গ্রামের স্নিগ্ধ সবুজ পরিবশের মধ্যে বিশাল এক জলাশয়, যার মধ্যে ফুটে আছে তিন রঙের পদ্মফুল। সাদা এবং গোলাপি পদ্ম অন্য এলাকায় দেখা গেলেও হলুদ পদ্ম পুরো এশিয়ার মধ্যে দুর্লভ।
এমন রঙিন সমারোহ দেখার জন্য যেতে হবে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়। সেখানকার রাজাপুর ইউনিয়নের আওতাধীন দক্ষিনগ্রাম পদ্মবিলে দেখা যায় প্রকৃতির অসাধারণ দৃশ্য।
পুরো জলাশয় ছেয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন পদ্মফুলে। বাংলাদেশে এরকম পদ্মফোটা বিল আরো বেশ কয়েকটি রয়েছে।
কিন্তু দক্ষিনগ্রামের পদ্মবিল পুরো এশিয়ার মধ্যে আলাদা। এখানে সাদা ও গোলাপি রঙের পাশাপাশি দেখা যায় দুর্লভ হলুদ রঙের পদ্ম।
২০১৯ সালে দক্ষিনগ্রামের হলুদ পদ্মফুলের খবর প্রকাশিত হবার পর নড়েচড়ে বসেছিলেন দেশের বিশেষজ্ঞরা।
কারণ বাংলাদেশের মধ্যে হলুদ পদ্মফুলের কোন প্রজাতি নেই। এমনকি পুরো এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে এ ধরণের পদ্ম জন্মায় না।
মূলত সাদা এবং গোলাপি রঙেই চেনা যায় পদ্মফুলের এশীয় প্রজাতি। আর হলুদ রঙের পদ্মও আছে পৃথিবীতে, সেগুলো ফুটে উত্তর এবং দক্ষিন আমেরিকায়।
এ কারণেই কুমিল্লায় হলুদ পদ্মের খবর দেখে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো উদ্ভিদবিজ্ঞানী এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের মাঝে।
এরপর পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, কুমিল্লার হলুদ পদ্ম আমেরিকান নয়। বরং এশিয়ান পদ্মের নতুন এক ধরণ এটি। যা বাংলাদেশিই প্রথম দেখা গেছে।
বিজ্ঞানিরা হলুদ পদ্মের নাম দিয়েছেন গোমতি। এটির বৈজ্ঞানিক নামের সাথেও যুক্ত হবে গোমতি এবং বাংলাদেশ শব্দ ।
২০২১ সালে কুমিল্লার হলুদ পদ্ম নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেছে বেঙ্গল প্লান্টস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। তাদের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে , নতুন এই পদ্মফুলের বৈশিষ্ট্য অন্যগুলো থেকে আলাদা।
দক্ষিন গ্রামের হলুদ পদ্ম মূলত হলদে সাদা রঙের। যেগুলোর পাপড়ি সংখ্যা অনেক বেশি। এ ছাড়া এই ফুলের জীবনকাল হয় ৭ থেকে ৮ দিন। যা আমাদের দেশে পাওয়া অন্য দুই রঙের পদ্ম ফুলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন।।
সব মিলিয়ে নতুন প্রজাতির পদ্ম ফুলের কারণে বিজ্ঞানি ও প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কেড়েছে কুমিল্লার পদ্মবিল।
বর্তমানে ছুটির দিনগুলোতে এখানকার অপরূপ দৃশ্য দেখার জন্য ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। এর মধ্যে তরুণ তরুণীদের সংখ্যাই বেশি।
কুমিল্লার রাজাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত দক্ষিনগ্রাম এলাকার একপাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন, অন্য পাশে রয়েছে কুমিল্লা-সালদা নদী সড়ক।
দুই সড়কের মাঝখানে অবস্থিত এই এলাকার কমপক্ষে ১০ একক জলাশয়ে রয়েছে পদ্মফুলের সমারোহ। যার বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে রঙ বেরঙের পদ্মফুল।
তবে এবছর গোলাপি এবং সাদা রঙের পদ্মই বেশি, হলুদ প্রজাতির পদ্ম কম হয়েছে অন্য বছরের তুলনায়। । মূলত এবার বৃষ্টি কম হবার কারণে ফুলের পরিমানও কম হয়েছে।
তিন রঙের পদ্মফুলের কারণে কুমিল্লার এই পদ্মবিল পর্যটন খাতের জন্য সম্ভাবনাময়। কিন্তু দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়লেও পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে অবকাঠামো গত সুযোগ সুবিধা গড়ে উঠেনি।
সড়কপথে দূর দুরান্তের ভ্রমনপ্রেমীরা ঘুরতে আসেন পদ্মবিলে। তবে এখানকার প্রবেশপথটি এখনো কাঁচা অবস্থায় রয়েছে।
এছাড়া পদ্মবিল ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে নৌকা মাঝিদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে জনপ্রিয়তা পাবে পদ্মবিল, এমনটাই প্রত্যাশা ভ্রমনপিপাসুদের।