ছিলেন কারখানার শ্রমিক। কিন্তু এখন তিনি টিকটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা। বলছি ইতালির টিকটক তারকা খাবানি লেইমের কথা৷
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যিনি খাবি লেইম নামেই অধিক পরিচিত। বর্তমানে তিনি টিকটকে সর্বোচ্চ ফলোয়ারের মালিক।
অথচ এক সময় কাজ করতেন ইতালির উত্তরাঞ্চলের শিল্প শহরে চিভাসোর এক কারখানায়। ২০২০ সালে করোনার ধাক্কায় খাবিসহ অসংখ্য শ্রমিক চাকরি হারান।
চাকরি হারিয়ে বাবা-মায়ের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যান তিনি। সেনেগালিজ বাবা তাকে নতুন করে চাকরির আবেদন করার তাগিদ দিতে থাকেন।
কিন্তু সেসব কথায় কান না দিয়ে শুরু হয় তার টিকটক যাত্রা। ঘরে বসে ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে থাকেন সোশ্যাল সাইটটিতে।
২২ বছর বয়সী এই তরুণ টিকটকার ডুয়েট এবং স্টিচ ফিচার ব্যবহার করে লাইফ হ্যাকস কন্টেন্টের রিয়্যাকশন ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করতে থাকেন। যা তাকে রাতারাতি তারকা খ্যাতি এনে দেয়।
লাইফ হ্যাকসের নামে চাকু দিয়ে কলা ছিলানো কিংবা মোজা পড়তেও টুলসের সহায়তা নেওয়া এমন কিছু অদ্ভুত ভিডিওর রিয়্যাকশন ভিডিও তৈরি করেন খাবি।
সেসব ভিডিওতে তিনি একদম চুপচাপ থেকে একই কাজগুলো করে দেখান সহজ পন্থায়। মূলত প্রতিটি ভিডিওতে তার কমেডিক ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন আর সিম্পলিসিটি তাকে দ্রুত ভাইরাল করে দেয়।
খাবি লেইম নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আর ভিডিওতে চুপ থাকার বিষয়টিকে তিনি তুলনা করেন সার্বজনীন ভাষার সাথে।
শুরুতে ইতালিয়ান ভাষায় ইতালিয়ান সাবটাইটেল দিয়ে ভিডিও প্রকাশ করতেন খাবি। কিন্তু সেসব ভিডিও তেমন সাড়া ফেলেনি।
এরপর তিনি যখন কাঁটা চামচকে টেপ মেরে চা-চামচ বানানোর জবাবে একটি নির্বাক রিয়্যাকশন ভিডিও বানান তখন সেই ভিডিওটি বেশ ভাইরাল হয়।
পরবর্তীতে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কোনো শব্দ খরচ না করেই তিনি একের পর এক ভাইরাল ভিডিওকে ডিবাঙ্ক করেন। যার ফলে খুব দ্রুত তার ফ্যান ফলোয়ার বাড়তে থাকে।
বর্তমানে টিকটকে তার ফলোয়ার প্রায় ১৫৩ মিলিয়নেরও বেশি৷ ইতালি ছাড়া ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও নিজ দেশ সেনেগালে তার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।
খাবির উত্থান নজর কেড়েছে বিভিন্ন তারকা ব্যক্তিদের। জনপ্রিয় অভিনেতা, অভিনেত্রী, গায়ক এবং ফুটবলারদের সাথে তাকে ভিডিও করতে দেখা গেছে।
টিকটকে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বিশ্বের অনেক জনপ্রিয় ইউটিউবাররা তার সাথে কোলাবোরেশান করার জন্য যোগাযোগ করতে শুরু করেন। বর্তমানে খাবি লেইম শুধুই একজন টিকটক সুপারস্টার না, বরং তিনি এখন প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।
জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তেরও মালিক হয়েছেন৷ খাবি লেইম টিকটকে প্রতিটি স্পনসর্ড ভিডিওর জন্য প্রায় সাড়ে সাত লাখ ডলার নিয়ে থাকেন।
সবমিলিয়ে প্রতি মাসে তার আয় প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তিনি আনুমানিক ১৩ মিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক।
খাবি লেইম প্রেম করছেন জাইরা নুচ্চি নামের এক ইন্সটাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারের সাথে। খাবির মতো জাইরা নুচ্চিও নিজ প্রচেষ্টায় সফলতা পেয়েছেন৷
২০২০ সালের অক্টোবরে ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টের মাধ্যমে তারা দুজন নিজেদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেন।
খাবি লেইমের জন্ম সেনেগালে। তবে এক বছর বয়স থেকেই তিনি পরিবারের সাথে ইতালিতে বসবাস করছেন এবং সেখানেই পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি তিনি ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
খাবি লেইম নির্বাক ভিডিও বানিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও বাস্তবে তিনি ইংরেজি ও ইতালিয়ান ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া খাবির এখন স্বপ্ন সিনেমায় ক্যারিয়ার গড়া। স্বপ্ন দেখছেন তার আইডল উইল স্মিথের মতো তিনিও একদিন হলিউড মাতাবেন।