মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না তা জানতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে নাসার পাঠানো রোবট "পারসিভারেন্স রোভার"।
তারই ধারাবাহিকতায় লাল বর্ণের এই গ্রহে প্রাচীনকালে কোন জীবের অস্তিত্ব ছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি জানা গেছে রোবটটি ইতিমধ্যে কিছু জোড়ালো প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
মঙ্গল গ্রহের "জ্যাজেরো ক্রেটর" নামের আলোচিত এক এলাকা থেকে কিছু পাথুরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যার ভেতরে পাওয়া গেছে জৈব উপাদান।
নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে জ্যাজেরো ক্রেটরে ডেল্টা নদী প্রবাহিত হতো। তারা মনে করেন এই এলাকাটিতে প্রাচীনকালে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল।
যে কারণে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করলে সম্ভাব্য মঙ্গলীয় জীবনের পক্ষে কোন প্রমাণ জোগাড় করা তাদের পক্ষে সহজ হবে।
পারসিভারেন্স প্রজেক্টের দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানীদের এক বৈঠকে এসব জানা যায়।
তবে বিজ্ঞানীরা বর্তমানে জীবিত কোন প্রাণের সন্ধান করছেন না।
বরং অতীতে যখন মঙ্গলের জলবায়ু বর্তমানে বিরাজমান জলবায়ুর তুলনায় ভিন্ন ছিল, তখন কোন প্রাণী বেঁচে ছিল কিনা সেটি নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে।
পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গলের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপন করা হয় ২০২০ সালের জুলাইতে। ২০২১ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি যানটির সফল অবতরণ নিশ্চিতকারী তথ্য পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।
নাসার বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন এ পর্যন্ত পারসিভারেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নমুনা পেয়েছে, যা তাদের এতোদিন ধরে জমে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে।
বর্তমানে পারসিভারেন্স অতীতের ডেল্টা নদীর ধারে পাওয়া পাললিক শিলা পরীক্ষা করে দেখছে। ইতোমধ্যে সে আগ্নেয় শিলার খোঁজে জ্যাজেরা ক্রেটর এলাকার মাটি চষে ফেলেছে।
উপযুক্ত পাথরের সন্ধান পাওয়া গেলে তা পরীক্ষা করে জানা যাবে এলাকাটির ভৌগোলিক ইতিহাস এবং সৃষ্টির পরের ঘটনা।
পারসিভারেন্স রোভারের সর্বশেষ সংগ্রহকৃত কাদা পাথরটির নাম "ওয়াইল্ড ক্যাট রিজ"। তিন ফুট চওড়া এই পাথরটিতে জৈব উপাদানের হদিস পাওয়া গেছে 'শার্লক' নামক এক যন্ত্রের মাধ্যমে।
বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস "ওয়াইল্ড ক্যাট রিজ" আজ থেকে বিলিয়ন বছর আগে থাকা কোন লবণাক্ত হ্রদের ধারের বালি এবং মাটি দিয়ে তৈরী।
বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের রহস্য উন্মোচনে আত্মবিশ্বাসী। জৈব পদার্থের সন্ধান তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত কিছু ছিল না। কারন পূর্বের সব গবেষণা জৈব পদার্থের অস্তিত্বের কথাই বলেছে।
২০১২ সালে নাসার পাঠানো রোবট কিউরিউসিটি কিছু পাথুরে গুঁড়ায় জৈব পদার্থ পেয়েছিল। এমনকি পারসিভারেন্স রোভারও পূর্বে জ্যাজিরো ক্রেটরে জৈব পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল, কিন্তু সেগুলো তাৎপর্যপূর্ণ ছিল না।
এবারের ব্যাপারটা ভিন্ন। পৃথিবীর পাললিক শিলায় যেভাবে প্রাচীন কোন প্রাণীর জীবাশ্ম থাকে, মঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা পাললিক শিলা থেকে সেভাবেই জৈব পদার্থ পাওয়া গেছে।
অতীতে মঙ্গলে কোনো প্রাণ ছিল কি না তা যাচাইয়ের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো শিলা পরীক্ষা করে দেখা। অ্যানসিয়েন্ট ডেল্টার শিলা শুধু পর্যবেক্ষণ করবে না, ভবিষ্যতে বিস্তারিত গবেষণার জন্য সেগুলো সংরক্ষন করবে পারসিভারেন্স।
১৮ মাস আগে লাল গ্রহে মিশন শুরুর পর এই রোভার এখন পর্যন্ত ১২টি নমুনা পাথর সংগ্রহ করেছে। ২০৩০ সালের পর নমুনাগুলো পৃথিবীতে আনা হলে তা পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবেন বিজ্ঞানীরা।