অনলাইনেই পাঠানো যাবে চুমু! প্রিয়জন যত দূরেই থাকুক তার কাছে পৌঁছে যাবে সেটি। তাও আবার ইমোজি নয়!
একদম আসল চুমুর স্বাদ পাঠানো যাবে ,এমনই এক বিশেষ চুম্বন যন্ত্র, আবিষ্কার করেছে চীন।সিলিকনের তৈরি, মানুষের ঠোঁটের আকৃতির, বিশেষ এই যান্ত্রিক ঠোঁটজোড়া প্রদান করবে, প্রিয়জনের ঠোঁটে, ঠোঁট ছোঁয়ানোর অনুভূতি।বিশেষ এই চুম্বন যন্ত্রে রয়েছে, প্রেসার সেন্সর ও অ্যাকুরেটরস। যা ব্যবহারকারীকে একেবারে আসল ঠোঁটের মতই, স্পর্শ দিতে পারবে যন্ত্রটি।
শুধু তাই নয়, চুম্বনের সময় ঠোঁটের যে উষ্ণতা, নড়াচড়া বা চাপ অনুভূত হয়, সেই অনুভূতিও এই চুম্বন যন্ত্রের মাধ্যমে, অবিকল একইভাবে পাওয়া যাবে।
পাশাপাশি চুম্বনের ফলে সৃষ্ট শব্দও, তৈরি করতে পারবে এ যন্ত্রটি।
এটি ব্যবহার করে, চাইলেই দূরত্ব বজায় রেখে, সুরক্ষিত বলয়ের মধ্যে থেকে, অচেনা যেকোনো ব্যক্তিকে, চুমু দিতে পারবেন ব্যবহারকারী।
যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছে, চীনের “চ্যাংঝু ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট অব মেকাট্রনিক টেকনোলজি”।
মূলত, লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপে থাকা ব্যাক্তিদের জন্য, বানানো হয়েছে বিশেষ এই যন্ত্র।
এর প্রধান আবিষ্কারক জিয়াং ঝংলি।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায়, নিজের প্রেমিকার সঙ্গে লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপে ছিলেন তিনি। ফলে তাদের তেমন দেখা হতো না।বেশিরভাগ সময়ই যোগাযোগ হতো ফোনে। সেখান থেকেই, বিশেষ এই চুম্বন যন্ত্র আবিষ্কারের আইডিয়া মাথায় আসে তার।
যেটাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে, এক প্রকার হইচই ফেলে দিয়েছেন তিনি।
বিশেষ এই যন্ত্রের মাধ্যমে চুমু পাঠানোর জন্য, ব্যবহারকারীকে ফোনে একটি অ্যাপস ডাউনলোড করে নিতে হবে।
এরপর USB পোর্টের মাধ্যমে, যন্ত্রটি ফোনের সাথে যুক্ত করে নিতে হবে।অ্যাপ ব্যবহার করে সঙ্গীর সঙ্গে ভিড়িও কলে যুক্ত হয়ে, ওই যন্ত্রে মূখ লাগিয়ে, চুম্বন করার মতো ভঙ্গি করলেই, চুমু পৌঁছে যাবে অপর প্রান্তে থাকার সঙ্গীর কাছে।এমনকি, ব্যবহারকারী চাইলে নিজের চুমু, অ্যাপে আপলোড করেও রাখতে পারেন।ফলে অন্যরা অনলাইনে থেকে তা ডাউনলোড করে, অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।ইতোমধ্যেই বাজারজাত শুরু হয়েছে বিশেষ এই চুম্বন যন্ত্রের। মাত্র ৪১ ডলারেই পাওয়া যাচ্ছে এটি। অফলাইন অনলাইন দুই ভাবে কিনতে পারবেন আগ্রহীরা।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে, যন্ত্রটি ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুলোতে, এই চুম্বন যন্ত্রটিকে নিয়ে গত সপ্তাহে, কয়েক মিলিয়ন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে।
নেটিজেনরা ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই ব্যাক্ত করছেন এটি সম্পর্কে।কারো কারো কাছে যন্ত্রটি মজার, আবার কেউ কেউ এটিকে অশ্লীল ও উদ্ভট বলেও দাবি করছেন।মজার ব্যাপার হলো, এমন যন্ত্র কিনতু এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালে ,মালয়েশিয়ার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটও, এমন একটি চুম্বন যন্ত্র তৈরি করেছিলো। যন্ত্রটির নাম দেয়া হয়েছিলো কিসিংগার।
তবে সেটি ছিলো, একটি স্পর্শ সংবেদনশীল সিলিকন প্যাড।।
যেটিতে, বাস্তবে চুমু দেয়ার স্বাদ পাওয়া যেতো না, যা চীনের তৈরি যন্ত্রটিতে সহজেই পাওয়া যাবে।
প্রচলিত রয়েছে, প্রযুক্তি মানুষের মাঝে দূরুত্ব কমিয়ে আনছে, বাড়িয়ে দিচ্ছে অনুভূতি প্রকাশের মাত্রা।বিশেষ এই চুম্বন যন্ত্রটি, যেন তারই সর্বশেষ উদাহরণ।
যা পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের অবস্থান করা, দুই ব্যাক্তির দূরুত্ব কমিয়ে, অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ তৈরি করছে।