অন্যান্য


শীতকালে ভ্রমন উপযোগী দেশের সাত দর্শনীয় স্থান


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

শীতকালে ভ্রমন উপযোগী দেশের সাত দর্শনীয় স্থান

ভ্রমনপিপাসু মানুষের কাছে শীতের মৌসুম সবসময় ভ্রমণের জন্য উপযোগী সময়। আমাদের দেশে বালুময় মরুভুমি আর বরফ ছাড়া এমন আর কি আছে যে সেটা নেই! ঋতুভেদে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে রুপ নেয় নানা বৈচিত্রে। 

আর সেই সৌন্দর্যের ওম নিতে শীতকাল আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। সেই ডাক উপেক্ষা করে ঘরে বসে থাকতে কে পারে?! চলুন জেনে নেয় শীতে ভ্রমণের জন্য দেশের অন্যতম দশটি পর্যটন স্থান সম্পর্কে!

সেন্টমার্টিন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। শীতকালে ঘুরে দেখার জন্য বেশ উপযোগী এই দ্বীপ। স্থানীয় ভাবে অনেকেই এই দ্বীপকে নারিকেল জিঞ্জিরা বলে থাকে। মূলত শীতকালে সাগরের উত্তাল ভাব তেমন না থাকায় সেখানকার নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা থাকে বেশ ঝুকিমুক্ত।

প্রতিবছর শীতের মৌসুমে সেন্টমার্টিনের নীল জলরাশি, সারি সারি নারিকেল গাছ, আর স্বচ্ছ পানির আবরনে ঢাকা প্রবাল পাথরের অপরুপ দৃশ্য দেখতে লাখ লাখ মানুষ জড় হয় এই নারিকেল জিঞ্জিরায়।

এই দ্বীপটিতে সমুদ্র ছাড়াও রয়েছে জেলে পাড়া বিশাল শুটকি পল্লী আর সাগর কেন্দ্র করে গড়ে মানুষের জীবন-যাপন দেখার সুযোগ। যা আপনাকে দেবে অন্যরকম প্রশান্তি।

এই দ্বীপের দক্ষিনে ১০০ থেকে ৫০০ মিটার আয়তনের আরেকটি ছোট দ্বীপ রয়েছে। যাকে স্থানীয়রা ছেড়াদিয়া-সিরাদিয়া বা ছেড়া দ্বীপ নামে পরিচিত। এই দ্বীপটিও ঘুরে দেখার জন্য বেশ সুন্দর।

বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পরিচয়ের অন্যতম পরিবাহক পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। নাগরিক কর্মব্যস্ততার রেশ কাটিয়ে উঠার জন্য কক্সবাজার হতে পারে অন্যরকম প্রশান্তিময় এক ভ্রমনস্থান।

শীতকালে সামুদ্রিক আবহাওয়ার উষ্ণ থাকায় এখানে তুলনামুলক শীতও কম থাকে। তাই বিশাল সাগরের ঢেউ এর অতলে হারিয়ে যেতে এই মৌসুমী লক্ষাধিক মানুষ কক্সবাজারে ভ্রমনে আসেন।এছাড়া পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে যাওয়া কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রাস্তা হতে পারে আপনার ভ্রমণের বাড়তি আকর্ষন।

সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামটির সবচেয়ে সুন্দর জায়গাটির নাম। কেউ কেউ এই জায়গাকে রাঙ্গামাটির ছাদও বলে থাকেন। শীতে সাজেকের চরিত্র একেবারেরি বদলে যায়। বিশাল উচু সারি সারি পাহাড়ের উপর ভেসে বেড়ানো কুয়াশা যেন মনে হয় মেঘের ভেলা।

পাহাড় থেকে পাহাড়ে মেঘেদের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে দেখার জন্য সাজেকের বিকল্প আর কিছু হতে পারে না। সাজেক ভ্যালি এমন এক আশ্চর্য জায়গা,যদি আপনি সৌভাগ্যবান হন তবে এক দিনে প্রকৃতির তিনরকম চরিত্রও দেখতে পারবেন। যা আপনাকে ভীষণ ভাবে চমকে দেবে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালির অবস্থান রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও খাগড়াছড়ির দীঘিনাল থেকে এর যাতায়াত অনেকটা সহজ। অপরুপ সৌন্দর্য্যের কারনেই পাহাড় প্রেমীদের ভ্রমন তালিকায় প্রতিবছর প্রথমে থাকে এই সাজেক ভ্যালি।

