দীর্ঘ ছয় ঘন্টা আকাশে উড়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান ‘স্ট্রাটোলঞ্চ রক’। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমির ওপর বিমানটি পরিক্ষা মূলক ভাবে উড়ানো হয়েছে।
ডানার দৈর্ঘ্যের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান এটি। প্রথম দেখায় একে মনে হবে দুটি বিমান যেন একসঙ্গে জুড়ে আছে।
এর ডানা একশ ১৭ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। অর্থাৎ একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বেশি লম্বা এই বিমানের ডানা।
বিমানটি যদি একটি ফুটবল মাঠের সেন্টার বরাবর বসানো হয়, তাহলে এর পাখা দুই পাশের দুই গোলপোস্টকে ১৫ ফুট করে ছাড়িয়ে যাবে।
বিশাল আকৃতির হওয়ার কারণে এর নির্মাণকাজ চলার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়েছিল।
এই বিমানের আছে দুইটি ককপিট। আছে ছয়টি টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, ২৮টি চাকা। বিমানের মূল অংশ দেখতে অনেকটা মিসাইলের মতো।
এটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়ামের পরিবর্তে কার্বন ফাইবার।
এবার পরীক্ষা মূলক উড্ডয়নের সময় সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় উড়েছে এটি। যদিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটোলঞ্চের দাবি, ৩৫ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে উড়ে চলার সক্ষমা আছে এই বিমানের।
এতে ব্যবহার করা হয়েছে ছয়টি ‘বোয়িং ৭৪৭’ প্লেনের ইঞ্জিন। নকশা হয়েছে হাইপারসনিক যান বহন ও উৎক্ষেপণের মতো বিষয়গুলো মাথায় রেখে।
দুইশ ২০ টন পর্যন্ত পে-লোড বহন করতে পারে এই বিমান। তবে এ বিমানটি তৈরির খরচ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অভিনব এই বিমান এর কাজ হল, জ্বালানি খরচ কমানো। এটি মূলত তৈরি করা হয়েছে পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য।
মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর লঞ্চ প্যাড হিসেবে কাজ করবে এটি। এর পেটের কাছাকাছি আছে রকেট লাগানোর জায়গা।
এখন স্যাটেলাইট বসানো হয় রকেট দিয়ে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে।
কিন্তু স্ট্রাটোলঞ্চের পরিকল্পনা হচ্ছে, এই বিশাল বিমানে করে স্যাটেলাইটকে প্রায় দশ কিলোমিটার উঁচুতে তুলে তারপর পৃথিবীর কক্ষপথে ছেড়ে দেয়া।
এর ফলে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের খরচ অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ছোট আকারের কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে স্থাপনের খরচ কমে আসবে। মহাকাশ অভিযানে গ্রাহকদের কম দামে বেশি সুযোগ দিতেই এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
সামরিক প্রয়োজনে কম খরচে মহাকাশে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দিবে স্ট্র্যাটোলঞ্চ। তবে সাধারণ যাত্রী বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হবে না।
মাইক্রোসফটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত পল অ্যালানের কোম্পানি সর্ব প্রথম বিশাল আকৃতির এই বিমানটি তৈরি করেছে।
২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে মোজাবে এয়ার অ্যান্ড স্পেস পোর্ট থেকে প্রথমবারের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ানো হয় বিমানটি।
সেসময় দুই ঘন্টার ফ্লাইট শেষে আবার বিমান ঘাঁটিতে ফিরে আসে এটি।
এবার নবম বারের মতো পরিক্ষা মূলক ভাবে আকাশে উড়েছে এই বিমান। এতে করে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে এটি। এমনটাই জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্ট্রাটোলঞ্চ কোম্পানি।
স্ট্রাটোলঞ্চ তাদের এই বিমানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বলে দাবি করছে ডানার বিস্তার হিসেব করে। কিন্তু বিমানের দৈর্ঘ্য প্রস্থের বিবেচনায় এর চেয়ে বড় অনেক বিমান রয়েছে।