এবার প্রেমের টানে সুদূর সাইপ্রাস থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন নেপালি তরুনী জ্যোতি।
বাংলাদেশ এসে নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন এই নেপালি তরুণী।
নিজের নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন খাদিজা বেগম এবং ইসলামিক রীতিমতোই ভালবাসার মানুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি।
সাইপ্রাসের একটি কোম্পানিতে কাজের সুবাদে, চার বছর আগে বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরের ছেলে রাসেলের সাথে পরিচয় ঘটে নেপালী তরুণী জ্যোতির।
কাজের সূত্র ধরেই দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক গাঢ় হলে সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হোন রাসেল ও জ্যোতি।
নিজেদের প্রেমের সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দিতে দুইজনে সাইপ্রাসে থাকতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাইপ্রাস থেকে ছুটি নিয়ে তারা দুজনেই নিজ নিজ দেশে ফিরে যান।
এরপর গত ২৩ নভেম্বর, নিজের ভালবাসার মানুষের সাথে ঘর বাঁধতে নেপাল থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন জ্যোতি।
ঢাকা এসেই প্রথমে নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম গ্রহণ করে আদালতের মাধ্যমে এভিডেভিড করেন জোতি। এরপর রাসেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি।
তাদের বিয়ের কাবিননামাও রেজিস্ট্রি করানো হয়েছে একজন নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে।
আদালতের মাধ্যমে বিয়ের প্রায় একমাস পরে ২০ ডিসেম্বর রাসেল তার স্ত্রী জ্যোতিকে নিজের গ্রামের বাড়ি রায়পুরে নিয়ে যান।
প্রসঙ্গত, রাসেলের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর গ্রামে।
গত ২৬ ডিসেম্বর, রায়পুরে পারিবারিকভাবে গায়ে হলুদ এবং ২৭ ডিসেম্বর ঘটা করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা।
পরিবারের সদস্য ছাড়া রাসেল ও জ্যোতির বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশিরা।
নেপালী তরুণী জ্যোতি বর্তমানে রাসেলের গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখতে ভৌগোলিক দূরত্ব ও ধর্মীয় রীতির সকল বাধা জয় করে সুখের সংসার পেতেছেন তারা।
প্রসঙ্গত নেপালের সোনাচুড়ি জেলার হেটড়া শহরে বাস করে জ্যোতির পরিবার ।
বাঙালি যুবক রাসেলকে বিয়ে করার জন্য ২১ বছর বয়সী এ তরুণী নেপালে তার আপনজনদের ফেলে বাংলাদেশে এসেছেন।
তবে বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরে এসে স্বামী এবং নতুন পরিবার পেয়ে বেশ উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন ২১ বছর বয়সী এই নেপালি তরুনী।
জ্যোতি বাংলা ভাষায় একটি সাক্ষাৎকারে সংবাদকর্মীদের বলেন, নেপালে তার মা-বাবা, ভাই-বোন সবাই আছে।
তিনি তাদের সবার সম্মতি নিয়েই রাসেলের কাছে বাংলাদেশে এসেছেন।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও গ্রামীণ পরিবেশ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নেপালি পুত্রবধূ সম্পর্কে রাসেলের মা বলেন, ছেলের বউ দেখে তারা খুব খুশি হয়েছেন এবং তাদের আনন্দেই তারা আনন্দিত।
রাসেলের কাছ থেকে জ্যোতির কথা শুনে তাকে দেশে নিয়ে আসতে বলেছিলেন তার মা।
রাসেলের মা জানান, এখন তার পুত্রবধূ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারে। তিনি কামনা করেন , রাসেল ও জ্যোতি যেন আগামীর দিনগুলো ভালোভাবে কাটাতে পারে।
এদিকে নেপালী তরুণী জ্যোতি ওরফে খাদিজা বেগমকে দেখতে এলাকার লোকজন ভীড় করছেন রাসেলদের বাড়িতে।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন দেশের তরুন তরুনী ছুটে এসেছেন, শুধুমাত্র ভালবাসার টানে। পরিবর্তন করেছেন নিজের ধর্ম এবং বেঁধেছেন সুখের সংসার।
ইন্দোনেশিয়া, বেলারুশ, বেলজিয়াম,মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের তরুন তরুণী,
ভালবাসার টানে ছুটে এসে, সৃষ্টি করেছেন চাঞ্চল্যের। নিজেদের প্রনয়ের সম্পর্ককে রূপ দিয়েছেন পরিণয়ে।
এবার সেই তালিকায় নাম নেপালের তরুণী জ্যোতি ওরফে খাদিজা বেগম। দাম্পত্য জীবনে তারা কতটা সুখী হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।