অন্যান্য


মীরজাফর এর আসল পরিচয় জানেন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার

মীরজাফর এর আসল পরিচয় জানেন

মীরজাফর নামটি শুনলেই চোখের সামনে  ভেসে উঠে এক বিশ্বাসঘাতকের চিত্র। 

পলাশী প্রান্তরের লড়াইয়ের পর ২৬৫ বছর কেটে গেছে। তবু মীরজাফর নামটি সমান ভাবে ঘৃণিত হয় মানুষের কাছে।

মীরজাফর আলী খান ১৬৯১ সালে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ছিলেন আরব বংশোদ্ভূত। তার প্রভু আলীবর্দি খানের সাথে ভাগ্যান্বেষনে ভারতে এসেছিলেন।

পরবর্তীতে আলীবর্দি খান নবাব হয়ে, সৎ বোন শাহ খানমেট এর সাথে, মীরজাফরের বিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সাথে তাকে নবাবের পরবর্তী সম্মানজনক পদ , বখশী প্রদান করা হয়েছিল।

কিন্তু মীরজাফর ছিলেন উচ্চাভিলাষী এবং কূটবুদ্ধির লোক। তিনি ১৭৪৬ সালে মারাঠাদের পরাজিত করে বীরত্ব প্রদর্শন করেন। কিন্তু পরের বছরই লড়াইয়ের ময়দান থেকে পালিয়ে চলে আসেন।

তখন থেকেই আলীবর্দি খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চক্রান্ত শুরু করেন তিনি। এমনকি পুর্নিয়ার শাসক শওকত জংকে বাংলা আক্রমণ করারও আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু এইসব চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। 

আলীবর্দি খানের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা মসনদে বসেন। সেই সময়ে  মীরজাফর কৌশলে দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার সুবাহদারির ফরমান নেয়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

শেষমেশ নবাবকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তিনি ইংরেজদের সাথে হাত মেলান। 

১৭৫৭ সালের এপ্রিল মাসেই তিনি ইংরেজদের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এবং পরের মাসেই তাদের সাথে করা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

মীরজাফরকে বাংলা বিহার এবং উড়িষ্যার নবাব হিসেবে সিংহাসনে বসানোর প্রতিশ্রুতি দেয় ইংরেজরা।

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর লড়াই শুরু হলে নবাবের সেনাবাহিনীতে বিশ্বাসঘাতকতার লক্ষ্মণ স্পষ্ট হয়ে উঠে।

কারণ মীরজাফর শুরু থেকেই তার কূট বুদ্ধি দিয়ে সেনাবাহিনীকে নানা দলে বিভক্ত করে ফেলেছিল। 

নবাব যখন তার তাঁবুতে গিয়ে আনুগত্য ও সহযোগিতা চান, তখন তিনি নবাবকে মিথ্যা আশ্বাস দেন। 

তিনি সেদিনের লড়াই বন্ধ করে দিতে বলেন। পরের দিন তিনি নিজে সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিবেন বলেও আশ্বস্ত করেন।

কিন্তু সেই ময়দানেই মীরজাফর ইংরেজ সেনাপতি লর্ড ক্লাইভকে সব তথ্য জানিয়ে নবাবের বাহিনীর উপর আক্রমণ করতে বলেন৷ 

এর ফলে ইংরেজদের কাছে শোচনীয় পরাজয় ঘটে বাংলার। নবাবের করুণ পরিনতি বরণ করতে হয়। 

পলাশীর পর  ২৯ জুন মীরজাফরকে নবাবের সিংহাসনে বসায় ইংরেজরা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন ইংরেজদের হাতের পুতুল। তাকে ক্ষমতায় রেখে অবাধে লুট ও বাণিজ্য চালিয়েছিল তারা।

তাঁকে দিয়ে স্বার্থউদ্ধার না হওয়ায় ১৭৬০ সালেই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তারই জামাতা মীর কাশিমকে ক্ষমতায় বসায় ইংরেজরা। মীর কাশিম ছিলেন স্বাধীনচেতা। 

তার সাথে বনিবনা হয়নি ইংরেজদের। তাই ১৭৬৩ সালে আবারও মীরজাফরকে ক্ষমতায় বসানো হয়। 

১৭৬৫ সালে পৃথিবী ত্যাগ করেন মীরজাফর। এর আগ পর্যন্ত তিনি নবাব ছিলেন। ঐ সময় কুষ্ঠ রোগ আর আফিমে আসক্ত ছিলেন তিনি।

অত্যন্ত করুণভাবে পৃথিবী ছাড়তে হয়েছে তাকে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে তার সমাধি রয়েছে। 

এত বছর পরেও ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ভুলে যায়নি। তার কারণেই দুইশত বছর ইংরেজদের গোলামী সহ্য করতে হয়েছিল। 

গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মীরজাফরের বংশধরদের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল।

তার বংশধরদের মতে মীরজাফর বিশ্বাসঘাতক ছিলেন না। সে-সময় তিনি শুধু তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা মীরজাফরকে নিয়ে মোটেই লজ্জিত নন।

কিন্তু তাদের এই দাবির যথাযথ সত্যতা প্রমাণিত হয়নি এখনও। তাই ইতিহাসের পাতায় আর মানুষের মনের খাতায় মীরজাফর সব সময় একজন বিশ্বাসঘাতক হয়েই টিকে থাকবেন।





জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।