পৃথিবীতে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পারা প্রাণীদের মধ্যে প্রথম স্থানে আছে আর্কটিক টের্ন নামের একটি পাখি।
আর্কটিক সার্কল থেকে যাত্রা শুরু করে অ্যান্টার্কটিক সার্কলে গিয়ে পৌঁছায় তারা। এর মাধ্যমে মাত্র ১১৩ গ্রাম ওজনের এই পাখিটি অতিক্রম করে ৭১ হাজার কিলোমিটার পথ।
আরো অনেক পাখিরই বিশাল পথ অতিক্রম করার রেকর্ড রয়েছে। তবে আর্কটিক টের্নের এত বেশি দূরত্ব পাড়ি দেয়ার সক্ষমতা বিজ্ঞানীদের কাছে আজো এক বিস্ময়।
এমনই অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী আরেকটি পাখির নাম সুটি শিয়ারওয়াটার। প্রতিদিন গড়ে ৯০০ থেকে ১,০০০ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে সক্ষম তারা।
পায়রার মতো দেখতে এই পাখিটির সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার রেকর্ড রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের আশেপাশের অঞ্চলে খুজে পাওয়া যায় এদেরকে।
সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারা প্রানীদের মধ্যে অন্যতম একটি নাম হাম্পব্যাক তিমি। অভিবাসন মৌসুমে এরা ২৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়।
এই প্রজাতির তিমি মাছ বিশ্বের পাঁচটি মহাসাগরকেই ছুঁয়ে যায়৷ প্রকাণ্ড আকারের স্তন্যপায়ী প্রাণীটি খুবই তৎপরভাবে জলে ডুব দিতে ও নিজের দেহকে নড়াচড়া করতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাস করা একটি প্রানীর নাম নর্দার্ন এলিফ্যান্ট সিন্ধুঘোটক। এরা প্রতিবছর নির্দিষ্ট জায়গা থেকে যাত্রা শুরু করে পুনরায় একই স্থানে ফিরে আসে।
বছরে গড়ে ২১,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়
নর্দার্ন এলিফ্যান্ট সিন্ধুঘোটক। এই প্রাণীটি বছরের বেশ কিছু মাস সমুদ্রে বাস করে৷
লম্বা পথ পাড়ি দেয়ার তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছে লেদারব্যাক কচ্ছপ। সমুদ্রে বাস করা প্রানীটি প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর অনায়াসেই পাড়ি দেয়৷
জেলিফিশ শিকার করার উদ্দেশ্যে এরা আটলান্টিক মহাসাগরের এক প্রান্ত থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার পাশের প্রশান্ত মহাসাগরে যায়।
এই কচ্ছপগুলো সর্বোচ্চ ২০,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।
ফড়িংয়ের কিছু বিশেষ প্রজাতি চার প্রজন্ম ধরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় উড়ে বেড়ায়৷ এরা ১৭,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ অতিক্রম করার ক্ষমতা রাখে।
শীতকালে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে উড়ে আসতে শুরু করে৷ দীর্ঘ পথ উড়ে যেতে পারা এই ফড়িংরা বাতাস ও পৃথিবীর চৌম্বকীয় শক্তির সাহায্যে দিক নির্ধারণ করে৷
কানাডার সমুদ্র তীরে বাস করা এক পাখির নাম সেমিপালমেটেড স্যান্ডপাইপার। ৫ হাজার ৩ শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার সক্ষমতা আছে তাদের।
শীতকাল শুরু হওয়ার ঠিক আগেই মূল বাসস্থান ছেড়ে অ্যামেরিকার দক্ষিণের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয় এই পাখি৷ ঝাঁক বেধে একবারে গোটা আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার ক্ষমতা রাখে তারা৷
দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করতে পারা প্রাণীদের মধ্যে রেইনডিয়ার উল্লেখ্য। সর্বোচ্চ ৫০০০ কিলোমিটারের মত দূরত্ব অতিক্রম করার রেকর্ড আছে এই প্রাণীর।
ইউরোপ, এশিয়া আর উত্তর অ্যামেরিকার শীতল প্রদেশে এদেরকে দেখতে পাওয়া যায়৷ বরফ গলতে শুরু করলে সবুজ ঘাসের আশায় এরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাড়ি জমায়। একদিনে ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করতে পারে এই প্রানী৷
মোনার্ক প্রজাপতির জন্ম কানাডা আর উত্তর অ্যামেরিকায়। কিন্তু শীতকাল আসার আগেই হাজার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পৌঁছায় মেক্সিকোতে৷
সর্বোচ্চ ৪,৮০০ কিলোমিটারের মত পথ উড়ে যেতে পারে তারা। অল্প কয়েক মাস বেঁচে থাকতে পারা এই প্রজাপতি ফড়িয়ের মত পৃথিবীর চৌম্বকীয় শক্তির সাহায্যে চলার দিক নির্ধারণ করে থাকে।
দূরত্ব অতিক্রমের দিক দিয়ে দশম অবস্থানে আছে স্যামন মাছ। ৩৮০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবার সক্ষমতা আছে তাদের।
সাধারণত ঠান্ডা পানিতে বসবাস করা এই প্রাণী ডিম পাড়ার সময় হলে নদী থেকে সমুদ্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়৷ তিন থেকে চার বছর পর প্রজনন মৌসুম শেষ হলে ফিরে আসে ঠাণ্ডা জলের নদীতে এবং সেখানেই বসবাস করে।