এবার আসা যায় দেশের সমুদ্র কন্যা কুয়াকাটার কথায়। যেখানে গেলে আপনি একসাথে দেখতে পারবেন সুর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। এছাড়াও ফাতরার বন, শুটকী পল্লী, গঙ্গামতীর জল ও লাল কাকড়ার দ্বীপ কুয়াকাটার অন্যতম আকর্ষনীয় স্থান।

তাছাড়াও পরিচ্ছন্ন বেলাভূমি, অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্র সৈকত, দিগন্ত জোড়া নীল আকাশ আর ম্যানগ্রুভ বন এই সাগরকন্যার সৌন্দর্য্যে যোগ করেছে অন্যমাত্রা।

সিলেটের চা বাগানগুলো শীতে ভ্রমনের জন্য দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রাখায় যায়। শীতের হিম হাওয়ায় স্নিগ্ধ সকালে এক কাপ চা হাতে ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়া চা বাগান দেখার মধ্যে এক ধরনের রোমাঞ্চকর অনুভতি আছে।

চা বাগান, আর সেখানে কাজ করা মানুষের জীবন যাপনের ছন্দ আপনাকে ভুলিয়ে দিতে পারে সারা বছরে জমে থাকা মানুষিক ক্লান্তি। চা শ্রমিকদের অধিকাংশই আদিবাসী। রোজ সন্ধ্যায় কাজের পরে এরা গান-বাজনায় মেতে ওঠে।

তাই শীতেঁর হিম হাওয়া নির্মল বাতাস আর ছোট টিলা থেকে ভেসে আসা চা পাতার সুঘ্রাণ আপনাকে ভুলিয়ে দিতে পারে অনেক কিছু। সেই সাথে কখন যে সময় চলে সেটাও ঠিক বুঝতে পারবেন না।

এই তালিকায় ষষ্ঠ নাম্বারে রয়েছে বান্দরবন। মেঘ ছুতে চান? মেঘের ভেলায় ভাসতে চান? তাহলে বান্দরবনের বিকল্প নেই। আর শীতে সবুজে ঘেরা সব পাহাড়ের লাবন্যতা যেন বেড়ে যায় আরো কয়েকগুন।

সাঙ্গু নদী বুকে নিয়ে বয়ে চলা বান্দরবনে পাহাড়ের পাশাপাশি আরো কিছু সুন্দর দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাদির পাহাড়ের চুড়ায় স্বর্ণ মন্দির, নীলাচল,নীলগিরি, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সের হৃদ, চিম্বুক পাহাড়, ঝুলন্ত সেতু শৈল প্রপাত সহ অসংখ্য সুন্দর সব দর্শনীয় স্থান।

তাই দেশের অন্যতম অনন্য রুপবৈচিত্রে ঘেরা বান্দরবন হতে পারে যে কোন কারো অবসর যাপনের জন্য অন্যতম সুন্দর যায়গা। বিশেষ করে পাহাড় প্রেমীদের জন্য এর বিকল্প নেই।

সর্বশেষ ভ্রমণের জন্য আমরা যে স্থান সম্পর্কে কথা বলবো সেটি আমাদের সকলের কাঙ্ক্ষিত ভ্রমন স্থান সুন্দরবন। সাগর-পাহাড়ের মতো শীতকালে বনভুমিও সৌন্দর্য্যে প্রেমীদেরকে আলাদা ভাবে আকর্ষন করে।

ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যে জায়গা করে নেয়া ছয় হাজার বর্গ-কিলোমিটারের এই সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বনে ৩৩০ প্রজাতির বড় ছোট নানা ধরনের গাছ রয়েছে। সেই সাথে দেখা মিলবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিন,মায়া হরিণ, কুমির,বানরসহ বৈচিত্রময় নানা ধরনের প্রানীকুল।

সুন্দরবনের ভেতর বেশ কিছু স্থান আছে যা পর্যটকদের বেশ আকর্ষন করে। এরমধ্যে কটকা, হিরন পয়েন্ট, কোকিলমণি, দুবলার চর, পুটনি দ্বীপসহ বেশ কিছু দর্শনীয় জায়গা রয়েছে। তাই এডভেন্সার পছন্দ করেন যারা তারা এই শীতে গিয়ে কাটিয়ে আসতে পারেন ব্যক্তিগত কিছু সময়।



জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।