বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়ির তকমা পেয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ ৩০০। যার বাজার মূল্য ১৪২ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা।
গত ৫ মে, গাড়িটি নিলামে তুলা হয়। এ যাবতকালে নিলামে তোলা সর্বোচ্চ মূল্যের গাড়ি এটি।
যেটি কিনেছেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ধনকুবের সাইমন কিডস্টন। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়ির স্বীকৃতি দিয়েছে একে।
এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়ি ছিল ফেরারি ২৫০ জিটিও। ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হয় এটি। এর দাম পরেছিল ৭০ মিলিয়ন ডলার।
তবে এবার দ্বিগুণ মূল্য পেয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জের গাড়ি। এটি এত দিন জার্মানির স্টুটগার্টে মার্সিডিজ-বেঞ্জ যাদুঘরে ছিল। সেখানে প্রথমে এর দাম ওঠে প্রথম ১১৫ ও ১৩৫ মিলিয়ন। সবশেষ বিক্রি হয় ১৪২ মিলিয়নে।
এই আসরে শুধুমাত্র আমন্ত্রিতরাই অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সুইস, ইতালিয়ান, ইংলিশ, মার্কিন ক্রেতারা ছিলেন সেখানে।
বিশ্বের দামি ও বিলাসবহুল গাড়ি কোম্পানিগুলোর মধ্যে মার্সিডিজ বেঞ্জের রয়েছে নিজস্ব পরিচিতি।
বিখ্যাত এই প্রতিষ্ঠান গাড়ি নির্মান করছে ১৮৮৬ সাল থেকে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ১১ গাড়ির মধ্যে তিনটিই এই প্রতিষ্ঠানের।
এর মধ্যে অন্যতম ও সবচেয়ে দামি গাড়ি হচ্ছে ৩০০ এসএলআর উহলেনহাউট কুপ। ১৯৫৫ সালে প্রথম বারের মতো বাজারে এসেছিল এটি।
সেসময় ৩০০ এসএলআর উহলেনহাউট কুপ মডেলের মাত্র দুইটি গাড়ি তৈরি করে মার্সিডিজ-বেঞ্জ। এর মধ্যে একটিও কখনও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হয়নি।
গাড়িটির ডিজাইন করেছিলেন প্রকৌশলী রুডলফ উহলেনহাট। তার নামানোসারেই এই গাড়ির নামকরণ করা হয়।
শুরু থেকেই গাড়িটি ছিল একটি রেসিং কার। বেশ জনপ্রিয় ছিল এটি।
সে সময় মার্সিডিজ-বেঞ্জের রেস কারগুলো
নাৎসিদের দ্বারা চালিত হত। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এগুলো চলে যায় বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত রেসারদের কাছে।
বিলাসবহুল এই গাড়িটি একাধিক গ্র্যান্ড প্রিক্স জিতেছে। পাশাপাশি নজর কেড়েছে বিশ্ববাসীর।
শুরুতে ১৮০বিএইচপির একটি স্ট্রেট-৬ ইঞ্জিন ছিল এতে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ২৪০বিএইচপি পর্যন্ত বেড়েছে। এখন এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৮৬ মাইল।
এ মডেলের গাড়িগুলোর দরজা অনেকটা পাখির পাখার মতো খুলে যায় বলে একে ‘গলিউইং’ বলা হয়। এই বিশেষ ফিচারের জন্য শৌখিন গাড়ি সংগ্রকারীদের কাছে যথেষ্ট সমাদৃত এটি।
মার্সিডিজ বেঞ্জ তাদের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৯৩০ ও ১৯৫০ এর দিকের রেসিং কারগুলো বর্তমান বাজারে অনেক দুর্লভ।
এ সময়ের বেশিরভাগ মডেলের গাড়িগুলো ফ্যাক্টরি মালিকদের কাছে রয়েছে। খুব কম সংখ্যক গাড়িই সাধারণ মানুষ কিনতে পারে। তাছাড়া কিনতে গেলেও গুনতে হয় মোটা অঙ্কের অর্থ।
বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই গাড়িটিকে ভবিষ্যতে আরও চড়া মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন এর মালিক, এমনটাই ধারণা করছেন গাড়ি বিশেষজ্ঞরা।
গাড়িটির মালিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিশেষ অনুষ্ঠানে একে সর্বসাধারণের সামনে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবেন তিনি।
এদিকে এ গাড়ি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে মার্সিডিজ বেঞ্জ ফান্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখান থেকে বিশ্বব্যাপী স্কলারশিপ দেয়া হবে।