গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা নারী তুরস্কের রুমেইসা গেলগি। তার উচ্চতা ৭ ফিটের চেয়েও বেশি।
এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে' লম্বা কিশোরী হিসেবেও তিনি গিনেজ বুকে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন।
বর্তমানে শুধু সবচেয়ে লম্বা নারীর খেতাবই নয়, তার রয়েছে আরো তিনটি বিশ্বরেকর্ড। নারীদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ আঙুল, দীর্ঘতম হাত এবং সবচেয়ে দীর্ঘ পিঠের রেকর্ডও তার দখলে।
উইভার সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই গেলগি এমন অস্বাভাবিক উচ্চতার অধিকারী হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি কাজ করছেন একজন অ্যাডভোকেট এবং রিসার্চার হিসেবে। ঘুরতে বড্ড ভালোবাসেন তিনি। কাজ করেন বিভিন্ন বডি পজিটিভিটি ক্যাম্পেইনের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে।
গেলগির জন্ম ১৯৯৭ সালের পহেলা জানুয়ারি। ইতোমধ্যেই জীবনের পঁচিশ বছর পেরিয়ে আসা এই নারী নিজের বিশেষত্বটি নিয়ে দারুণভাবে ইতিবাচক।
তিনি বলেন, 'প্রতিটি অসুবিধাই আপনার জন্য সুবিধার কারণও হয়ে উঠতে পারে। তাই আপনি যেমন, নিজেকে সেভাবেই গ্রহণ করুন। নিজের ওপর আস্থা রাখুন এবং যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যান।'
তবে এমন শারীরিক গঠনের জন্য শৈশবে তাকে অনেক নেতিবাচক মন্তব্যের সম্মুখীন হতে হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো মানুষই যেন সমাজে তার মতো পরিস্থিতিতে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই কাজ করছেন তিনি।
গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে এতবার জায়গা করে নেয়ায় দারুণ উচ্ছ্বসিত এই নারী। নিজের এ অর্জনে তিনি বলেন,
'রেকর্ড গড়াটা নিঃসন্দেহে আনন্দের। আর এ রেকর্ডগুলো আমায় নিজের লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছে ও আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।'
অবসর সময়গুলো রুমেইসা পরিবারের সঙ্গে কাটাতেই বেশি পছন্দ করেন৷ হুইলচেয়ারে চলাফেরা করলেও ভালোবাসেন সাঁতার কাটতে। তবে তার পরিবারের অন্য কেউ উইভার সিন্ড্রোমে আক্রান্ত নন।
অবাক করা বিষয় হলো, জীবিতদের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা পুরুষ সুলতান কোসেনও তুরস্কেরই বাসিন্দা। তার উচ্চতা ৮ ফুট ২.৮ ইঞ্চি।
গিনেস কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা জীবিত নারী ও পুরুষ দু'জনেই তুরস্কের বাসিন্দা হওয়া নিঃসন্দেহে একটি বিরল ঘটনা।
তবে এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০০৯ সালে চীনের বাও জিশুন নামক এক ভদ্রলোক ৭ ফুট ৮.৯৫ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে পেয়েছিলেন বিশ্বের সবচে' লম্বা জীবিত পুরুষের খেতাব।
ঠিক একই সময়ে চীনেরই আরেক নারী ইয়াও ডিফেন ৭ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে বিশ্বের সবচে' লম্বা জীবিত নারীর রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন।
তবে গেলগি, ডিফেন সবাইকে পেছনে ফেলে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা নারী হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়ে আছেন চীনের হুনান প্রদেশের জেং জিনলিয়ান, যার উচ্চতা ছিল ৮ ফুট ১ ইঞ্চি। ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই নারী মৃত্যুবরণ করেন।
অন্যদিকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা পুরুষের রেকর্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ওয়াডলো এর দখলে। তার উচ্চতা ছিলো ৮ ফুট ১১.১ ইঞ্চি।
মাত্র ২২ বছর বয়সে পিটুইটারি হাইপারপ্লাসিয়াতে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪০ সালের ১৫ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এছাড়াও গিনেজ রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন ট্র্যাপস নামের এমন একটি পরিবার, যার প্রত্যেক সদস্যই উচ্চতায় ৬ ফিটের ওপরে।
তাদের সবার উচ্চতাকে একসাথে জোড়া দিলে একটি টেনিস কোর্টের অর্ধেক দৈর্ঘ্যকেও অতিক্রম করে ফেলতে পারে!
পরিবারটির সদস্যরা বলেন, জীবনে অনেকবার তারা নিজেদের অতিরিক্ত উচ্চতার জন্যে সমাজের কাছে হাসির পাত্র হয়েছেন।
কিন্তু সব অপমানকে পেছনে ফেলে এখন এই বিশ্বরেকর্ডটিই তাদের কাছে সম্মানের সাথে বাঁচার নতুন অনুপ্রেরণা।