ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত কথিত ধর্ম গুরু, “রাম রহিম” প্যারোলে মুক্তি পেয়েই আবারো শুরু করেছেন, আয়েশী জীবনযাপন।
ভক্ত ও অনুসারীদের নিয়ে করছেন, আনন্দ-উল্লাস আর পার্টি।
এক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, পালিত কন্যা হানিপ্রীতর ইন্সটাগ্রামে, দশ লক্ষ অনুসারীর মাইলফলক অর্জন করায়, হানিপ্রীত ও রাম রহিম মিলে কেক কাটছেন।
যদিও রাম-রহিমের বিরুদ্ধে, তাঁর পালিত কন্যাকেই ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর সাবেক গাড়ি চালক খাট্টা সিং।
ভিডিও চিত্রে আরো দেখা যায়, রাম-রহিমের হাতে এক বিশাল তলোয়ার, যা দিয়ে তিনি কেকটি কাটছেন। এ যেন তাঁর ক্ষমতা ও ঔধ্যত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে, হত্যা ও ধর্ষণের দায়ী কারাদন্ড প্রাপ্ত এ আসামীর, এমন রাজকীয় জীবনযাপন যেন মানতেই পারছেন না সমালোচকেরা।
এসব ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন ,একজন দাগী আসামীকে কেন কর্তৃপক্ষ এতো ঘন ঘন মুক্তি দিচ্ছে?
অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, তাঁর এতো ঘন ঘন মুক্তি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
শিখধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ সংগঠন, “শিরোমণি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটি” রাম রহিমের এতো ঘন ঘন মুক্তির বিরুদ্ধে, একটি পিটিশনও গঠন করেছে।
যেখানে সংগঠনটি দাবি করছে, কারাগারের বাইরের রাম রহিমের উপস্থিতি, ‘সমাজের জন্য ক্ষতিকর, এটি সমাজের মাঝে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে’।
যাবত-জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত এই কথিত ধর্ম গুরু, গত ১৩ মাসে ১৩১ দিন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কারাগারের বাইরে ছিলেন।
২০২২ সালের শুরুতে, একবার ২১ দিনের জন্য মুক্তি পান তিনি, পরে আবার বছরের মাঝামাঝি এসে দুইবার মুক্তি পান, আর সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসে, ৪০ দিনের জন্য মুক্তি পান।
এতো ঘন ঘন মুক্তি যেন, তাঁর জন্য আয়েশী ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর প্যারোলে মুক্তি পেয়েই- আনন্দ-উল্লাস, ভক্তদের সাথে বৈঠক, ভ্রমণ তো আছেই।
তবে রাম রহিমের ভক্তকূল বলছে, “প্যারোল” বন্দীদের অধিকার, এটি মানবাধিকার।
তিনি কারাগারে ভালো কাজ করছেন, আত্নশুদ্ধি চালাচ্ছেন, বন্দিদের মাঝে আধ্যাত্মিক বক্তব্য দিচ্ছেন বলেই, এতো ঘন ঘন মুক্তি পাচ্ছেন। এতে দোষের কিছু হয় নি, বরং এটি তাঁর অধিকার।
এ ছাড়াও ভক্তদের দাবি, মুক্তি পেয়েও রাম রহিম মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য, কঠোর পরিশ্রম করছেন, আসক্তি মুক্ত করার কর্মসূচিতে কাজ করছেন।
প্রতিদিন এক লাখ মানুষ রাম রহিমের কারণেই, মাদক ছেড়ে দিচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তাঁর ভক্তরা।
কথিত এই ভারতীয় ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০০২ সালে হরিয়ানা প্রদেশের সিরসা জেলায়,
“ডেরা সচ সউদায়” নামক এক আস্তানায়, নারী ভক্তদের নিয়ে গিয়ে, প্রায় দুই হাজারের বেশি নারীকে ধর্ষণ করেছিলেন।
পুলিশ তাঁর ওই আস্তানায় অভিযান চালিয়ে, প্রাসাদ চত্বরের সুইমিং পুলের নিচে “সেক্সকেভ বা যৌনগুহার” খোঁজ পেয়েছিলো।
এ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ কনডম ও জন্মনিরোধক ওষুধও জব্দ করেছিল পুলিশ।
তাঁর এই কু-কর্মের কথা ফাঁস করে দেন তারই এক অনুরাগী, সাধু রঞ্জিত ও স্থানীয় সাংবাদিক রামচন্দ্র ছত্রপতি।
এসব কু-কর্মের কথা ফাঁস করে দেওয়ায়, রাম রহিম পরবর্তীতে এ দুজনকেই হত্যা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ থাকলেও, কেউ তাঁর কিছু করতে পারতো না, কারণ তিনি বেশ প্রভাবশালী ছিলেন।
রাজনৈতিকভাবেও তিনি সরকারিদল ও বিরোধীদলের থেকেও সুবিধা নিতেন।
২০১৪ সালে হরিয়ানা রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে, তিনি অনুসারীদের বিজেপিকে ভোট দিতে অনুরোধ করেছিলেন। সে বছর এই রাজ্যে বিজেপি জয় পেয়েছিল।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট, এই ধর্ম গুরুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনে দুই নারী। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দুটি মামলায়, ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন সিবিআই আদালত।
এদিকে বিরোধী দলগুলো, রাম রহিমেকে বারবার প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার পেছনে, বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করছে।
তবে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, রাম রহিমকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে, বিজেপি বা তাঁর সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।