গত ২৮ আগষ্ট হাইকোর্টের নির্দেশে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মাত্র ৯ সেকেন্ডেই ভেঙে ফেলা হয়েছিলো উত্তরপ্রদেশের নয়ডার টুইন টাওয়ার।
ভেঙে ফেলা এ যমজ অট্টালিকার ৮০ হাজার টন ধ্বংসাবশেষ তিন মাসের মধ্যে সরাবে ১০০০ ট্রাক।
এর মধ্যে অট্টালিকার বেসমেন্ট ভরাটের কাজে ব্যবহার করার জন্য ৫০ হাজার টন ধ্বংসাবশেষ ওই জায়গাতেই রাখা হবে।
বাকি ৩০ হাজার টন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুনরায় ব্যবহার যোগ্য করতে তুলতে চায় প্রশাসন। যাতে তা পরবর্তিতে নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা যায়।
কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষের পুনরায় ব্যবহার ইউরোপের দেশগুলোয় বহুদিন ধরেই প্রচলিত। ভারতেও সেই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে শিল্প বিশেষজ্ঞদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে।
বর্তমানে ওই জায়গায় যে ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে, তা মূলত কংক্রিটের বড় স্ল্যাব এবং ইস্পাতের টুকরো।
এগুলো পরিষ্কার করতে একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাফাই কর্মীরা ইতিমধ্যেই অট্টালিকার বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ফলে আশেপাশের বহুতলগুলিতে যাতে ধূলো না পড়ে সেই কারণে আগে থেকেই আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
দু’টি অট্টালিকার একটির নাম অ্যাপেক্স। যার উচ্চতা ১০৩ মিটার। অন্য অট্টালিকার নাম সিয়েন, উচ্চতা ৯৭ মিটার।
এ দুটি ভবন ভাঙতে ৩ হাজার ৭০০ কেজির বেশি ওজনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। বহুতলটি ভাঙতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।
এর মধ্যে পাঁচ কোটি টাকা নির্মাণকারী সংস্থার তরফ থেকে নেওয়া হবে। বাকি ১৫ কোটি টাকা যমজ অট্টালিকার ধ্বংসাবশেষ বিক্রি করে তোলা হবে।
এই অট্টালিকা দু’টি ভাঙতে ‘ওয়াটারফল ইমপ্লোসন’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে বিস্ফোরণের পর ধ্বংসাবশেষ বাইরের দিকে না ছিটকে নির্দিষ্ট জায়গাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
আর এর জন্য যমজ অট্টালিকাকে ঘিরে চার স্তরীয় লোহার খাঁচা এবং দু’টি স্তরে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।
অট্টালিকা ভাঙার সময় যে কম্পন সৃষ্টি হয়, সেই কম্পনের মাত্রা কম করতে ‘ইমপ্যাক্ট কুশন’ তৈরি করা হয়েছিল।
এদিকে এটি ভাঙতে গিয়ে যেন কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলো কর্তৃপক্ষ।
টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগেই স্থানীয় মানুষদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছিল প্রশাসন। সে লক্ষ্যে জোড়া টাওয়ারের ৫০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
এছাড়াও ভবনটি ধ্বংসের সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল এবং হাসপাতালে কিছু জরুরি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো।
কুতুব মিনারের চেয়েও লম্বা এই জোড়া টাওয়ার ভেঙ্গে ফেলার কারণ হিসেবে জানা যায়, নিয়ম না মেনে নির্মাণ করা হয়েছিলো এটি।
নির্মাণ আইন অনুযায়ী, একটি অট্টালিকা থেকে আর একটির দূরত্ব কমপক্ষে ১৬ মিটার হওয়া উচিত।
কিন্তু যমজ অট্টালিকার ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয়নি, এই দু’টি অট্টালিকার মধ্যে দূরত্ব নয় মিটারেরও কম।
যদিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সুপারটেক এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। সেই মামলা শেষ হয় ২০২১ সালে।
শেষ পর্যন্ত এই দীর্ঘ বছর ধরে আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আদেশের ভিত্তিতে টাওয়ার দুটি ভেঙে ফেলা হয়।
নির্মাণের শুরু থেকেই বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে ছিল নয়ডার এই যমজ অট্টালিকা। আর মাটিতে মিশে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই বিতর্কের অবসান হল।