আনারস আমাদের দেশের অত্যন্ত সুপরিচিত একটি ফল এবং এর দামও হাতের নাগালের মধ্যেই থাকে ।
তবে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে এমন এক জাতের আনারস রয়েছে, যেগুলোর একেকটির মূল্য ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার পাউন্ড।
বাংলাদেশের অর্থ মূল্যে যা দাঁড়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকেও বেশি। এগুলো উৎপাদন করে হ্যালিগান পাইনাপেল নামের একটি সংস্থা।
তবে এ সব আনারস সাধারণ ভাবে বিক্রি করা হয় না। এর বদলে এগুলো নিলামে তোলা হয়্।
নিলামে কোনো কোনো আনারস বাংলাদেশি মুদ্রার হিসেবে ১০ লাখ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
আনারস গুলোর দামই যে বেশি তা নয়, এগুলো খাওয়ার উপযুক্ত হতেও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ জাতের আনারস খাওয়ার উপযোগী হতে প্রায় দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে৷
তবে আনারসের এত দাম এমনি এমনি হয় নি। উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং এর পেছনে যে শ্রম দিতে হয় সে সব কিছু বিবেচনা করেই আনারস গুলোর মূল্য এত বেশি হয়ে থাকে ।
খবরে বলা হয়েছে, এ জাতের একটি আনারস উৎপাদন করতেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ১ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ডের বেশি খরচ হয়ে যায় !
১৮১৯ সালে প্রথম এ জাতের আনারস যুক্তরাজ্যে আনা হয় । কিন্তু এ ফলটি উৎপাদনের জন্য যুক্তরাজ্যের ঠান্ডা আবহাওয়া উপযুক্ত নয়।
কারণ এত ঠাণ্ডা আবহাওয়ার মধ্যে আনারস বেড়ে উঠতে পারে না।
হ্যালিগান পাইনাপেল নামের সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য বলছে, এ জাতের আনারস উৎপাদনের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেন উদ্যান তত্ত্ববিদরা। সেই বিশেষ ব্যবস্থায় কাঠের তৈরি পাত্র তৈরি করা হয়।
আনারস বেড়ে উঠানোর জন্য সেই পাত্রের ভেতর দেওয়া হয় পচনশীল সার। একটি হিটারও স্থাপন করা হয় সেখানে । পাত্রের ভেতরের তাপমাত্রা উষ্ণ রাখতে ঐ হিটার সাহায্য করে ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যালিগান পাইনাপেল কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাজ্যের ঠান্ডা আবহাওয়ায় আনারস উৎপাদন অনেক শ্রমসাধ্য একটি কাজ। এর পেছনে প্রচুর সময় দিতে হয়।
তিনি জানিয়েছেন, আনারস উৎপাদন কাজে সারের মূল্য, পরিবহণ খরচ এবং অন্যান্য বিষয়সহ তাদের একটি আনারস উৎপাদনে ১ হাজার পাউন্ডেরও বেশি খরচ হয়ে থাকে ।’
হ্যালিগান পাইনাপেলের ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়েছে, তাদের বাগানে উৎপাদিত দ্বিতীয় আনারসটি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
আনারস ভিটামিন সি সমৃদ্ধ বহুল পরিচিত ফল। এই ফলটি ভিটামিন সি ছাড়াও এন্টি অক্সিডেন্ট এবং মিনারেল জাতীয় পদার্থে সমৃদ্ধ। শীতকালে এই ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।
এছাড়া মৌসুমি জ্বরের চিরচেনা পথ্য হিসেবেও আনারস অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ফল ।
সাধারণত আনারসের আদি নিবাস ধরা হয় ব্রাজিলের বর্ষন মুখর অরণ্য কে । এরপর কালের বিবর্তনে এই ফলের বিস্তৃতি ঘটে বিশ্ব ব্যাপী । এখন পৃথিবীর অনেক দেশেই বাণিজ্যিক ভাবে আনারস উৎপাদন করা হয়।
বাংলাদেশের টাঙ্গাইল সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিপুল পরিমাণে আনারস উৎপাদন করা হয় । দামও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই মধ্যেই থাকে।