ভারতের হিমাচল প্রদেশের কিন্নরে প্রচলিত রয়েছে অদ্ভূত এক বিয়ের রীতি। ওই অঞ্চলে একই তরুণী পরিবারের সমস্ত ভাইদের বিয়ে করেন। যা পরিচিত পলিঅ্যান্ড্রি বা দ্রৌপদী বিবাহ নামে।
শুধু বিয়ে করাই নয়, তাদের সবার সঙ্গে একই সাথে সংসারও করতে হয়। এমনকি একই তরুণীকে সব ভাইদের সন্তানও ধারণ করতে হয়।
শুনতে অদ্ভূত শোনালেও এটি একবিংশ শতাব্দীর একটি চলমান ঘটনা। তবে নারীরা স্বেচ্ছায় এমন বহু বিবাহ করেন বিষয়টা তেমন নয়। বরং তাদের বাধ্য করানো হয় এক সাথে সব ভাইদের বিয়ে করার জন্য।
মূলত নিজেদের জমির অখন্ডতা রক্ষায় একই তরুণীর সাথে পরিবারের সব ছেলের বিয়ে দেয়ার এমন অদ্ভূত রীতি পালন করে আসছে কিন্নরের মানুষেরা।
কিন্নর ইন্দো-তিব্বত সীমান্তের নিকটবর্তী একটি জেলা। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এই অঞ্চলের অধিবাসীদের আর্থিক অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়।
আধিবাসীদের মধ্যে বেশির ভাগেরই সম্বল বলতে ছিলো নামমাত্র জমি। সেই জমির আয় দিয়েই সংসার চালাতে হয় তাদের।
কিন্তু জমির পরিমান এতোটাই কম যে, পরবর্তীতে পরিবারের সব ভাইদের মাঝে ভাগাভাগি হলে তাদের আয় কমে যাবে। ফলে সেই আয় দিয়ে সংসার চালানো তাদের পক্ষে অনেকটা অসম্ভব হয়ে যাবে।
আর তাই ছেলেদের বিয়ের পর জমি যাতে ভাগ হয়ে না যায়, সেজন্য পরিবারের সব ছেলেকে একই তরুনীকে বিয়ে করানো রীতি বা দ্রৌপদী প্রথার প্রচলন শুরু করে তারা।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কারো কারো মতে মহাভারতের পান্ডবরা তেরো বছরের জন্য নির্বাসিত হওয়ার পর এই অঞ্চলেই লুকিয়ে ছিলো।
সেই থেকেই এখানকার মানুষেরা দ্রৌপদী বিবাহের রীতি চালু করেছে। এমনকি অধিবাসীদের কেউ কেউ এখনো নিজেদেরকে পান্ডবদের বংশধর মনে করে।
প্রচলিত রীতিতে কোনো পরিবারে বিয়ে করে আসা নারী পরবর্তীতে যত গুলো সন্তান জম্ম দিবেন, তাদের পিতা কে হবেন সেটাও সেই ঠিক করে দিবে।
অথ্যাৎ যেই ভাইকে বাচ্চার বাবা হিসেবে তিনি বলবেন তাকেই পরিবারের সবাই ওই বাচ্চার বাবা বলে জানবে।
তবে বাচ্চা যারই হোকনা কেনো, রীতি অনুযায়ী প্রতিটা সন্তানই ভাইদের মধ্যে সবার বড়জনকে বাবা এবং বাকিদের চাচা বা কাকা বলে সম্মোধন করবে।
এমন অদ্ভুত বিয়ের রীতি শুধু কিন্নরেই যে প্রচলিত তা নয়, ভারতের বেশকিছু উপজাতি নারিদের মধ্যেও বহু বিবাহ প্রথা চালু রয়েছে।
এছাড়া দক্ষিণ ভারতে এবং উত্তর ভারতের কিছু কিছু জায়গাও দ্রৌপদী বিবাহের প্রচলন রয়েছে। তবে উত্তর ভারতেই এর প্রচলন সবচাইতে বেশি।
এমন বহু বিবাহ নারীদের জন্য খুব বেশি সূখকর নয়। একাধিক বিয়ের ফলে তারা মানসিক এবং শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে পাহাড়ি জনপদের অধিবাসী এই নারীদের জীবন ধারনের জন্য করতে হয় কঠোর পরিশ্রম। যা তাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।
কিন্তু এত কিছুর পর ও বছরের পর বছর ধরে ওই অঞ্চলের মানুষেরা এই কুসংস্কার পালন করে আসছে।
তবে আশার কথা হলো কিন্নরদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশের ফলে আগের চাইতে জীবন যাত্রার মানও বেড়েছে তাদের।
এছাড়াও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে তাদের। যার কারনে আগের চাইতে অনেকাংশে বহু বিবাহের এই রীতি কমে এসেছে।