পৃথিবীতে এমন একটি দেশ রয়েছে, যেখানে মানুষের তুলনায় ভেড়ার সংখ্যা বেশি। ব্রিটেনের অধীনে থাকা দেশটির নাম হলো স্কটল্যান্ড।
এটি ইউরোপের অন্যতম মাংস উৎপাদনকারী দেশ। এছাড়া এই দেশে ভেড়ার পশম দিয়ে তৈরি নরম পশমি শীতবস্ত্র সারা বিশ্বে খ্যাতি লাভ করেছে।
এমনকি স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারটিও তৈরি করা হয় ভেড়া থেকেই। যার নাম হলো হ্যাগিস।
স্কটল্যান্ড ইতিহাস ঐতিহ্য আর স্থাপত্যে ভরপুর এক দেশ। এটি গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত।
সুন্দর স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব কিছু নিদর্শন স্কটল্যান্ডকে ইউরোপের অন্য দেশগুলো থেকে আলাদা করে রেখেছে।
দেশটির বড় বড় শহরগুলোর দিকে তাকালেই দেখা যাবে এসব স্থাপত্যের আধিপত্য। সবচেয়ে বড় শহরের নাম হলো গ্লাসগো।
এটি পৃথিবীর বানিজ্যিক শহর গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। একে চার্চের শহর হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
গ্লাসগো গত কয়েক দশক ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে নিজের আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য এখানে রয়েছে চমৎকার জাদুঘর, আর্ট গ্যালারিসহ নানান রকমের জায়গা। এছাড়া সারা বছর ধরে পালিত হওয়া নানা উৎসব তো আছেই।
স্কটল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী এডিনবরা ১,৩০০ বছরের পুরনো এবং সংস্কৃতি ও ইতিহাসে পরিপূর্ণ। এটি দেশের রাজধানী হিসেবে পরিচিত।
এডিনবরা শহরটির দু’টি ভাগ। একটি হলো মধ্যযুগে বানানো ‘ওল্ড টাউন’ এবং অন্যটি ১৮-১৯ শতকে গড়ে ওঠা ‘নিউ টাউন’।
এখানে আসলে স্কটল্যান্ডের আভিজাত্য সবচেয়ে বেশি বুঝা যায়। প্রাচীন দুর্গ আর মিউজিয়াম একে পর্যটকদের কাছে স্কটল্যান্ড সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
লন্ডনের পর এডিনবরা শহরই ইউরোপের দ্বিতীয় জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। শহরটি এতটাই পরিষ্কার ও সুন্দর যে, পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
এডিনবরার রয়্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেন পৃথিবীর অন্যতম পুরনো ও সুন্দর রক গার্ডেন। অনেক দুষ্প্রাপ্য গাছ দেখার সুযোগ আছে উদ্যানটিতে। জীব বৈচিত্র্য সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায় এখানে আসলে।
স্কটল্যান্ডের আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো এখানকার হ্রদগুলো। দেশটিতে প্রায় ত্রিশ হাজারেরও বেশি হ্রদ রয়েছে।
এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হ্রদ হলো ‘লখ নেস’। এখানে এক রহস্যময় কল্পিত দানবের বাস বলে জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।
হ্রদটি পশ্চিমে স্কটিশ হাইল্যান্ড ও উত্তরে ইনভারনেস পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে পর্যটকদের জন্য ক্রুজের ব্যবস্থা রয়েছে।
ক্রুজে করে নেসির নামক অজানা সে দৈত্যের খোঁজে এখনও লক্ষ লক্ষ পর্যটক ভিড় জমান হ্রদের ধারে। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করার মতো।
লখ নেসের মতোই বিখ্যাত এবং পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় আরেকটি হ্রদ লখ লমন্ড। এর প্রধান আকর্ষন হচ্ছে, বোটিং। ছোট ছোট নৌকা নিয়ে অবাধে স্নিগ্ধ প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়া যায়।
১৯৯৯ সাল থেকে স্কটল্যান্ডের নিজস্ব আইনসভা চালু করা হয়েছে। তখন থেকেই তারা স্বায়ত্বশাসন ভোগ করে আসছে।
বহু দিন ধরেই স্কটল্যান্ডের একটা বড় অংশ ‘স্বাধীনতা’র দাবি তুলছে। এই নিয়ে ২০১৪ সালে এখানে একটি গণভোট হয়। ৪৪.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে হেরে যান স্বাধীনতাকামীরা।
যদিও এখনো তারা যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হয়ে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছে।