মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মদ বিক্রি হয় দুবাইয়ে। এখানকার আয়ের একটি বড় অংশ আসে মদ বিক্রি থেকে।
এখন পর্যটকদের জন্য মদ কেনা আরও সহজ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম শহরটি।
মদের ওপর বাতিল করা হয়েছে ৩০ শতাংশ ভ্যাট। এ ছাড়া, বাতিল করা হয়েছে ব্যক্তিগত বারের লাইসেন্স ফিও।
মুসলিম দেশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া সত্যিই অকল্পনীয়। কিন্তু দুবাই প্রশাসন এ বিষয়টিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
দুবাইয়ে বুর্জ খলিফার পাশাপাশি রয়েছে বিলাসবহুল সাত তারকা হোটেল বুর্জ আল আরব। এছাড়াও পারস্য উপসাগর তীরে অনেক রিসোর্ট রয়েছে।
বিলাসবহুল এক একটি রিসোর্টের
রাজকীয় অন্দরসজ্জা, ইন্টেরিয়র ডিজাইন সারাবিশ্বের পর্যটকদের কাছে টানে।
দুবাই শহরটি উপসাগরীয়দের কাছে 'পার্টি ক্যাপিটাল' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে প্রবাসীদের সংখ্যা স্থানীয় নাগরিকদের চেয়ে বেশি।
বিনোদনের জন্য যাওয়া ধনী প্রবাসীরা, প্রচুর পরিমাণে মদ কিনে থাকেন। আগে মদ কেনা ও খাওয়ার জন্য হোটেল বা রেস্টুরেন্টে যেতে হতো তাদের।
কিন্তু নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে খুচরা দোকান থেকে মদ কেনার অনুমতি দিয়েছে দুবাই। এখন মদ পাওয়ার বিষয়টি খুবই সহজলভ্য হয়ে গেছে বিদেশীদের কাছে।
কিন্তু এর জন্য কিছু আনুষ্ঠানিকতা প্রয়োজন। পর্যটকরা সহজেই পেয়ে যাবেন লাইসেন্স। তবে এই লাইসেন্সের জন্য কোনও ফি দিতে হবে না তাদের।
দুবাইয়ে মদ বিক্রির অনুমতি পাওয়া দোকান থেকেই এই লাইসেন্স নেয়া যাবে। এর জন্য আবেদন করতে হবে এবং এ সময় তাদের পাসপোর্ট দেখাতে হবে।
এই লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে ৩০ দিন। তবে কেউ যদি দুবাইয়ে এর চেয়েও বেশি দিন থাকতে চান, সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়াতে পারবে।
লাইসেন্স পাওয়ার পর ,একটি ফরম পূরণ করতে হবে। তারা যে আরব আমিরাতের বাসিন্দা নন, এবং মদ কেনা ও পানের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলবেন, সেই মর্মে একটি অফিসিয়াল ছাড়পত্রে স্বাক্ষর করতে হবে।
২১ বছরের বেশি যেকোনো অমুসলিম পর্যটকের ক্ষেত্রেই নতুন এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এর আগে,, করোনার কারণে দুবাইয়ের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিলে মদের হোম ডেলিভারির অনুমতি দিয়েছিল দুবাই প্রশাসন। তখন আয় বাড়ানোর একমাত্র ভরসা ছিল মদ।
গ্রাহকদের বাড়িতে বিয়ার বা ওয়াইন পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছিল দুটি কোম্পানিকে।
কোম্পানি দুটি হলো, দুবাই মেরিটাইম ও মার্কেন্টাইল ইন্টারন্যাশনাল এবং আফ্রিকান অ্যান্ড ইস্টার্ন।
রমজান মাসেও দিনের বেলায় মদ বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল দুবাই নগর কর্তৃপক্ষ।
তবে এই সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল না। পর্যটক ও বিদেশি শ্রমিকরাই একমাত্র অনলাইনে মদ কেনার সুযোগ পেয়েছিলেন।
বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টই ছিল যথেষ্ট। তবে বিদেশি শ্রমিকদের সরকারি লাইসেন্স নিতে হতো।
সর্বশেষ মদের ওপর করের হার কমানোর এই পদক্ষেপ শহরটিকে বিদেশিদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উদারনৈতিক জীবনধারা ও সহনশীলতার কারণে, ঐতিহাসিক ভাবে দুবাই বেশি পর্যটক এবং ধনী বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা যায়।