এক পাশে তিনটি হরিন আর অন্যপাশে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের ছবি, মনে পড়ে দৃষ্টিনন্দন সেই এক টাকার নোটের কথা?
এখন এক টাকার কোন ব্যবহার না থাকলেও- এক সময় এই এক টাকাতেই অনেক কিছু হতো।
আজ থেকে কয়েক বছর আগেও এক টাকার মূল্য ছিলো। এক টাকার নোট কিংবা কয়েন দিয়ে আইসক্রিম কেনা যেতো, এক টাকা তেই আস্ত এক টোঙা বাদাম পাওয়া যেতো।
বাচ্চারা কান্নাকাটি করলে মা বাবা হাতে ধরিয়ে দিতেন এক টাকা, তাতেই দোকান থেকে কিনে আনা যেতো লজেন্স, ক্যান্ডি সহ নানা রকম জিনিসপত্র।
এখন যাদের বয়স ৩৫/৪০ বছর, তারা তো ছোটবেলায় এক এক টাকা দিয়ে অনেক কিছু করতে পেরেছেন।
নব্বই দশকের দিকেও বাংলাদেশে এক টাকায় ডিম পাওয়া যেতো। সেই ডিম ভেজে একটু একটু করে দেয়া যেতো পরিবারের সবার পাতে।
অথচ এখন এক টাকা ভিক্ষুককেও দেয়া যায় না। আরো কয়েক বছর আগে থেকেই এক টাকা ভিক্ষা নেয়া বন্ধ হয়েছে।
শুনলে অনেকেই অবাক হবেন যে, একটাকা দামের ম্যাচবক্সও এখন আর তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।
এমনকি এখন মাত্র কয়েক জাতের ক্যান্ডি আছে এক টাকা দামের। এর মধ্যে অনেকগুলোর দাম আবার দুই টাকা হয়ে গেছে।
কাচামালের দাম না কমলে বাকিগুলোও এক টাকায় বিক্রি করা যাবে না বলে জানিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি।
খুব সম্ভবত ক্যান্ডিই হতে যাচ্ছে এক টাকায় বিক্রি হওয়া সর্বশেষ পন্য। সেটাও আরো কিছুদিন পর উঠে যাবে।
তখন এক টাকা দিয়ে আর কিছুই কেনা যাবে না। অথচ এখন থেকে পনেরো ষোলো বছর আগেও ২৫ পয়সা দামের ক্যান্ডি পাওয়া যেতো গ্রামাঞ্চলে। এক টাকা দিয়ে চার চারটা ক্যান্ডি কিনে বাড়ি ফিরতো ছেলে মেয়েরা।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার মাত্র পঞ্চাশ বছর পেরিয়েছে। এখন থেকে পঞ্চাশ বছর আগে আস্ত একটা দেশি মুরগি পাওয়া যেতো এক টাকা দিয়ে।
৭০ দশকে দেশে যখন দ্রব্যমূল্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিলো, তখনো এক টাকা দিয়ে এক কেজির বেশি চাল পাওয়া যেতো।
এখানকার বয়স্ক লোকেরা ছোটবেলায় এক টাকা অনেক কিছুই করেছেন। এসব তো মাত্র পঞ্চাশ বছর আগের গল্প। আরেকটু পিছনে গেলে বিস্মিত হতে হবে এখনকার প্রজন্মকে।
এদেশেই শায়েস্তা খানের আমলে এক টাকায় পাওয়া যেতো আট মন চাল। এই গল্প মাত্র তিন চারশো বছর আগের।
বর্তমানে যারা চাকরিবাকরি করছেন, তারা ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় টিফিনের জন্য মায়ের কাছ থেকে পেতেন এক টাকা।
সেই এক টাকা দিয়েই সিঙ্গাড়া সমুচা পাওয়া যেতো। এখন ভালো মানের এক কাপের চায়ের দাম হয় বিশ টাকা। ২০ বছর আগে এক টাকাতেই চা খেয়েছেন তখনকার মানুষ।
এক টাকার মূল্য সম্পর্কে ডলারের দাম দিয়েও উদাহরণ দেয়া যায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৭ টাকা ৩০ পয়সা।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ২৫ পয়সা ৫০ পয়সার কয়েন দীর্ঘদিন চালু ছিলো। তবে সেসব কয়েন এখন ইতিহাস। জাদুঘর ছাড়া সেগুলোর আর কোথাও মূল্য নয়।
বর্তমানে এক টাকার কয়েক টিকে আছে কোন রকম। যদিও মানুষের কাছে অনেক আগেই গুরুত্ব হারিয়েছে এই কয়েন। এখন শুধুমাত্র হাতে গোনা দুই একটি ক্যান্ডি আর ম্যাচবক্স কেনা যায় এক টাকা দিয়ে।
চলমান মূল্যস্ফীতির পর এই সংখ্যাও কমে এসেছে। আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ১ টাকার কয়েনের স্থাণও হবে জাদুঘরে।
তখন এক টাকা দিয়ে লজেন্স আইসক্রিম কেনার গল্প শুনে অবাক হয়ে তাকাবে নতুন প্রজন্ম।