ইউরোপের মতো ঢাকার সড়কেও করা হবে আলাদা সাইকেল লেন। যেখান দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন সাইকেল আরোহীরা। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া শুরু করেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন।
যান্ত্রিক নগরী ঢাকায় গণপরিবহনের চলার গতি খুবই ধীর। প্রতিদিন যানজটের কারণে নষ্ট হয় বিপুল পরিমান কর্মঘন্টা, অপচয় হয় মূল্যবান জ্বালানি।
সেজন্য সাইকেল যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন অনেকেই। ইউরোপ আমেরিকার অনেক দেশেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যানবাহন সাইকেল।
অত্যন্ত কার্যকর এই বাহন একই সাথে স্বাস্থসম্মত, পরিবেশবান্ধব এবং খরচ সাশ্রয়ী। কিন্তু ঢাকা শহরে সাইকেল আরোহীদের জন্য আলাদা কোন সুবিধা রাখা হয়নি।
বর্তমানে চাহিদার কথা বিবেচনা করে ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি সড়কে সাইকেলের জন্য আলাদা লেন চালু করার চিন্তা করছে ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সড়কের পরিকল্পনায় সাইকেল লেনের একটি নেটওয়ার্ক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। যাতে করে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের পাশাপাশি বিনোদনেরও ব্যবস্থা হবে রাজধানীবাসীর।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে গনমাধ্যমে কথা কথা বলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, পৃথিবীর অনেক শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে সাইকেলকে কেন্দ্র করে। ডেনমার্ক এবং সুইজারল্যান্ড সহ অনেক দেশে সাইকেলের জন্য আলাদা লেন রয়েছে।
সম্প্রতি ইন্টিগ্রেটেড করিডর ম্যানেজমেন্টের নামে একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। এর আওতায় বিমানবন্দরের হাজি ক্যাম্প থেকে কুড়িল পর্যন্ত সড়কে একটি সাইকেল নেটওয়ার্ক তৈরি করে দেবেন তারা।
গনমাধ্যমের কাছে মেয়র জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটির আওতায় যেসব খালের উন্নয়ন কার্যক্রম হবে তার সব জায়গাতেই তৈরি করা হবে হাটার রাস্তা এবং সাইকেল নেটওয়ার্ক। এতে করে বিনোদনের ব্যবস্থাও হবে নাগরিকদের।
অপরদিকে সাইকেলের জন্য একইরকম উদ্যোগ নিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও। দক্ষিন সিটির আওতাধীন কালুনগর, জিরানী, মান্ডা ও শ্যামপুর খাল দখল এবং দূষণমুক্ত করার পর এগুলোর পাড়ে তৈরি করা হবে মোট ২০ কিলোমিটারের হাটার রাস্তা এবং সাইকেল লেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গনমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, বর্তমানে শহরের ৫৩টি ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক লাইট কার্যকর করার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তারা।
এই ইন্টারসেকশন গুলোতে সাইকেল লেনের জন্য আলাদা জায়গা বের করা যায় কিনা সে ব্যাপারে খোজ নেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তবে ঢাকা শহরের নতুন নির্মিত সড়কগুলোতে সাইকেল লেন চালু করা গেলেও পুরোনো সড়কে এটি করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারন এগুলো নির্মানের সময় পরিকল্পনায় সাইকেল লেন রাখা হয়নি।
অপরদিকে ঢাকার বর্তমান সড়কগুলোর প্রশস্ততাও খুব কম। এ কারণে নতুন করে এসব সড়কে সাইকেল লেন তৈরির সুযোগ নেই বললেই চলে।
তবে এখন থেকে নতুন নির্মিত সড়কগুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনায় সাইকেল লেনকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবশ্য ঢাকার কয়েকটি পুরোনো সড়কেও সাইকেল লেন চালুর করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কম প্রশস্তের রাস্তাগুলোতে বড় বড় গাড়ির প্রবেশ সীমিত করে সাইকেলের রাস্তা হিসেবে চালু করা যায়।
ফ্রান্সের প্যারিস শহরের কয়েকটি স্কুল জোনে প্রাইভেট কার ঢুকতে দেয়া হয়না। শুধুমাত্র সাইকেল চলে সেখানে।
এরকম উদ্যোগ রাজধানীর পুরনো ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নেয়া হলে সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।