অন্যান্য


অস্বাভাবিক ভাবে দেশে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

অস্বাভাবিক ভাবে দেশে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা!

দেশে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দেশে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে চার হাজার আটশো ষাটটি।

চলতি বছরের মার্চ মাসে যেখানে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবধারির সংখ্যা ছিলো এক লাখ তিন হাজার নয়শো সাতানব্বইটি। তিন মাসের ব্যবধানে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ আট হাজার চারশো সাতান্নটিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দূর্যোগ বা সংকটের মূহুর্তে এক শ্রেণীর মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি আরেক শ্রেণীর মানুষ প্রচুর মুনাফা করে থাকে।

তিন মাসের ব্যবধানে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সেটাও একটা কারণ। তবে তাদের মতে, আমাদের দেশে কোটিপতি বৃদ্ধির অন্যতম কারন দেশে বিদ্যমান আয়ের বৈষম্য।

করোনা মহামারীর শুরুতে ২০২০ সালের মার্চ মাসে দেশের ব্যাংক গুলোতে এক কোটি টাকার বেশি থাকা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিলো বিরাশি হাজার ছয়শো পঁচিশটি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়।

এই বছরের জুনে এসব অ্যাকাউন্টে আমানতের পরিমাণ ছিল ছয় লাখ আশি হাজার তিনশো বাষট্টি কোটি টাকা। মার্চের শেষে যার পরিমাণ ছিলো ছয় লাখ তেষট্টি হাজার পাচশো পাঁচ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, মোট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তুলনায় কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা এক ভাগও নয়। কিন্তু এসব অ্যাকাউন্টে মোট আমানতের তেতাল্লিশ শতাংশেরও বেশি টাকা আছে।

চলতি বছরের জুনের শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমান চৌদ্দ লাখ একাত্তর হাজার কোটি টাকার বিপরীতে, কোটিপতিদের টাকার পরিমান ছয় লাখ আশি হাজার তিনশো বাষট্টি কোটি টাকা।

তবে শুধু ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কারন অনেক কোটিপতিই টাকা পাচার করে বিদেশের ব্যাংকে জমা রাখে।

এছাড়াও টাকা ব্যাংকে না রেখে বিভিন্ন খাতে যারা বিনিয়োগ করছে তাদের সম্পদের পরিমাণও এখানে হিসেবে আসছে না।

আবার ব্যাংকারদের মতে কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট গুলো সবগুলোই ব্যাক্তিগত নয়। এদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টও রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থারও কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

দেশে বর্তমানে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব গুলোর মধ্যে এক থেকে পাঁচ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের পরিমাণই বেশি।

এই ধরনের ব্যাংক হিসাবের পরিমান আটাশি হাজার আটশো আটচল্লিশটি। যেগুলোতে মোট এক লাখ ছিয়াত্তর হাজার কোটি টাকা জমা আছে। যা মোট আমানতের প্রায় ১১.২৪ শতাংশ।

পঞ্চাশ কোটি বা তার উপরে জমা আছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বর্তমানে আঠারোশো পাঁচটি। যেগুলোতে মোট আমানতের ১৫.০৫ শতাংশ বা দুই লাখ ছত্রিশ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে।

গত কয়েক দশক আগেও যেখানে কোটিপতি ব্যাংক হিসাব ছিলো হাতে গোনা কয়েকটি, সেখানে  গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে অস্বাভাবিক ভাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচটি, যা ১৯৭৫ সালে সাতচল্লিশটিতে উন্নীত হয়।

১৯৮০ সালে এসে যার পরিমান দাঁড়ায় আটানব্বইটিতে। এক দশকের ব্যবধানে যা প্রায় দশ গুন বেড়ে হয় নয়শো তেতাল্লিশটি।

এরপর ১৯৯৬ সালে দুই হাজার পাঁচশো চুরানব্বইটি, ২০০১ সালে পাঁচ হাজার একশো বাষট্টিটি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি, ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি।

২০১৫ সালে কোটিপতি হিসাবের পরিমান ছিলো ৫৭ হাজার ৫১৬টি। বিগত কয়েক বছরে যা বেড়ে লাখের ঘর ছাড়িয়ে গেছে।


জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।