মাঝারি আকারের ও লম্বা পা যুক্ত, ভীতু স্বভাবের একটি পাখি রঙিলা চ্যাগা। ইংরেজিতে বলা হয় পেইন্টেড স্নাইপ। খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলে এরা
কুনাল ও বৈরাগী চ্যাগা নামেও পরিচিত।
নিরীহ স্বভাবের এ প্রজাতির স্ত্রী পাখি গুলো, পুরুষ পাখির তুলনায় বেশ চঞ্চল ও রঙিন হয়। ধাতব জলপাই সবুজের ওপর, সামান্য হলুদ পালক বিশিষ্ট স্ত্রী পাখিটি দেখতে হয় চমৎকার গড়নের ।
বড় বড় চোখের স্ত্রী রঙিলা পাখিগুলোকে দেখলে মনে হবে, যেন কেউ তার শরীরে নকশা এঁকে দিয়েছে। তবে অসম্ভব সুন্দর এ পাখিটির স্বভাব খুব একটা সুবিধাজনক নয়।
স্ত্রী পাখিরা বহুগামি হয়ে থাকে। এরা নিজের রূপের সৌন্দর্য দিয়েই অন্য পুরুষ পাখিদের আকৃষ্ট করে। বিভিন্ন ফন্দি পাকিয়ে পুরুষদের সাথে ভাব জমায়।
কখনও কখনও অন্য স্ত্রী পাখির কাছ থেকে, পুরুষকে ভাগিয়ে নিয়ে নিজে সংসার পাতে। তবে তাদের এই সংসার ডিম পাড়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে।
ডিম পাড়া হয়ে গেলে কেউ কাউকে আর চিনে না। এমনকি স্ত্রী পাখিগুলো কখনো নিজের ছানাদেরকে দেখতেও আসে না।
অপরদিকে, এ জাতের পুরুষ পাখিরা হয় নিষ্প্রভ, সাদামাটা ও ফ্যাকাশে। কিন্তু স্বভাবে হয় বেশ দায়িত্বশীল। পুরুষ পাখি গুলো একাই পিতামাতা, উভয়ের দায়িত্ব পালন করে থাকে।
প্রজননের সময় এরা মাটির ওপর ঘাস লতাপাতা বিছিয়ে বাসা বানায়। এ সময় স্ত্রী রঙিলা চ্যাগা একাধিক পুরুষ পাখির সাথে সঙ্গম করে।
বর্ষাকালে প্রজননের সময় হলে, স্ত্রী পাখি গুলো পুরুষ পাখির তৈরি বাসায় দুই থেকে চারটি ডিম দেয়। এরপর নতুন পুরুষ পাখির সাথে পালিয়ে যায়।
ঘাস, লতাপাতার উপর পড়ে থাকা হলুদাভ ডিমগুলোকে পুরুষ রঙিলা পাখিই তা দেয়। প্রায় পনেরো থেকে একুশ দিন তা দেওয়ার পর, ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।
ছানা গুলোকে যত্ন সহকারে লালন -পালন করে, বড় করার সব দায়িত্ব পালন করে বাবারা। বাচ্চারা হাঁটতে শিখলেই তাদের সরিয়ে নিরাপদ ঝোপঝাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাবারা নিজের পালকের নিচে ছানাদের লুকিয়ে স্থানান্তর করে থাকে। তারা এক মাস বয়সে উড়তে পারলেও, সম্পূর্ণ স্বাধীন হওয়ার আগে আরও দুই মাস বাবার সাথে থাকে।
পুরুষ রঙিলা চ্যাগা পাখি সবরকমের দায়িত্ব পালন করলেও, ছানা গুলো কখনোই মায়ের আদর কিংবা বুকের উত্তাপ পায় না। মা ছাড়াই এরা পুরা জীবন পার করে ফেলে।
সাধারণত বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে, অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এদের সন্ধান মেলে।
মাঝারি ধরনের রঙিলা চ্যাগা প্রায় নব্বই থেকে দুইশত গ্রাম ওজনের হয়। স্বভাবের ক্ষেত্রে তারা সাধারণত নিশাচর। তবে ভোর ও শেষ বিকালে ঝোপঝাড় ঘেরা জলাশয় ও নদীর পাড়ে শিকারের উদ্দেশ্যে বের হয়।
নিজেদের আড়াল করে রাখতেই এরা বেশি পছন্দ করে। ভয় পেলেই ছুটে পালায়। বর্ষাকালে এদের নদীর পাড় বা জলাশয়ে বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
লম্বা পায়ের এ পাখি গুলো সাধারণত ধান গাছ, ঘাসের কচি ডগা ও পোকামাকড় খায়। একা বা জোড়ায়, কখনো কখনো আবার দল বেধে ঘুরে বেড়ায় রঙিলা চ্যাগা।