বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এবং অন্যতম ব্যয়বহুল সাবমেরিন চালু করেছে যুক্তরাজ্য। দীর্ঘ এগারো বছরের চেষ্টায় তৈরি করা এই নৌযানে জ্বালানী নেয়ার প্রয়োজন হবে না কখনো।
সম্প্রতি আড়ম্বর পূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের নৌবহরে অত্যাধুনিক এই সাবমেরিন যুক্ত করে করেছে দেশটি।
নতুন ডুবোজাহাজের নাম রাখা হয়েছে এইচএমএস অ্যানসন। যেটির দৈর্ঘ্য ৩১৭ ফুটের বেশি। যা একটি ত্রিশ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী ভবনের উচ্চতার সমান।
প্রায় ৭ হাজার ৮০০ টন ওজনের এই ডুবোজাহাজ তৈরিতে যুক্তরাজ্যের সময় লেগেছে এগারো বছরের বেশি। আর এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো।
বিশাল বাজেটে তৈরি এ ডুবোজাহাজ অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধায় পরিপূর্ণ। দেশটির রয়াল নেভি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের এই সাবমেরিন নিজের অবস্থান থেকে ১৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে কোনো লক্ষ্য বস্তুর উপর নিখুঁত ভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
পানির নিচে এটি সব সময় সজ্জিত থাকবে ৩৮টি টর্পেডো এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে। যার মাধ্যমে সাগরের বুকে অপ্রতিরোধ্য নৌযানে পরিনত হবে।
অপরদিকে অ্যানসন নামের এই ডুবোজাহাজ তৈরি করা হয়েছে একাধিক বিষয়কে মাথায় রেখে। নিজেদের নৌবাহিনীর অন্যান্য জাহাজ রক্ষা করার পাশাপাশি, গোয়েন্দাগিরি করতেও সক্ষম হবে এটি।
অত্যাধুনিক এই সাবমেরিন এসটিউট শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে পুরো বিশ্বের মধ্যে এই শ্রেণীর ডুবোজাহাজই সবচেয়ে বড় এবং উন্নত।
এটির নামকরণ করা হয়েছে দেশটির সাবেক নৌবাহিনী সদস্য জর্জ অ্যানসনের নামে। যিনি চার বছর নৌপথে ঘুরে ভ্রমন করেছিলেন পুরো বিশ্ব।
ব্রিটেনের নতুন এই সাবমেরিন সর্বোচ্চ ত্রিশ নট গতিতে চলাচল করবে পানির নিচে। এর ভেতরে একসাথে দীর্ঘদিন অবস্থান করতে পারবেন প্রায় একশোর মতো নাবিক।
রয়াল নেভি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে অত্যাধুনিক এই সাবমেরিন চলাচল করবে পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করে।
এটির ভিতরেই রয়েছে একটি চুল্লী। ফলে ২৫ বছরের জীবন কালে কখনোই জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হবে না এতে।
অপরদিকে, ব্রিটেনের নতুন এ সাবমেরিন সাগরের নিচে থেকেই বাতাস এবং খাওয়ার পানি পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম। যার মানে এই ডুবোজাহাজ পানির উপর ভেসে না উঠেই ভ্রমণ করতে পারবে পুরো বিশ্ব।
তবে এটির নির্মান যাত্রা সহজ ছিলো না রয়াল নেভির জন্য। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ডুবোজাহাজ তৈরি করতে ১১ বছর ধরে প্রায় দুই কোটি ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছেন প্রযুক্তিবিদরা।
তাদের মতে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন তৈরির প্রযুক্তি কৌশল ছিলো এর থেকেও সহজ।
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই সাবমেরিন চালু করা হলেও আরো কিছুদিন থাকবে পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে। প্রযুক্তিবিদরা পরীক্ষা করে দেখবেন জাহাজটির খুঁটিনাটি বিষয়। সবশেষে চুড়ান্ত ভাবে ব্রিটেনের সমুদ্র শাসনের কাজে ব্যবহার হবে এটি।
দেশটির শীর্ষ এক নৌবাহিনী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি তাদের প্রযুক্তির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এর মাধ্যমে অদৃশ্য এবং নিঃশব্দ আক্রমণ এর ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাস্ট্রে পরিনত হয়েছে ব্রিটেন।
ব্রিটিশ রয়াল নৌবাহিনী তে অত্যাধুনিক এসটিউট ক্লাস সাবমেরিনের যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে। বর্তমানে এই শ্রেনীর পাচ পাচটি ডুবোজাহাজের মালিক এই দেশ।