
তীব্র শীতের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ পশমের কাপড় পরিধান করে, ঘরের পরিবেশ গরম করে রাখে, এমনকি গরম পানিও খেয়ে থাকে।কিন্তু প্রশ্ন জাগতে পারে, শীতের সময় প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকা অন্যান্য প্রাণীরা কিভাবে শীত নিবারণ করে, কিংবা সেই প্রতিকূল পরিবেশের সাথে কিভাবে মোকাবেলা করে থাকে। প্রাণীরা শীতের হাত থেকে বাঁচতে বিশেষ কিছু কৌশল অবলম্বন করে। শীতল রক্ত বিশিষ্ট মাছের সার্বজনীন বাসস্থান জলাশয়, হোক তা সাগর, নদী কিংবা পুকুর।শীতকালে জলে থাকা মাছেরাও শীত অনুভব করে। কিন্তু তারপরও সাইবেরিয়া অঞ্চলের তীব্র শীতেও মাছেদের বেঁচে থাকতে দেখা যায়।এই রহস্যের উত্তর রয়েছে মাছের বিশেষ ধরণের অভিযোজন ক্ষমতার মধ্যে। কিছু মাছের রক্তে এক প্রকার এন্টি ফ্রিজিং এনজাইম থাকে, যা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রাতেও মাছের রক্তকে জমতে দেয় না।শীতের সময় মাছ দেহের বিপাক ক্রিয়া কমিয়ে দেয়, ফলে খাদ্যের প্রয়োজনও কম হয়। তাছাড়া কোন অঞ্চলের জলাশয়ের উপরিভাগের পানি বরফে পরিণত হলেও নিচে সমুদ্র স্রোতের কারণে পানি জমে না, মাছ তখন অপেক্ষাকৃত গভীর অঞ্চলে চলে যায়।কিছু পরিবেশিক কারণেও মাছ শীতল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। লবণাক্ত পানি সহজে জমাট বেঁধে বরফে পরিণত হয় না, তাই সামুদ্রিক মাছ বেঁচে থাকতে পারে। আবার কিছু কিছু মাছ বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেও নিজেদের শীত থেকে রক্ষা করে। যেমন পোনা মাছ ব্যাঙের মতই শীত নিদ্রায় চলে যায়। পুকুরের মাটি খুঁড়ে ভেতরে ঢুকে যায়, এবং মাটিকে চাদরের মত ব্যবহার করে নিজেদের ঢেকে রেখে পুরো শীতকালটাই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী তিমি- শীতের সময় ঠাণ্ডা পানির অঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ পানির অঞ্চলের দিকে চলে যায়।সাইবেরিয়া অঞ্চলের পাখিরা অতিরিক্ত শীতের সময় এশিয়ার দেশগুলোতে অভিগমন করে। আবার কানাডা থেকে পাখিরা চলে যায় মেক্সিকো আর আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলগুলোতে। মোনার্ক বাটারফ্লাই নামের প্রজাপতিরাও শীতের সময় পাখিদের দেখাদেখি পরিযায়ী জীবন বেছে নেয়।কিছু কিছু প্রাণী আবার দেহের বিচিত্র বৈশিষ্ট্যের জন্য শীতের মধ্যেও টিকে থাকতে পারে। যেমনঃ সাদা লেজ বিশিষ্ট হরিণদের শীতের সময় দেহের লোমগুলো অনেক লম্বা ও ঘন হয়ে যায়।এতে দেহের ভেতরের তাপ বাইরে যেতে পারে না, আবার বাইরে থেকেও ঠাণ্ডা ঢুকতে পারে না বলে উষ্ণ থাকে। নিজের পশমই তাদের শীত বস্ত্রের মত করে আবৃত রাখে।শীতের সময় বুনো হাঁসদের পায়ের নখের শেষপ্রান্তে একধরনের লোম গজায়, যা তাদের জন্য জুতোর মত কাজ করে।এর ফলে শীতপ্রধান দেশে তুষারের উপর দিয়ে তারা হেঁটে হেঁটে খাবার সংগ্রহ করতে পারে। এমনকি লোম এতো পুরু হয় যে, ভারি তুষারপাতের সময়ও বুনো হাঁসরা উড়ে যেতে পারে। ইঁদুর প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও বেঁচে থাকতে পারে। কারণ তারা বরফের মধ্যে সুড়ঙ্গ তৈরি করে সেখানেই বসবাস করে।তাছাড়া, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি ও র্যাকুন জাতীয় প্রাণীরা আগে ভাগেই বেশী করে খাবার মজুত করে রাখে, যাতে শীতকালে গর্তে ঢুকে বসে বসে খেতে পারে, বাইরে আসতে না হয়। ব্যাঙ, সাপ আর বাদুড় শীত নিদ্রায় থাকাকালীন কিছুই খায় না। দেহের সঞ্চিত চর্বি থেকেই পুষ্টি পায়। ফলে এসময় তাদের বাইরে আসারও প্রয়োজন হয় না। এরমাইন প্রজাতির বেজিদের গায়ের রঙ শীতকালে সাদা হয়ে যায়। এর ফলে তাদের ঠাণ্ডা কম লাগে, কারণ সাদা রঙ তাপ প্রতিফলন করে, শোষণ করে না।



