অন্যান্য


যে অদ্ভুত প্রক্রিয়ায় নিজের শাবককে দুধ পান করায় মা তিমি।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার

যে অদ্ভুত প্রক্রিয়ায় নিজের শাবককে দুধ পান করায় মা তিমি।

বিশ্বের সবচাইতে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী তিমি। কিন্তু, অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় তিমির দুধ পান করানোর পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা।

কারন, পানিতে বাসবাস করা এই প্রাণী নিজের শাবককে পানীতেই দুধ পান করায়। স্বাভাবিকভাবেই, যা মোটেও সহজ কাজ নয়।

বাচ্চা তিমিদের জন্য মায়ের দুধ পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন, জম্মের পরপরই এরা সাঁতার শিখে গেলেও নিজে শিকার করে খাবার খেতে পারে না।

কিন্তু, সামুদ্রিক পরিবেশে টিকে থাকতে এবং দৈহিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনী পুষ্টি উপাদান পেতে হলে খাবার গ্রহনের বিকল্প নেই।

তাই, জম্মের পর মা তিমি তার সন্তানকে দুধ পান করানোর মাধ্যমে সন্তানের খাবারের চাহিদা মেটায়। যা তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যোগান দেয়।

অদ্ভুত ব্যাপার হলো- মানুষসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীরা যেভাবে মাতৃস্তন থেকে চুষে দুধ পান করতে পারে- তিমি তা পারে না।

কারন, অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মত তাদের ঠোঁট নরম নয়। যার কারনে তারা স্তনবৃন্তকে আকড়ে ধরে দুধ খেতে পারে না।

তাই চুষে খাওয়ানোর পরিবর্তে, মা তিমি তার সন্তানের মূখে দুধ ইনজেক্ট বা নিক্ষেপ করে ঢুকিয়েন দেয়। শরীরের বিশেষ গ্রন্থির সাহায্যে তারা এই কাজ করে থাকে।

এভাবে, মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময়ের মধ্যে মা তার বাচ্চার মূখে  দশ লিটার দুধ নিক্ষেপ করতে পারে।

অন্যদিকে, বাচ্চা তিমি তার জিহ্বাকে কুন্ডলী পাকিয়ে টিউবের মত শেইপ তৈরি করে। যা দিয়ে মা তিমির নিক্ষেপ করা দুধ বাচ্চা তিমি পান করে।

এক্ষেত্রে, বাচ্চা তিমি নিচের জিহ্বাকে এমন ভাবে কুন্ডলী পাকায়, যাতে মা তিমির স্তনবৃন্ত সেখানে ফিট হয়ে আটকে যায়। ফলে, দুধ পান করার সময় তাতে সমুদ্রের পানি মিশে যেতে পারে না।

আবার, তিমির দুধ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মত তরল নয়। এদের দুধ ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশই ফ্যাট সমৃদ্ধ। যার কারনে এর ঘনত্ব অনেক বেশি হয়ে থাকে। যা অনেকটা Toothpaste এর মত।

এর ফলে, এগুলো পানির সাথে মিশে যায় না। বরং, পানির সংস্পর্শে এলেও এগুলো ধলা পাকানো অবস্থায় ভাসতে থাকে।

অতিরিক্ত ফ্যাট সমৃদ্ধ দুধ পান করে বাচ্চা তিমি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান এবং চলাচল করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি লাভ করে থাকে।

পাশাপাশি, সমুদ্রের ঠান্ডা পানিতে শরীর উষ্ণ রাখতে এদের শরীরে পুরু চর্বির স্তর তৈরিতেও ভূমিকা রাখে এটি।

এছাড়াও, হাড়ের বৃদ্ধির এবং শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করে- দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যবান এবং পূর্ণবয়স্ক হয়ে উঠে সাহায্য করে।

প্রজাতি ভেদে একেক জাতের তিমির দুধ পানের পরিমান ও দুধ পানের বয়স ভিন্ন হয়ে থাকে।

স্পার্ম তিমি এবং হামপ্যাক তিমিরা দিনে প্রায় পাঁচশো লিটারের মত দুধ পান করে থাকে। অন্যদিকে নীল তিমিদের ক্ষেত্রে যার পরিমান দুইশো লিটার।

অতিরিক্ত ফ্যাট সমৃদ্ধ দুধ পান করার ফলে একেকটি তিমি শাবকের ওজন একদিনে প্রায় একশো কেজি পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রজাতি ভেদে মা তিমি, সাত মাস থেকে বিশ মাস পর্যন্ত সন্তানকে দুধ পান করায়। এই সময়ের মধ্যেই একটি বাচ্চা তিমি খাবার শিকার করা আয়ত্ব করে নেয়। এবং একা একাই সমুদ্রে চলাচল করার উপযুক্ত হয়ে ওঠে।



জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।