বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে, খাবার খাওয়ার ভিডিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
কারো কাছে ভিডিও গুলো চোখের ক্ষুধা মেটায়, আবার কারো কাছে তা কেবল বিনোদনের মাধ্যম।
এমনই খাবার খাওয়ার ভিডিও করে অর্থ আয় করেছেন, ময়মনসিংহের যুবক মো: আব্দুল্লাহ আল নোমান। বর্তমানে চব্বিশ বছর বয়সী এই যুবকের মাসিক ইনকাম প্রায় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা।
২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে, সবার মতো ঘরবন্দি হয়ে পড়েন নোমানও। তখনই চিন্তা করেন, ঘরে বসে উপার্জনের জন্য অনলাইনে কোনো কিছু করার।
কোরিয়ান এক ব্যক্তির খাওয়ার ভিডিওতে ,মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি।
ভিডিও দেখে দেখে ,তিনিও শখের বসেই খাওয়া শুরু করেন।
একসময় একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে ,নিজের খাওয়ার ভিডিও করে, সেখানে আপলোড দিতে থাকলেন নোমান।
প্রথম দিকে তার তৈরি ভিডিওগুলো তেমন কোনো সাড়া ফেলেনি।
রাগে-ক্ষোভে এসব ছেড়েই দিতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ততদিনে খাবার বাবদ খরচ হয়ে গেছে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা।
নতুন করে জেদ চাপলো মনে। এর শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি।
এরমধ্যে হঠাৎ নোমানের একটি খাওয়ার ভিডিও ,ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
তারপর থেকেই নতুন উদ্দীপনার সাথে ভিডিও তৈরি করতে শুরু করেন।
বর্তমানে নোমানের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা পাঁচ লক্ষ একাত্তর হাজার, এবং ফেসবুক পেইজে রয়েছে সাড়ে ছয় লক্ষাধিক ফলোয়ার।
প্রতি মাসে তার খাবারের পিছনে খরচ করতে হয় ,দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা।
কখনো আস্ত খাসি, কখনো আস্ত মুরগি বা একশত কোয়েল পাখির ডিম, প্লেট ভর্তি কাঁচামরিচ নিয়ে, ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি।
তার পোস্ট করা খাবারের ভিডিও গুলোতে থাকে লক্ষ লক্ষ ভিউস। প্রতিটি পোস্টেই নেটিজেনদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক কমেন্টসের দেখা মেলে৷
তবে এই পথ চলা প্রথম দিকে মোটেও সহজ ছিল না। ভিডিও তৈরির শুরুর দিকে নোমানকে শুনতে হয়েছিলো নানা কটুক্তি।
পেটুক, খাদক, রাক্ষস নামে সম্বোধন করেছে তার প্রতিবেশীরা।
কিন্তু কারো কথায় কান দেননি নোমান। কারণ এটিই ছিল তার আয়ের উৎস।
বর্তমানে নিজের আয়ের টাকায়, মাকে নিয়ে ভালোই জীবন যাবন করছেন তিনি।
ভিডিও মেকিং ও এডিটিং এর জন্য কিনেছেন একটি আইফোন ও কম্পিউটার।
স্থানীয় বাজারে তাঁর আয়ের টাকায়, দু’তলা একটি ভবনের কক্ষ ভাড়া নিয়ে, নিয়মিত করছেন ভিডিও তৈরীর কাজ।
নোমানের এই সফলতার পেছনে রয়েছে অনেক কষ্ট আর পরিশ্রম।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, যারাই কোনো সফলতা অর্জন করুক না কেন, এর পেছনে অবশ্যই কষ্টের গল্প থাকে। অনেকে ভাববে যে, খাই আবার ইনকাম করি। কিন্তু এটার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কষ্ট।
বেশি পরিমানে খাবার খাওয়ার পাশাপাশি, ভাবতে হয় কিভাবে ডেকোরেশন করা যায়।
রান্নার বিষয়টাও দেখতে হয় ঠিকঠাক ভাবে। বাজার করার দায়িত্বটাও পালন করতে হয় নিষ্ঠার সাথে।
ভিডিও করা শেষে যথেষ্ট সময় ব্যয় করে, সেটি এডিটের পর উপস্থাপন করতে হয় দর্শকদের সামনে।
সব মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটির পেছনে আছে কয়েকজন মানুষের পরিশ্রম।