৫০০ টাকার লটারিতে ২৫ কোটি রুপি জিতে রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেছেন অনুপ বি নামের এক ব্যক্তি। ‘ওনাম বাম্পার লটারি’ জেতা এই অনুপ পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। কেরলের শ্রীভারাহামের বাসিন্দা তিনি।
লটারি জিতার এমন ঘটনা রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে পুরো শ্রীভারাহাম অঞ্চলে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৫০০ টাকায় লটারিটি কিনেছিলেন অনুপ।
অথচ লটারি জেতার আগের প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি কেনার টাকাটাও ছিলো না তার কাছে। ধার করেই কিনেন তিনি। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানেই বদলে গেল তাঁর ভাগ্য।
লটারি কেনা অনুপের নতুন কোনো অভ্যেস নয়, বহু আগ থেকেই এটি কিনে আসছেন তিনি। বেশ কয়েকবার জিতেছিলেনও। তবে সেই টাকার অংক কখনই ৫ হাজারের বেশি ওঠেনি।
এবারও যে জিতবেন তেমন কোনো আশাও ছিলো না তার। আর তাই টিভিতে যখন লটারির ফলাফল দিলো তখন উপস্থিত ছিলেন না তিনি।
এরপর তার পরিচিত এক নারী যিনি এই লটারি বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাকে টিকিটের ছবি তুলে পাঠান। ওই নারী তাকে নিশ্চিত করেন যে তার টিকিটই এবার জিতে নিয়েছে প্রথম পুরস্কার।
পরবর্তীতে ফোনে আসা মেসেজ থেকেই জানতে পারলেন আর নিশ্চিত হলেন ভাগ্যবান লোকটা তিনিই।
এমন সংবাদে উচ্ছ্বাসিত অনুপ জানান, পুরো ব্যাপারটাই তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। তাই স্ত্রী মায়াকে তা দেখান। এরপর দ্বিতীয়বার চেক করে দেখলেন টিকিটের নম্বর পুরোপুরি মিলে গিয়েছে।
সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হতো, তাই বাড়তি অর্থ উপার্জনের আশায় রাঁধুনি হিসেবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন অনুপ।
এমনকি অভিবাসনের খরচ সামাল দিতে ব্যাংকের কাছে তিন লাখ রুপি ঋণ চেয়ে আবেদনও করেছিলেন। লটারি জেতার একদিন আগে ব্যাঙ্ক তা মঞ্জুরও করে।
অবশ্য লোনের বিষয়টি পরে ব্যাংকে কথা বলে বাতিল করে দেন তিনি এবং সিদ্ধান্ত নেন দেশেই থাকবেন।
লটারি জেতার পুরো টাকাটা অবশ্য পাবেন না অনুপ, এর থেকে করের টাকা বাদ দিয়ে মোট ১৫ কোটি টাকা হাতে পাবে তিনি।
বিশাল অংকের অর্থ দিয়ে কী করবেন জানতে চাইলে অনুপ বলেন, তার প্রথম স্বপ্ন হলো পরিবারের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করা।
এরপর সংসার চালাতে যেসব ঋণ নিয়েছিলেন সেসব পরিশোধ করা। এ ছাড়া এ টাকা থেকে আত্মীয়দেরও সাহায্য করতে চান তিনি। কিছু দাতব্য কাজও করবেন।
অনুপ আরও বলেন, ‘আমি তখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমার স্ত্রীকে এসএমএসটি দেখালাম। তিনি নিশ্চিত করেন যে আমার কেনা লটারির নম্বরটিই প্রথম স্থান জয়ী।’
আপাতত কেরালায় নিজের জন্য একটা হোটেল খুলবেন। সেখানেই ব্যবসা শুরু করবেন। ভবিষ্যতে আবারও লটারির টিকিট কিনার আশা আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যমতে, এই লটারির মাধ্যমে কেরালা সরকারের আয় হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি।
৫০০ রুপি মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। দ্বিতীয় পুরস্কার বাবদ দেওয়া হয়েছে পাঁচ কোটি রুপি। তৃতীয় পুরস্কার প্রাপকের ঝুলিতে গিয়েছে এক কোটি রুপি।
কেরালার অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপাল বাম্পার লটারির অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন। পুরস্কারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন অনুপ, তার স্ত্রী।
এর আগে কাকতালীয়ভাবে 'ওনাম বাম্পার লটারি' জিতেছিলেন পি আর জয়াপালন নামের এক ব্যক্তি।
তিনিও পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। সেবার ১২ কোটি টাকা জিতেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ডকে অবশ্য ছাপিয়ে গিয়েছেন অনুপ।