দেশের পর্যটনখাতের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিনত হতে যাচ্ছে দক্ষিণবঙ্গ অঞ্চল। মূলত পদ্মা সেতুর সুফল হিসাবেই এমন প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিগতদিনে দেশের পর্যটনকেদ্র গুলোর মধ্যে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, শ্রীমঙ্গল, বান্দারবান, রাঙ্গামাটি ইত্যাদিই ছিলো চাহিদার শীর্ষে। যেকোন উপলক্ষে এসব অঞ্চলেই ছুটে যেতেন অধিকাংশ ভ্রমনপ্রেমী।
দক্ষিনবঙ্গ অঞ্চলে বেশ কিছু আকর্ষনীয় পর্যটন গন্তব্য থাকলেও যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো ছিলো না। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্তেও অনেক ভ্রমণপিপাসু ছুটে যেতেন অন্যত্র।
দক্ষিন বঙ্গের অন্যতম আকর্ষন পিরোজপুর ও ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাজার। সবুজ ঘেরা এসব ভাসমান বাজারের ছবি দেখে মুগ্ধ হন দেশ বিদেশের হাজারো ভ্রমণপ্রেমী।
তবে আগে এসব স্থাণে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সময়ের প্রয়োজন হতো অনেক বেশি। ফলে ইচ্ছা থাকাও ব্যস্ত শহরবাসীর পক্ষে সব সময় সুযোগ হয়ে উঠতো না।
বর্তমানে এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হবার পর এখন একদিনেই ঘুরে আসা যায় দৃষ্টিনন্দন এই গন্তব্য।
ভোরে ঢাকা থেকে বের হয়ে মাত্র তিন থেকে চার ঘন্টায় পৌছে যাওয়া যায় বরিশাল। এরপর সিএনজি চড়ে স্বল্প সময়েই পৌছানো যায় পেয়ারা বাগান এবং ভাসমান বাজারে।
ফলে এখন এই অঞ্চলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। নতুন বছরে এই প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অন্যতম আকর্ষন সুন্দরবন এবং কুয়াকাটা। কিন্তু আগে এই দুটি গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ফেরির বাধা পার হতে হতো। যা একইসাথে ছিলো ভুগান্তিকর এবং সময়সাপেক্ষ।
বর্তমানে পদ্মাসেতু চালু হবার পর এই সমস্যা দূর হয়েছে। এখন নতুন নতুন যানবাহনের মাধ্যমে পর্যটকরা সহজেই যেতে পারছেন নিজেদের গন্তব্যে।
এছাড়া এসব অঞ্চলে পর্যটকদের থাকার জন্য নতুন আবসন গড়ে উঠছে। সুন্দরবনের কাছাকাছি তৈরি হচ্ছে রিসোর্ট। আবার কিছু কিছু ট্রাভেল এজেন্সি আয়োজন করছে সুন্দরবনের ভ্রমন প্যাকেজ।
সব মিলিয়ে নতুন বছরে এই অঞ্চলের পর্যটন আরো সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে শুধু কুয়াকাটা কিংবা সুন্দরবন নয়। দক্ষিনবঙ্গের আরো বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলার পায়রা বন্দর, ভোলার তাড়ুয়া সমুদ্র সৈকত, চর কুকরি-মুকরি ইত্যাদি জায়গায় ছুটে যাচ্ছেন পর্যটকরা।
এছাড়া দক্ষিনবঙ্গের অন্যান্য অঞ্চলেও পর্যটকদের সংখ্যা তুলনামূলক বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরকারি ভাবেও এখন এসব অঞ্চল ভ্রমনে জোর দেয়া হচ্ছে । বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন নিয়মিত গোপালগঞ্জ এবং কুয়াকাটা ঘিরে ট্যুর আয়োজন করছে।
এছাড়া বিভিন্ন গ্রুপ এবং ট্রাভেল এজেন্সিও পরিচালনা করছে ট্যুর প্যাকেজ।
বিভিন্ন মেয়াদী এসব ট্যুর প্যাকেজের আওতায় থাকছে- পদ্মা সেতু, ভাঙ্গা চত্বর, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজার কমপ্লেক্স, স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং জন্মভিটা দেখার সুযোগ। পাশাপাশি বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদেও ছুটে যাচ্ছেন অনেকে।
বর্তমানে দক্ষিনবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় অনেক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ ফরিদপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় নতুন নতুন রিসোর্ট তৈরি হচ্ছে। যেখানে থাকছে দৃষ্টিনন্দন প্রকৃতির পাশাপাশি নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ।
যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবার কারণে এসব রিসোর্টে সহজেই পৌছাতে পারবেন পর্যটকরা। ফলে নতুন বছরে দক্ষিনবঙ্গ হয়ে উঠবে আরো জনপ্রিয় গন্তব্য। এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।