয়সের মানুষের জন্য বিচিত্র বিনোদনের সুযোগ সুবিধা। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্লাইড, রাইড, খেলার মাঠ সহ নানা আয়োজন।
তরুণ অতিথিদের জন্য রয়েছে ইনডোর ভিআর, স্নুকারের ব্যবস্থা। সেই সাথে একটি অত্যাধুনিক জিম ও রয়েছে।
এখানে কেউ চাইলে পুরো পরিবার সহ বেড়াতে আসতে পারেন। একটি সম্পূর্ণ কটেজ বা কটেজের একটি রুম আলাদা ভাবে ভাড়া নেয়া যায়।
পুরো রিসোর্টে এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে কেই পরিবার সহ নিরিবিলিতে সময় কাটাতে পারে। তাদের প্রাইভেসিতে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ নেই।
রিসোর্টটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম ঢালী বলেন, এধরনের প্রতিষ্ঠান একটি এলাকার জন্য ভালো। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো এলাকার নাম উজ্জ্বল করে।
এই রিসোর্টটি হওয়ার আগে কেউ সেভাবে সেই এলাকার নাম জানতেন না। কিন্তু এখন ঢালী’স আম্বার নিবাসকে অনেকেই চেনে। তিনি মনে করেন এ ধরনের প্রতিষ্ঠান একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ।
সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম।
রিসোর্টেটির এক পাশের পুরোটাই ছায়াঘেরা। হরেক রকম গাছ-গাছালি দিয়ে সাজানো হয়েছে এই অংশটি।
ফুলের গাছ যেমন আছে তেমনি আছে বিভিন্ন রকম ফলের গাছও। আর ভিতরের রাস্তাঘাটগুলো দৃষ্টিনন্দন।
রয়েছে লেকের উপর দৃষ্টিনন্দন সেতু এবং ট্রি হাউজ। তাই বিভিন্ন ছুটিতে ও উৎসবের দিনে অনেকেই এখানে বেড়াতে আসেন।
রিসোর্টের সেবা ও খাবারের মান বেশ উন্নত। কর্তৃপক্ষ তাদের খাবারসহ সব কিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখেন।
সব ধরনের পণ্য রিসোর্টের ডিরেক্টর নিজেই কেনাকাটা করেন। সকল কাজ তিনি নিজে পরিচালনা করে থাকেন।
অতিথিদের জন্য তৈরি খাবার নিজেও খান। খাবারের সঠিক স্বাদ ও গুণনত মান বজায় রাখতেই তিনি এমনটা করেন বলে জানা গেছে।
রিসোর্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহজুবা ইসলাম নাহিন। তিনি মানুষের জন্য একটি বিনোদনের স্থান করার স্বপ্ন দেখতেন।
তাই এই রিসোর্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সাথে মানুষের কর্মসংস্থান করার তাড়নাও ছিলো তার।
ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্ব মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় এখানে।
আধুনিক সব সুযোগ সুবিধার কারনে এখানে রাত কাটাতে গুণতে হয় মোটা অংকের টাকা।
এক রাতের জন্য একটি রুমের ভাড়া আট হাজার টাকা থেকে ৪৫ হাজার ৯৯০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
রিসোর্টে আছে গাড়ি পার্কিং এর সুব্যবস্থা। একাধিক পার্কিং লট ও হ্যালিপ্যাড ও রয়েছে রিসোর্টটিতে।
ঢালী'স আম্বার নিবাসে অতিথি হয়ে রাত্রি যাপন না করলেও সেখানে যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন। মাত্র ৩০০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে যে কেউ এ রিসোর্টের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
ঢাকার অদূরে এমন মনোরম পরিবেশ এবং আধুনিক রিসোর্টে সব সময় মানুষের আনাগোনা চলতেই থাকে।