সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ষোল হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত চীনের চিং জাং রেল লাইন। এটি বিশ্বের সবথেকে উঁচু রেল পথ। যার দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার নয়শো সাতান্ন কিলোমিটার।
একে গোলমাদ - লাসা রেল লাইন নামেও ডাকা হয়। এত উচু রেল লাইনটিতে প্রায় চল্লিশটিরও বেশি স্টেশন রয়েছে। সেখান থেকে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা চার পাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।
এই পথে চলাচল করা ট্রেনের শিডিউল এমন ভাবে নির্ধারণ করা হয়, যেনো দর্শনার্থীরা আশে পাশের দৃশ্য গুলো উপভোগ করার পর্যাপ্ত সময় পান।
গোলমাদ - লাসা রুটের ট্রেন গুলোর ভেতরকার পরিবেশ খুবই আরামদায়ক হয়ে থাকে। ফলে, যাত্রীদের কাছে ভ্রমণটি আরো বেশি উপভোগ্য হয়ে দাঁড়ায়।
এত উচুতে অক্সিজেনের পরিমান অনেক কম। তাই, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বদা ট্রেনের ভেতরে অক্সিজেনের ব্যাবস্থা রাখে কর্তৃপক্ষ। যাত্রাপথ ট্রেন গুলো বিশ্বের সবথেকে উঁচু রেলওয়ে টানেলটির মধ্য দিয়েও যায়।
বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম রেললাইনটি হচ্ছে লিমা -হুয়ানকায়ো। এটি দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিস পর্বতমালার উপরে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এটি প্রায় পনেরো হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত।
পেরুর রাজধানী লিমা হতে আন্দিস পর্বত মালার সবথেকে উঁচু শহর হুয়ানকায়ো পর্যন্ত এটি বিস্তৃতি। এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রেন গুলোকে সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
যাত্রাপথে আরোহীরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। রুটটিতে নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেন না থাকলেও দেশটির সরকার পর্যটকদের জন্য মাস জুড়ে বেশ কয়েকবার ট্রিপের ব্যাবস্থা করে।
যাত্রাপথ অনেক উঁচুতে অবস্থিত হওয়ার কারণে সেখানে প্রায়শই অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা যায়। তাই, যাত্রীদের সুবিধার্থে অক্সিজেনও সরবরাহ করতে হয় রেল কর্তৃপক্ষকে।
বলিভিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ উঁচু রেললাইন রিও মুলাতোস-পোটোসি। এটিও সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে পনের হাজার ফুট উপরে অবস্থিত।
মূলত খনি হতে রূপা সহ নানান খনিজ পদার্থ পরিবহনের উদ্দেশ্যে রেললাইনটি তৈরী করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যাত্রীবাহী ট্রেনও সেখান দিয়ে চলাচল করা শুরু করে।
লাইনটি উঁচুতে অবস্থিত হওয়ার কারণে সেখানকার বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা তুলনামূলক ভাবে অনেক কম থাকে।
তাই, হার্ট দুর্বল বা শ্বাসকষ্ট রোগীদের রিও মুলাতোস-পোটোসি লাইনে ভ্রমণের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়।
বিশ্বের চতুর্থ উচ্চতম রেললাইনটি হচ্ছে টিটিকাকা রেলপথ। এটি বিশ্বের সব থেকে উচ্চতম হ্রদ টিটিকাকার উপর অবস্থিত। যা সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে চৌদ্দ হাজার একশো পঞ্চাশ ফুট উঁচু।
এটিও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে রয়েছে। বিলাসবহুল এই রেলওয়ে পথটি বিশেষভাবে পর্যটকদের জন্যই তৈরী করা হয়েছে।
আন্ডিস পর্বতমালার কুসকো থেকে পেরুর পুনো পর্যন্ত অবিশ্বাস্য ট্রেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় এর মাধ্যমে।
সেখানকার ট্রেন গুলো এতটাই বিলাসবহুল যে, ভেতরে রয়েছে আলাদা করে কেবিন, জুস বার, নাচ গান ও নৈশ্য ভোজের ব্যাবস্থা। পুরো ভ্রমন সম্পন্ন করতে যাত্রীদের প্রায় সাড়ে দশ ঘন্টার মতো সময় লাগে।
বিশ্বের পঞ্চম উঁচু রেললাইনটি হচ্ছে ম্যানিটোউ এন্ড পাইক'স পিক রেলওয়ে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলরাডোতে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে যার উচ্চতা চৌদ্দ হাজার ফুট।
ম্যানিটোউ স্প্রিংস থেকে পাইক'স পিকের চূড়া অব্দি এটি বিস্তৃত। পথটির দৈর্ঘ্য প্রায় চৌদ্দ দশমিক তিন কিলোমিটার। স্থাপনের পর থেকেই এটি নিয়মিত পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য ব্যাবহার হয়ে আসছে।
তবে, ট্রেনটি শুধুমাত্র গরমের সময়ই চলাচল করে। কারণ, শীত কালে পাইক'স পিকের চূড়া বরফে ঢেকে যাওয়ার ফলে রেললাইনটি অনেক বিপদজনক হয়ে উঠে।