ঢাকা শহরের যানজটে আটকা পড়ে অতিষ্ঠ হননি, এমন নগরবাসী হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে বিশ্বে এমন কিছু শহর আছে, যেখানে ট্রাফিক জ্যামের ভয়াবহতা ছাড়িয়ে গিয়েছে রাজধানী ঢাকাকে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল তেমনই একটি স্থান। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক জ্যাম রয়েছে এখানে। পুরো ইউরোপ মহাদেশ জুড়ে, ইস্তাম্বুলের মতো ট্রাফিক জ্যাম কোথাও দেখা যায় না।
সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার রাস্তাঘাটে যানজটের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলে ৩০ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিতে গড়ে ৪৯ মিনিট সময় প্রয়োজন হয়।
তুরস্ক সরকার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে শহরের যানজট কমানোর। যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তীব্র যানজটের কারণে প্রতিদিন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শহরের সাধারণ মানুষ। এছাড়া মালামাল পরিবহন ও শিপমেন্ট এর ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো আরেকটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর।
তাই মস্কোতেও যানজট সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
মস্কোর সড়ক ব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করা হলেও, শহরটি এখনও ট্র্যাফিক জ্যামের দিক দিয়ে, অন্যান্য ইউরোপীয় রাজধানীগুলোর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
এখানে যেকোনো ভ্রমণের ক্ষেত্রে, স্বাভাবিকের চেয়ে ৫৯ শতাংশ বেশি সময় প্রয়োজন হয়। মূলত ১১৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মস্কো শহরের কাঠামো, আধুনিক যান চলাচলের জন্য মানানসই নয়।
এজন্যই রাশিয়ার বৃহত্তম শহরটির রাস্তায় গাড়িগুলোকে থেমে থাকতে হয়। ফলে মূল্যবান সময় এবং জ্বালানির অপচয় নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার আগ্রাসনের শিকার ইউক্রেনেও রয়েছে ট্র্যাাফিক জ্যামের উপস্থিতি। বিশেষ করে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে, এই সমস্যার মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে বিশ্বের অধিকাংশ শহরকে।
২০২১ সালে কিয়েভে যানজটের মাত্রা ছিল ৫৬ ভাগ; এই হার ২০১৯ ও ২০২০ সালের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে এখানকার পরিবহন ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে।
ইউক্রেনের নাগরিকরা নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচল করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এজন্যই দেশটির রাজধানীতে জ্যামের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে আশঙ্কাজনক ভাবে।
সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ গাড়ির জন্য নকশা করা হলেও, কিয়েভের রাস্তায় প্রায় দশ লক্ষ গাড়ি দেখা যায়। অন্যান্য ইউরোপীয় অঞ্চলগুলোর তুলনায়, ইউক্রেনের কাছে পর্যাপ্ত রোড বা পাতাল রেল স্টেশন নেই।
এছাড়া মানসম্পন্ন গনপরিবহনের পরিবর্তে, নিম্ন মানের মিনিবাসের প্রচলন রয়েছে। এসব কারণে যানজট সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে পারছে না ইউক্রেন।
ট্র্যাফিক জ্যামের মাত্রা বিবেচনায়, চতুর্থ স্থানে থাকা শহর Bogota। এটি লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী এবং গুরুত্বপূর্ণ শহর।
চিত্রকলা এবং জাদুঘরের জন্য পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত Bogota; সেই সাথে যানজটের সমস্যার জন্যও আলোচিত এই শহর।
২০২১ সালের হিসেব অনুযায়ী, ট্র্যাফিক জ্যামের জন্য এখানকার একজন যাত্রীর, গড়ে ১২৬ ঘন্টা সময় নষ্ট হয়।
পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার মূল কারণ, এখানে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। তাই রাস্তায় জ্যামে বসে সময় কাটানো, শহরের বাসিন্দাদের কাছে নিয়মিত ঘটনা।
বর্তমানে শহরে যানজট সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই সড়কের উপরে ও আশপাশে চলছে অবকাঠামোগত কাজ। যদিও এসব নির্মাণ কাজের ফলে, যানজট আরো প্রকট হয়ে উঠেছে।
ভারতের মুম্বাই পৃথিবীর আরেকটি যানজট সমস্যাযুক্ত শহর। ২০২১ সালে এই শহরে ট্র্যাফিক জ্যামের হার ছিল ৫৩ শতাংশ।
এখানকার স্থানীয় ট্রেনগুলোতে, স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এজন্যই বাসিন্দাদের অধিকাংশ যাতায়াতের জন্য মূল সড়ক ব্যবহার করেন।
এর ফলে গাড়ির চাপ প্রত্যাশার চেয়ে বেড়ে গিয়েছে। মুম্বাই ছাড়াও ভারতের বেঙ্গালুরু এবং নয়াদিল্লিতে জ্যামের হার অত্যন্ত বেশি।