শীত কতোটা সাংঘাতিক রূপ দেখাতে পারে তা এবার টের পাচ্ছে চীন। দেশটির একটি শহরের ঠান্ডা তাপমাত্রা আগের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে।
শীতে অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে, ডিম ভাঙ্গার পর মুহুর্তেই ডিমও পরিনত হয়ে যাচ্ছে শীতল বরফে।
বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শীতের জন্য বিখ্যাত ইউরোপ এবং এন্টার্কটিকা মহাদেশ। এশিয়ার অনেক দেশে তুষারপাত হলেও ইউরোপের সাথে তুলনা করতে রাজি হন না অনেকে।
তবে চীনের এই শহর সকল ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে।
ভয়ংকর শীতের এই শহরটির নাম 'মোহে'। এটি চীনের একদম উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। গত সপ্তাহে মোহে শহরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মাইনাস 53 ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
এতো কম তাপমাত্রার কারনে পুরো শহরটিই বিশাল এক ডীপ ফ্রিজে পরিনত হয়েছে।
সাধারণত ডীপ ফ্রিজের তাপমাত্রা হয়ে থাকে মাইনাস 18 ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই হিসাবে চীনের মোহে শহরের তাপমাত্রা- ডীপ ফ্রিজ থেকেও তিনগুণ বেশি ঠান্ডা।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঠান্ডার জন্য রাশিয়ার বিভিন্ন জায়গা পরিচিত। চীনের এই শহরটিও রাশিয়ার সীমান্তে অবস্থিত। মোহে নামের এই শহরকে শীতের জন্য ডাকা হয় চীনের উত্তর মেরু নামে।
প্রতিবছরই ভয়ংকর ঠান্ডার শিকার হয় এখানের অধিবাসীরা। তবে এবার সকল রেকর্ড ভেঙ্গে গেছে। এর আগে সর্বোচ্চ মাইনাস 52.3 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিলো এখানে, সেটি আরো পঞ্চাশ বছর আগে কথা।
চীনের সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মোহে শহর অত্যধিক ঠান্ডার জন্য পরিচিত। বছরের ১২ মাসের মধ্যে ৮ মাসই ভয়ঙ্কর শীতল তাপমাত্রা বিরাজ করা এখানে।
এ কারণে চীনের সবচেয়ে শীতল শহর হিসেবে পরিচিত এই মোহে শহর।
বরফ জমা শীতের কারণে চীনের এই শহর পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে রয়েছে তুষার পার্ক, স্কি ডাইভিং সহ বিভিন্ন রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের সুযোগ সুবিধা।
এছাড়া প্রতিবছর শীতকালীন ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এখানে। সবমিলিয়ে রোমাঞ্চ প্রিয় মানুষের কাছে মোহে শহর খুবই আকর্ষণীয়। শীতকালে এখানে পাড়ি জমান হাজার হাজার পর্যটক।
সাধারণত শীতল থাকলেও এতো বেশি ঠান্ডা খুব কমই দেখা যায়। বছরের এই সময়টা তে এখানে গড় তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ফিফটিন ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কিন্তু এবার গড় তাপমাত্রার চেয়েও তিনগুণ কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
গত সপ্তাহেই এজন্য সতর্ক করেছিল স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর। তারা জানিয়েছিল, মোহে শহরের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে নেমে যেতে পারে।
এই সতর্কবাণী বাস্তবায়ন হয় গত শুক্রবার, সেদিন থেকে টানা তিন দিন শহরটির তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ফিফটি ডিগ্রি থেকেও কম। এমন ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে দেশটির গণমাধ্যম।
এর ফলে মারাত্মক অসুবিধায় পড়েছেন শহরটির অধিবাসীরা। ঘরের বাইরে বের হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শরীর অসাড় হয়ে যাচ্ছে।
ঘন কুয়াশা এবং তুষারপাতের অস্পষ্ট হয়ে আছে সবকিছু। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ১০০ মিটার দূরে থাকা কাউকেও স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে না।
এর মধ্যে অভিনব এক কাণ্ড করেছেন দেশটির একজন সাংবাদিক। যার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
ভিডিওতে দেখা যায় ক্যামেরার সামনে একটি ডিম ভাঙ্গেন সেই সাংবাদিক, এরপর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ডিমটি জমে বরফ হয়ে যায়।
এদিকে ভয়ঙ্কর ঠান্ডা তাপমাত্রাতেও নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে শহর কর্তৃপক্ষ। তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়াতেও বাইরে কাজ করছেন শহরটির পুলিশ, সেনা এবং অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা।
এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।
প্রিয় দর্শক, চীনের এই শহরটির তাপমাত্রা ছিলো ডিপ ফ্রিজ থেকেও তিনগুন ঠান্ডা। চীনের মতো কখনো বাংলাদেশে এমন শীত পড়লে অবস্থা কেমন দাঁড়াতো বলে মনে করেন? জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে।