মাত্র ১৭ বছর বয়সে একা প্লেন চালিয়ে বিশ্ব ঘুরে গিনেস রেকর্ড করেছে বেলজিয়ান-ব্রিটিশ কিশোর ম্যাক রাদারফোর্ড।
গত বুধবার সে বুলগেরিয়ায় প্লেন নিয়ে অবতরণ করে। চলতি বছরের ২৩ মার্চ সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল বিশ্বভ্রমণ। এরপর পাঁচ মহাদেশের ৫২টি দেশে ঘুরে বেরিয়েছেন ম্যাক।
এর মধ্য দিয়ে জোড়া বিশ্ব রেকর্ড এখন তার দখলে। সবচেয়ে কম বয়সে এবং একা ছোট আকারের উড়োজাহাজ চালিয়ে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ।
গেলো ৫ মাসে তিনি পাড়ি দিয়েছেন এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা। বাদ যায়নি আন্টার্কটিকার বরফ কিংবা সাহারা মরুভূমিও।
তবে তার এই বিশ্ব ভ্রমণ মোটেই মসৃণ ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়ার পাশাপশি তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
খারাপ আবাহওয়ার জন্য প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে টানা ১০ ঘণ্টা ধরে উড়ে জনবসতিহীন আমেরিকার আট্টু দ্বীপে অবতরণ করতে হয়েছে তাকে।
সুদানে তীব্র গরমে বিমানের সোলার প্যানেল ভেঙে যায়। সেই সাথে বালু ঝড় এবং দুবাইয়ে চরম তাপ সহ্য করতে হয়েছে তাকে।
বর্ষায় ভারতের উপর দিয়ে ওড়ার সময় মূল জ্বালানির ট্যাঙ্কে পানি ঢুকে যায়।
এছাড়া চীনের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি তার। করোনা বিধিনিষেধের কারণে সিঙ্গাপুর, মিসর ও গ্রিসসহ কিছু দেশে অবতরণ করতে পারেননি তিনি।
তবে এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই ম্যাক আকাশ পথে পৃথিবী ভ্রমণে সফল হয়েছে।
এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এক সময় পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, মনে হচ্ছিল সফর শেষ করতে পারব না। তা সত্ত্বেও আমি হাল ছাড়িনি"।
ম্যাক আরও বলেন,
আমার বয়সী অনেক মানুষ আছে, যারা অনেক আশ্চর্যজনক কাজ করে। খুব কম লোকই তাদের সম্পর্কে জানে। আমরা একসাথে হলে দেখাতে পারব যে তরুণরা একটি পরিবর্তন আনতে পারে।’
সবশেষে সারাবিশ্ব ভ্রমণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। ম্যাক তার যাত্রায় একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলট্রালাইট বিমান ব্যবহার করেছে। যার ক্রুজিং গতি ঘণ্টায় ৩০০ কিমি।
এ ধরনের দীর্ঘ যাত্রার জন্য বিমানটিকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। ম্যাকের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আই,সি,ডি,সফট তাকে এই প্রচেষ্টার জন্য বিমানটি ঋণ দিয়েছে।
ম্যাকের আগে যুক্তরাজ্যের ট্রাভিস লুদলো নামের একজনের দখলে ছিল এ রেকর্ড। গত বছর তিনি ১৮ বছর বয়সে উড়োজাহাজ চালিয়ে একা বিশ্বভ্রমণ করেছিলেন।
এদিকে ম্যাকের দখলে আরেকটি রেকর্ড রয়েছে। ২০২০ সালে উড়োজাহাজ চালানোর লাইসেন্স পায় ম্যাক। তখন ম্যাকের বয়স মাত্র ১৫ বছর। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী বৈমানিকের রেকর্ড গড়ে সে।
শৈশব থেকে তার বেড়ে ওঠা বেলজিয়ামে। সেখানেই তার বাড়ি। ম্যাকের পরিবারকে একটি ফ্লাইং পরিবার বলা যায়।
কারণ তার বাবা স্যাম একজন পেশাদার পাইলট। বাবার সাথে অনেক জায়গায় উড়েছেন ম্যাক। মা বিটরাইস একজন প্রাইভেট পাইলট।
মজার বিষয় হলো, ম্যাকের বোন জারার উড়োজাহাজ চালানোর শখ রয়েছে। এর আগে তিনিও একা একা উড়োজাহাজ চালিয়ে বিশ্বভ্রমণ করেছেন। তখন জারার বয়স ছিল ১৯ বছর।
পরিবার সম্পর্কে ম্যাক বলে, ‘আমি ভাগ্যবান যে এমন একটি পরিবার পেয়েছি। তাদের জন্য আমি উড়তে পেরেছি।