থ্যাইল্যান্ডে ঘুরতে যাবেন, কিন্তু বুঝতে পারছেন না ঠিক কত টাকায় সেখানে গিয়ে পছন্দের কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে ঘুরে দেখতে পারবেন? আর এই দন্দে ভোগার ফলে পরিকল্পনা করেও যেতে পারছেন না!!
মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় যাবতীয় খরচ করে পাঁচ দিন ঘুরে আসতে পারেন থ্যাইল্যান্ডের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্থানে।
থ্যাইল্যান্ডে ভ্রমনের প্রথম খরচ বিমান ভাড়া। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির বিমানে আপনি সেখানে পৌছে যেতে পারেন।
তবে সর্বনিম্ন বিমান ভাড়ার শুরু ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজারের মধ্যে। আর বিলাসবহুল বিমানগুলোতে ভ্রমনের জন্য আপনি ৪৫ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবেন।
বিমান বন্দরে নেমে আপনাকে প্রথমে যে খরচটি করতে হবে সেটি হছে আনলিমিটেড ইন্টারনেট সহ সেখানকার একটি সিম সংগ্রহ করে নিতে হবে।
সাত দিন বা পাঁচ দিনের জন্য আপনার যোগাযোগ সচল রাখার জন্য এ বাবদ আপনার খরচ করতে হবে ২৫০ থেকে ৩০০ বাথ। যা টাকার হিসাবে দাঁড়ায় ৭৫০ থেকে ৯০০ এর মধ্যে।
ব্যাংককের মোটামুটি ভাল মানের একটা হোটেলের জন্য আপনার ভাড়া গুনতে হবে প্রতি রাতে ১৫০০ থেকে ২০০০ এর মধ্যে। তবে এর থেকে বেশি খরচে থাকার জায়গাও রয়েছে অসংখ্য।
এরপর ব্যাংকক থেকেই অধিকাংশ তাদের ভ্রমনের জন্য নির্ধারিত স্থান গুলোতে বের হয়ে যায়। আলাদা আলাদা ভাবে যে যায়গাগুলো দর্শনার্থীদের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে তার মধ্যে প্রথমেই আছে পাতায়া।
পাতায়াতে এক রাতের জন্য ৩ হাজার টাকার মধ্যে মান সম্মত হোটেল পেতে পারেন। তবে চাইলে এর থেকে অনেক বেশি খরচ করেও সেখানে থাকার পর্যপ্ত ব্যবস্থা আছে।
সেখান কার খাবার দাবার এর খরচ ও যে অনেক বেশি সেরকম নয়। খাবার এর প্রতি বেলায় আপনাকে ব্যয় করতে হবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। কেউ যদি ভোজন বিলাসী হয়ে থাকেন তবে আপনি এই খরচ আরো বাড়াতে পারেন।
পাতায়ার পরে দর্শনার্থীদের কাছে দ্বিতীয় পছন্দের স্থান ফুকেট। ব্যাংক থেকে ফুকেট এর বিমান খরচ সর্বনিম্ন ৪৫০০ টাকার মত। তবে মাঝে মাঝে এই ভাড়া ওঠা নামা করলেও সেটা সাধ্যের মধ্যেই থাকে।
ফুকেটে খাবার খরচও অনেকটাই পাতায়ার কাছাকাছি। সেখানে তিন বেলার খাবার খরচ জন প্রতি ২ হাজার মধ্যেই সেরে নিতে পারবেন।
আর ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা ভাড়া খরচ করে ফুকেটের আশেপাশের সাতটি সমুদ্র সৈকতে বেশ আরাম করে ঘুরে দেখতে পারবেন। তবে কেনাকাটা বা অন্যান্যে খরচ সমস্ত কিছু এই খরচের বাইরে।
এছাড়া বেশ কিছু আইল্যান্ডের কাছাকাছি রিসোর্টও আছে। কেউ কেউ সেখানে গিয়েও থাকার পরিকল্পনা করে থাকেন। সেই ক্ষেত্রে যে কোন সাধারন রিসোর্ট গুলোর ভাড়া হয়ে থাকে ১০০০ থেকে ১৫০০ বাথ বা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার পাচশ টাকার মতো।
থ্যাইল্যান্ডে ভ্রমনের জন্য উল্লেখযোগ্য সমস্ত দর্শনীয় স্থানের সাধারন মানের হোটেল ভাড়া, থাকা খাওয়া আর লোকাল যানবাহনের খরচ একি রকম। তবে কেউ যদি বিলাসি ভাবে কাটাইতে চাই, সেই সুযোগ ছড়িয়ে আছে পুরো থাইল্যান্ড জুড়ে।
তবে দেশে বেশ কিছু এয়ারলাইন্স কোম্পানি আছে যারা বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রে কিছু প্যাকেজ ভিত্তিক অফারের ব্যবস্থা রাখে সারা বছর থ্যাইল্যান্ড ভ্রমনের জন্য। সেই ক্ষেত্রে যাওয়া আসার খরচ কিছুটা কমে যায়।
শীতেঁর মৌসুম মানেই বেরিয়ে পড়তে হবে ভ্রমনে। অনেকেই যেমন দেশের ভেতর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে পছন্দ করে। তেমনি কেউ কেউ আবার দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনাও করে থাকে।
আর দেশের বাইরে ভ্রমন পিয়াসু অধিকাংশের কাছে বিদেশ ভ্রমনের তালিকায় প্রথম স্থান পাওয়া দেশটি হচ্ছে থাইল্যান্ড। সমুদ্র, পাহাড়, অসংখ্য দর্শনীয় স্থানে পরিপুর্ন দেশটি।