নিজের বিয়ের জন্য জমানো টাকা দিয়েই রাস্তা তৈরি করলেন এক যুবক। এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।
প্রায় ২৫ বছর ধরে গ্রামে পাকা রাস্তা নেই। গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে বার বার গিয়েও পাকা রাস্তার ব্যবস্থা করা যায় নি। তাই রাস্তা তৈরির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন গ্রামেরই পি চন্দ্রশেখরণ নামের বিয়ের পাত্র।
একত্রিশ বছর বয়সী এই যুবক কাজ করছেন তামিল নাড়ুর এক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে। সম্প্রতি বিয়ের জন্য জমানো সাড়ে দশ লাখ রুপি দিয়ে নিজ গ্রামে তৈরী করেছেন পাঁকা রাস্তা।
ঘটনাটি ঘটেছে তামিরনাড়ুর ভিল্লুপুরুম জেলার ভানুর থেকে বেশ কিছুটা দূরে নল্লাভুর গ্রামে।
চেন্নাইয়ের এইচ সি এল ট্যাকনোলজিস লিমিটেডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পি চন্দ্রশেখরনের বিয়ের হওয়ার কথা ছিল চলতি মাসের এক তারিখ। বিয়ের জন্য প্রায় দুই বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমাচ্ছিলেন তিনি।
কিন্তু নিজ গ্রাম নল্লাভুরের পঁচিশ বছরের পুরাতন ভাঙ্গাচোরা রাস্তাটি ক্রমেই গ্রামবাসীর দুর্দশার কারন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তাই তিনি নিজ অর্থায়নের তৈরী করে দেন ২৮০ মিটার লম্বা রাস্তাটি।
ভাঙ্গা রাস্তা মেরামতে প্রশাসন ছিল উদাসীন। বার বার তাগাদা দেয়ার পর তারা জানায় রাস্তা তৈরীর পর্যাপ্ত অর্থ তাদের কাছে নেই। প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হলে তবেই হবে রাস্তা।
এদিকে নল্লাভুর গ্রামে মোট সাতটি পাঁকা রাস্তা থাকলেও ঈশ্বরন কোয়েল স্ট্রিটে বসবাসরত পি.চন্দ্রশেখরনসহ আরো পঞ্চাশটি পরিবারের সামনের রাস্তাটি চলাচলের জন্য অনুপযুক্ত ছিল। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ এই কর্দমাক্ত রাস্তাটিতে পিছলে পড়ে আহত হতেন।
এ অবস্থায় প্রসাশনের অপেক্ষায় বসে থাকলে আরো বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বিধায় পি.শেখরন নিজের জমানো অর্থ দিয়ে রাস্তা তৈরীর সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
চন্দ্র শেখরন তামিলনাড়ুর গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি যখন প্রাথমিকের ছাত্র ছিলেন তখন রাস্তাটি বানানো হয়।
পড়াশোনা শেষ করে আজ তিনি চাকরিজীবী হয়ে গেছেন, কিন্তু এই সড়কের এতোদিনেও কোন উন্নতি নেই। গ্রামবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ তাকে পীড়া দিতো।
তিনি ভানুরের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যোগাযোগ করেন এবং রাস্তা বানানোর জন্য অনুমতির চেষ্টা চালিয়ে যান।
নিজের টাকায় রাস্তা তৈরির প্রস্তাব নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার পর তাঁরা চন্দ্রশেখরণকে আনুমানিক খরচের অর্ধেক দিতে বলেন
কিন্তু পরে তিনি দেখেন সরকার রাস্তা তৈরি করতে যে টাকা বরাদ্দ করেছে তা যথেষ্ট নয়। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজের সঞ্চয় থেকেই এই রাস্তা বানাবেন।
কিন্তু কাজটা এতো সহজ ছিল না,প্রতি পদে পদে বাঁধার সম্মুখিন হচ্ছিলেন তিনি। চন্দ্রশেখরনের বাবা-মা এস.পেরুমাল এবং পি লক্ষ্মী জানান, স্থানীয় রাজনীতিবিদেরা ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিল তাদের ছেলেকে। কিন্তু তাদের ছেলে দমে যাননি।
অবশেষে ভিল্লুপুরানের গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থায কর্মরত এক বন্ধুর সহায়তায় রাস্তা নির্মাণের সম্পূর্ণ খরচ বহনের অনুমতি পান শেখরন।
মার্চ মাসে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং জুলাই মাসে কাজটি শেষ হয়। রাস্তাটি দৈর্ঘ্যে ২৮০ মিটার, চওড়ায় ১৪ ফুট, পুরুত্বে ১৫ সেন্টিমিটার।