.jpg&w=3840&q=75)

মিশেল লটটো নামের এক ব্যক্তি যেকোনো ধাতব জিনিস খেয়ে ফেলতে পারতেন। ফরাসি এ ব্যক্তি লোহা-লক্কর খেতে খেতে একসময় আস্ত বিমান পর্যন্ত খেয়েছেন। মিশেলের খাদ্য তালিকায় ছিল ১৮ টি সাইকেল, সাতটি টিভি সেট, দুটি বিছানা, ১৫ টি ট্রলি, একটি কম্পিউটার, একটি কফিন, এক জোড়া স্কি এবং ছয়টি ঝাড়বাতি। লোহা সহ যেকোনো ধাতব জিনিস দিলে তা অনায়াসে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারতেন তিনি, ঠিক যেন স্ন্যাক্স খাচ্ছেন।প্রতিবার ধাতব পদার্থ খাওয়ার আগে মিনারেল অয়েল বা খনিজ তেলও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতেন তিনি। মিশেল প্রথমে ধাতব পদার্থ গুলো কেটে টুকরো টুকরো করে ছোট করতেন এবং পরে স্বাভাবিক খাবারের মতো চিবিয়ে ও কামড়ে খেতেন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি পিকা রোগে আক্রান্ত। এ রোগে আক্রান্তরা খাওয়ার অযোগ্য জিনিসের প্রতি আসক্ত হয়ে থাকেন।মিশেল লোটিটো মনসিয়র ম্যানেজআউট নামেও পরিচিত। তার জন্ম হয় ১৯৫০ সালে ফ্রান্সের গ্রেনোবেলে। ৯ বছর বয়স থেকে মিশেল খাওয়ার অযোগ্য বস্তুর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। ছোটবেলায় হঠাৎই একদিন ভাঙা গ্লাসের টুকরো চিবিয়ে খাওয়া শুরু করেন। এরপর থেকে অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায় কাচের গ্লাস ভেঙে টুকরো গুলো চিবিয়ে খাওয়া। এসব অস্বাভাবিক পদার্থ খেয়ে আবার হজমও করে ফেলতেন তিনি। এতে তার কোন ধরনের সমস্যা হতো না। প্রতিদিন ৯০০ গ্রাম ধাতু হজম করার ক্ষমতা ছিল তার।সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, কলা এবং ডিম সেদ্ধসহ নরম খাবার খেলেই বরং অসুস্থ হয়ে পড়তেন মিশেল।পরবর্তীতে তার অদ্ভুত হজম ক্ষমতাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৯৬৬ সালে ১৬ বছর বয়সে প্রকাশ্যে মিশেল ধাতব উপাদান খাওয়া শুরু করেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি এই বিস্ময়কর প্রতিভা প্রদর্শন করেন।বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন তাঁর অদ্ভুত কীর্তি দেখতে। সারা বিশ্ববাসী বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছিলেন তাঁর প্রতিভায়। জনসমক্ষে একের পর এক কামড়ে খেতেন বাইসাইকেল, টিভি, কফিনসহ বিভিন্ন ধাতব পদার্থ। ধীরে ধীরে তাঁর এই খাওয়ার নেশাটাকেই পেশায় পরিণত করেন। জানা যায়, ১৯৫৯-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মিশেল প্রায় ৯ টন ধাতব পদার্থ গ্রহণ করেন।সবশেষ তাজ্জব এই মানুষটি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম তুলেছেন বিশাল আস্ত একটি বিমান চিবিয়ে খেয়ে।১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত টানা ২ বছর ধরে তিনি ‘সেসনা ১৫০’ নামক আস্ত বিমানের সমস্ত অংশ খুলে খুলে খেয়ে শেষ করেন। ‘স্ট্রেঞ্জ ডায়েট বা অদ্ভূত খাদ্যাভাস’ নামে গিনেস বুকে নাম ওঠে তার।শুধু তাই নয়, গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তোলার পর তাঁকে যে পিতলের স্মারক দেয়া হয়েছিল সেটিও দিব্যি হজম করে ফেলেছিলেন মিশেল। ২০০৭ সালে ২৫ জুন প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই এই ধাতব মানুষের মৃত্যু ঘটে। এখনো পর্যন্ত ডাক্তাররা তার অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাস এবং মৃত্যুর মধ্যে কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাননি। আজও তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন আস্ত একটি প্লেন চিবিয়ে খেয়ে ফেলার জন্য।



