মানুষের পাশাপাশি চাকরি করছে হাঁস! শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই ঘটছে দক্ষিণ আফ্রিকায়।
মজার ব্যাপার হলো এর জন্য প্রতি মাসে বেতন পায় তারা। এমনকি কখনো কখনো দেওয়া হয় বোনাসও।
মানুষের মতোই নির্দিষ্ট সময় ধরেই অফিসে হাজিরা দিতে হয় তাদের। সকাল ১০টা বাজলেই ছুটতে হয় কাজের উদ্দেশ্য, আর কাজ করতে হয় বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের বাইরেই এরস্টে নদী-তীরবর্তী অঞ্চলের ভাইন ইয়ার্ডগুলোতে এটি প্রতিদিনের দৃশ্য।
এসব জায়গায় গেলেই দেখা যাবে শব্দ করতে করতে মাটির রাস্তা দিয়ে হেলতে দুলতে হাঁসের দল ছুটছে কাজের উদ্দেশ্যে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় এই অদ্ভুদ পদ্ধতিটি নতুন নয়, এটি চলে আসছে প্রায় ৩০০ বছর ধরে। কৃষি ক্ষেত্রে পোকামাকড়ের উৎপাত এড়াতে সেখানকার কৃষকরা বেছে নিয়েছেন এমন পদ্ধতি।
বিশ্বের ওয়াইন উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম দক্ষিণ আফ্রিকা। সবমিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছে ভিনিকালচার শিল্প।
এই শিল্পক্ষেত্রে হাঁসেরাও মানুষের সহকর্মী। কেপ টাউনের ওয়াইন এস্টেট ভেরজেনোয়েড লো-তে হাঁসেদের ব্যবহার করা হয় কৃষিক্ষেত্রে।
প্রতিদিন সকাল হলেই ভাইন ইয়ার্ডে নামানো হয় হাঁসের দল। এসব ইয়ার্ডে কোনো ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় না। এমনকি কীটনাশকও ব্যবহৃত হয় না।
কারণ কীটপতঙ্গ দূর করতে এসবের প্রয়োজনই হয় না। হাঁসগুলোই এখানকার মাটিতে থাকা পতঙ্গ ও অন্যান্য ছোট প্রানী বের করে খায়।
আর এতে করে একদিকে যেমন হাঁসের খাদ্যের ব্যবস্থা হয়, তেমনি অন্যদিকে রক্ষা হয় পরিবেশের ভারসাম্য।
তাছাড়া এ পদ্ধতির আরো একটি সুবিধা হলো প্রাকৃতিক সারের ব্যাবস্থা। হাঁসের বর্জ্য এখানে কাজ করে প্রাকৃতিক সার হিসেবে। যার ফলে কোনো কৃত্রিম ফার্টিলাইজারের প্রয়োজন হয় না।
কেপ টাউনের প্রতিটি ভাইনইয়ার্ডে ‘কাজ’ করে প্রায় ১৬০০-রও বেশি হাঁস। প্রতিদিন রাতের বেলা তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় বিশেষ প্রোটিনযুক্ত খাবার। মূলত এটিকেই ধরা হয় তাদের বেতন হিসেবে।
এছাড়া বছরে একবার মাস খানেকের লম্বা ছুটিও পায় তারা। সেটা মেলে ফসল কাটার মৌসুমে। এই সময়টায় মনের আনন্দে নদীতেই সাঁতার কেটে ঘুরে বেড়ায় হাসের দল।
পাশাপাশি ছুটির এ সময়টায় বোনাসও পায় তারা। ভাইন ইয়ার্ডের সেরা আঙুরের একাংশ বরাদ্দ করা হয় হাঁসেদের জন্য।
এসব কাজের জন্য ‘ইন্ডিয়ান রানার ডাক’ নামের হাঁস ব্যবহার করা হয়। বিশেষ কিছু বৈশিষ্টের কারণে এই প্রজাতিকেই বেছে নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষকরা। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো খুব সহজেই পোষ মানে।
ইন্ডিয়ান রানার ডাকের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ঘ্রাণ শক্তি। প্রবল ঘ্রাণশক্তির কারণে সহজেই পোকামাকড়সহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক উপাদান খুঁজে বের করতে পারে তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই অবাক করা কান্ড’ হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ। হাঁসেদের এই কর্মকাণ্ড দেখতে এখন রীতিমতো ভিড় জমান পর্যটকরা।
বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটে এ পদ্ধতিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন পরিবেশবিদরা। এই প্রথা একদিকে যেমন রাসায়নিক দূষণের মাত্রা কমিয়েছে৷ তেমনই অর্থনীতিতেও ভুমিকা রাখছে।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশও কৃষিক্ষেত্রে এভাবে জৈব পদ্ধতির ব্যবহার করলে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে পরিবেশ।